কী ভেবেছিলাম আর কী হল!
হ্যাঁ। সম্পর্কের মধ্যকার হিডেন এক্সপেক্টেশন বা অগ্রিম ধারণার মধ্যে সবচেয়ে প্যাঁচালো অবস্থা এটি। মানুষ নাটক নভেল পড়ে বা অন্যদের সাথে তুলনা করে মনে মনে নিজে সুখী হওয়ার কিছু ক্রাইটেরিয়া দাড় করিয়ে ফেলে। ঐ বান্ধবীর স্বামী তার জন্য প্রতিদিন ফুল নিয়ে আসে, আমার স্বামী আনেনা - আমি কত দুঃখী! সবার ফ্ল্যাটবাড়ি হয়ে গেল, আমার কুলাঙ্গার সন্তান এখনও মাথাগোঁজার একটা ঠাঁই করে দিল না - আমার মত অভাগা কয়টা আছে? মজাটা হচ্ছে, এ ধরণের দুঃখবোধে যারা জর্জরিত হয়, তারা সবসময় নিজেরাও ঠিক নিশ্চিত হতে পারে না, ঠিক কোন কাজগুলি আসলেই তাকে সুখী করে, আর কোন কাজগুলি অন্যের সাথে গল্প করার পর তাকে সুখ দেয়। এমনকি অনেক সময় চাওয়াগুলি পুরোপুরি স্পষ্টও থাকেনা। একটা কী যেন নাই, কী যেন নাই ভাব, কিন্তু কী তা জানা নেই।
তবে সবারই হয়ত কোন না কোন খুব গোপন শখ থাকে, যেটা পূরণ হলে হয়ত তার চেয়ে বেশি খুশি আর কেউ হবে না। এ ধরণের চাওয়াগুলি সে বলতে পছন্দ করে না। কারণ বললে মনে হয় যেন এই চাওয়ার রহস্যাবৃত সৌন্দর্যটা মলিন হয়ে যাবে। তবুও, এই চাওয়াগুলি মনের এমন একটা দিক - যা নিয়ে বেশি মাথা না ঘামানোই ভাল। কারণ এখানে যেহেতু অনেক বেশি অস্পষ্টতা আছে - এই এক্সপেক্টেশনের সাথে জড়িয়ে একপক্ষের মনে এমন অনেক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে, অপরপক্ষ হয়ত যার থই ও পাবে না। এ ধরণের না বলা গোপন আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরিই অপ্রয়োজনীয় হিসেবে তুলে রাখা উচিৎ। পেলে খুবই ভাল, তবে না পেলে তা নিয়ে যেন এক কণা দুঃখও না থাকে।
শয়তান মানুষের এই হিডেন এক্সপেক্টেশনের হা হুতাশে সবচেয়ে বেশি প্রভাব রাখে। কারণ এখানে যুক্তিহীন আবেগ, বাস্তববোধহীন আকাঙ্ক্ষার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে, যা প্রায়শঃই হতাশায় রূপ নেয়। এই অবাস্তব না পাওয়ার দুঃখ অনেক বাস্তব কাজের এপ্রিসিয়েশন কে মলিন করে দেয়। এতে করে পরস্পরের মধ্যে শ্রদ্ধার অভাব তৈরি হয়।
মানুষ তাদের সম্পর্কের মধ্যকার সমস্যাগুলোকে যেন আরেকটু যুক্তিবাদী দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করতে পারে সেই আশায়ই লেখা। এভাবে দেখলে আশা করি দুই পক্ষের কার কোথায় নিজেকে শোধরানোর সুযোগ আছে তা সহজে বুঝতে পারবে।
No comments:
Post a Comment