আচ্ছা, আমাদের সৃষ্টিই আল্লাহর ইবাদতের জন্য। আমাদের জ্ঞান বুদ্ধি দেয়া হয়েছে যাতে তা চর্চা করে আমরা আল্লাহর নিদর্শনগুলি আরো ভাল বুঝতে পারি। প্রশ্ন, ক্রিয়েটিভিটি তাহলে কেন দেয়া হয়েছে? পেইন্টিং, মিউজিক, ছন্দ - এই জিনিসগুলি এপ্রিসিয়েট করার মত এতখানি ক্ষমতা দিয়ে তাহলে্ আমরা কী করব?
এর একটা উত্তর হতে পারে আমাদের সৃষ্টিশীলতা সেখানেই ব্যবহার করা যাবে যেখানে আল্লাহর নির্দেশিত পন্থায় আল্লাহর পছন্দসই কাজগুলো করা যায় (যেমন মিউজিক এর ক্ষেত্রে নাশীদ, ছবি আঁকার ক্ষেত্রে জীবন্ত প্রতিকৃতি বাদে যে কোন কিছু।) কিন্তু এরকম ক্ষেত্র ত খুব কম! ক্রিয়েটিভিটির কি কোন শেষ আছে? আমাদের ইউনিভার্সিটি কমনস এ গোটা কতক ছেলে হিপহপ ড্যান্স প্র্যাকটিস করে অনেক রাত পর্যন্ত। এদের কাজকর্ম দেখলে অবাক লাগে! এত আজব অঙ্গভঙ্গি মানুষের মাথায় আসে? ফিল্ম মেকিং এর কথা চিন্তা কর - প্রতিটা সিনের কোথায় খুঁটিনাটি কী হবে - এত ছোটছোট বিষয় জোড়া লাগিয়ে চমৎকার মুভি তৈরি হয় - এটা কি কম শৈল্পিক? ড্রেস ডিজাইন বল, ইন্টেরিয়র ডিজাইন বল - কোনটার চেয়ে কোনটা কম সুন্দর?
আমার প্রশ্ন এখানেই। শিল্প, রচনা - এই কাজগুলি অনেক অনেক বেশি সুন্দর। এই বোধটা স্বর্গীয় না হয়ে পারেনা। তাহলে ক্রিয়েটিভিটি ব্যাপারটা কুরআনে ততটা উৎসাহিত করা হয়নি কেন? চিন্তা বা ইন্টেলেক্ট যেমন আমাদের প্রতি আল্লাহর স্পেশাল দয়ার একটি, সৃষ্টির বোধটাও ত তাই। কুরআনে কতশত বার বলা হয়েছে, 'তারা কেন চিন্তা করে দেখেনা?' - কই! আমাদেরকে ত এই ক্রিয়েটিভিটির ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি!
রাসুলুল্লাহ (স) এর সময়ে যেসব কবি ছিল (কাহিন) তাদের তিনি একদমই পছন্দ করতেন না। কেন? তারা মানুষের বন্দনা গাইত বলে? তারা জ্বীনের আসর আছে দাবি করত বলে? নাকি তাদের সৃষ্টির এক গুণ ছিল এটাই অপছন্দ করত? কিন্তু তা ত হওয়ার কথা না! সৃষ্টির ক্ষমতা পুরোপুরি আল্লাহর দেয়া একটা স্পেশাল ব্লেসিং। আমি কপালগুণে লেখালেখির গুণটা পেলাম, তাই আমি ওটা চালিয়ে যাব, আর কেউ প্রশংসা করলে আলহামদুলিল্লাহ বলে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাব - আর যে বেচারির পায়ে পায়ে ছন্দ ঘোরে সে কোনদিন তার চর্চা করতে পারবেনা - এটা কেমন হল? এ আর রেহমান কে মানুষ বলে গড গিফটেড ট্যালেন্ট। আল্লাহর এই গিফট টা তাহলে কিসের জন্য দেয়া? এর চর্চা কি তাকে বা অন্য কাউকে আল্লাহর কাছে নিয়ে আসছে?
আমার এই লেখা কোন স্টেটমেন্ট দেয়ার উদ্দেশ্যে লেখা না। আমি জানতে চাই। কারণ আল্লাহর দেয়া কোন নিয়ামত কে আমি অজ্ঞানতাবশত অস্বীকার করতে চাইনা। আল্লাহ আমাকে একটা নিয়ামত দিল, সারাজীবন জুজুর ভয়ে ওটাকে ঢেকে রাখলাম - তাতে করে কি আল্লাহর সম্মান বাড়ল? আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাকে একটা সুস্থ সবল মানুষ বানিয়েছে, পড়াশুনা, পরিবার, দিক নির্দেশনা দিয়েছে - এই দয়ার ভারেই আমি ন্যুব্জ। তার ওপর আরো দয়া, আরো, আরো - চোখে অন্ধকার দেখি, ভয় লাগে, আমি কি আসলে জানি আল্লাহ আমার থেকে কী চাচ্ছে? আল্লাহর সব ব্লেসিং কে যখন পাজল এর মত জোড়া লাগাই, ক্রিয়েটিভিটির জায়গায় এসে কেমন যেন থমকে যাই। সবাই বলে ওটাকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে, অথবা কেটেকুটে ছোট্ট একটা মনমত টুকরো বানিয়ে তারপর বসাতে। সত্যি কি তাই হওয়ার কথা? আল্লাহ! তুমি কোনদিন এমন হয়নাই যে আমি কিছু জানতে চেয়েছি আর তুমি জানাওনাই। এই স্বগতোক্তিমূলক নোটটা নিজের ডায়রিতে না লিখে পোস্ট করার উদ্দেশ্য এটাই, তুমি আবারো তোমার আলো দিয়ে আমার অন্ধকার দূর করে দেবে।
No comments:
Post a Comment