Monday, June 27, 2011

সম্পর্কের টানাপোড়েন - ২


একটা সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা আসলে আমরা বিভিন্নভাবে রিঅ্যাক্ট করি। 

১. অপরপক্ষ যখন একটা অন্যায় করে তখন বেশিরভাগ মানুষই আত্মসম্মান ঠিক রাখার জন্য ডিফেন্সিভ মোডে চলে যায়। ব্যাপারটা খুব সহজ, "তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ, আমি এটা ডিজার্ভ করিনা। আর তুমিও আমার ভালবাসা, আমার কেয়ার পাওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছ। অতএব এখন থেকে তুমি আমার সাথে যেমন, আমিও তেমন হব। কারণ তুমি নিজেই আমার এই অসন্তুষ্টি অর্জন করেছ।" 

এই দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে কোন দোষ নাই। যে কোন প্র্যাকটিক্যাল মানুষই এই অ্যাপ্রোচ নেবে। এতে সুবিধাও আছে। এখন থেকে তার প্রতি আগের চেয়ে কম যত্ন নিলেও হবে। ইগো হার্ট হওয়ার রিস্কটাও নিতে হবে কম। আবার তার প্রতি কর্তব্যে ঢিল দেয়ার দায়টাও আমার ঘাড়ে না, আগেই যুক্তি দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছি যে আমার এই উদাসীনতা তোমারই কারণে, দোষ আমার, কিন্তু দোষী তুমি। 

এই ব্যাপারে আমার বলার কিছু নাই। এটা এখনকার পপুলার অ্যাপ্রোচ। এর ভাল দিক সবাই দেখতে পায় যখন সে নিজে এটা ব্যবহার করে, আর তার উপরে দেখানো হলে আর মানতে পারেনা। আর এভাবে আসলে প্রতিটা মানুষ নিজের চারপাশে একটা ডিফেন্সিভ শিল্ড নিয়ে রাখলে সেখানে সত্যিকারের কোন সম্পর্ক থাকেনা। ব্যাপারটা একটা যুদ্ধ, একটা কূটনৈতিক সম্পর্ক হয়ে যায়। (বিশ্বাস করুন, আমাকে অনেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে, বিয়ে নাকি পুরোপুরিই কূটনীতি, এই সম্পর্ক ভালবাসা না, দেনাপাওনার কড়া হিসাবের উপরে টিকে থাকে!) 

২. দ্বিতীয় অ্যাপ্রোচ হচ্ছে কচ্ছপ অ্যাপ্রোচ। তুমি আমাকে কষ্ট দিয়েছ, আমি কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু আমি তোমাকে এতই ভালবাসি যে আমি তোমাকে উল্টো আঘাত করবনা। চুপ করে সহ্য করব, নিজের মধ্যে গুটিয়ে থাকব, তারপর একটা সময় ভুলে আবার আগের মতই ভালবাসব। 

এটাও খুব ভাল। খুব কম মানুষই ভালবাসার জোরে অন্যায় কে উপেক্ষা করে ক্ষমা করে দিতে পারে। কিন্তু এটা ভাল তখনই, যখন অপরপক্ষ জানে যে সে যা করছে সেটা অন্যায় করেছে। তখন এই ওভারলুক করা ওকে নিজের মত অনুতপ্ত হওয়ার স্পেস দিবে। ঐ মানুষটার মহানুভবতা দেখে আরো ভালভাবে তার কাছে ফিরে আসবে। 

কিন্তু যে ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই মনে করছে যে সে ঠিক, সেখানে এই অ্যাপ্রোচ কিন্তু কাজে আসেনা। সম্পর্ক একটা সিঁড়ির মত। এটাকে প্রতি ধাপে ধাপে তৈরি করতে হয়, মজবুত করতে হয়। কচ্ছপ হয়ে গেলে কিছুদিনের জন্য এই কাজটা বন্ধ থাকে। কিন্তু এই ক্ষমা, নীরবতা যদি অপরপক্ষকে কোন পজিটিভ মেসেজ না দেয়, তাহলে কিন্তু একই ঘটনা ঘটতেই থাকবে। আস্তে আস্তে সিঁড়ি গড়ার কাজটা এতটাই ঢিলে হয়ে যাবে যে তার অস্তিত্ব নিয়েও সন্দেহ তৈরি হবে। তাছাড়া একপক্ষ বার বার এভাবে ছাড় দিতে দিতে ভাববে, "সবসময় কেন আমিই স্যাক্রিফাই করব?" যেখানে সে মনে করছে সম্পর্ক রক্ষার কাজে সবটুকু স্যাক্রিফাইস সে করছে, অন্যজন হয়ত একই সময় তার কচ্ছপ মনোভাব দেখতে দেখতে ক্ষুব্ধ। 

No comments:

Post a Comment