Monday, June 27, 2011

সম্পর্কের টানাপোড়েন - ৬


আমি বলছিলাম আমরা প্রতিটা সম্পর্কের মধ্যে কিছু অগ্রিম ধারণা করে রাখি। যেমন রেসপন্সিবিলিটি। এরকম ত অনেক শুনতে পাই, সে স্বামীর দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করছে না, উনি বাবা হিসেবে ভাল না, আজকাল কোন মেয়েই নাকি ভাল স্ত্রী না, ইত্যাদি ইত্যাদি। এর মানে মানুষটা নিজে যেমনই হোক, ঐ রোলটাতে সে ঠিকমত পারফর্ম করতে পারছেনা। এই ক্ষেত্রে দুইটা কারণে মেজাজ খারাপ হয়। 

এক, আমি ধরেই নিচ্ছি যে সে ঐ পজিশনটায় তার দায়িত্ব কর্তব্য খুব স্পষ্টভাবে জানে। আর যদি নাও জানে, তাহলে একবার আলোকিত করার সাথে সাথে হার্ডডিস্ক ফরম্যাট হয়ে নতুন জিনিস ঢুকে গেল, বাকি জীবন আর এর নড়চড় হবে না। 

একেকটা সম্পর্কের রেসপন্সিবিলিটি গুলো সবসময়েই জলবৎ তরলং না। সুতরাং সাধারণভাবে এরকম 'সেট অব রুল' কোথাও পাওয়া যাবে, আর ভুল হলেই তাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে - মানবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এত সোজা সাপ্টা না। অবশ্য চাকরি বা প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের মধ্যে যেহেতু দায়িত্বগুলি পরিষ্কার লেখা থাকে, এতে অসুবিধা কম হয়। 

নতুন সম্পর্ক গড়তে গিয়ে মানুষ যে ভুলটা সবসময় করে, তা হচ্ছে, সে স্পষ্ট করে বলে নেয়না, তার থেকে সে কী কী আশা করে। পরবর্তীতে পথ চলতে চলতে পছন্দসই না হলে তর্ক জুড়ে দেয়, এটা ত খুবই অবভিয়াস, সব তোমাকে বলে দিতে হবে কেন? বোঝেনা, তার কাছে যা খুবই স্বাভাবিক, অন্যজনের জন্য হয়ত সম্পূর্ণ ভিন্ন পারিবারিক কাঠামোতে বেড়ে ওঠায় খুবই আনকোরা, অদ্ভুত। আবারো একই কথা চলে আসছে, মানুষ যদি নিজের ধ্যানধারণার গন্ডি থেকে বের হয়ে এসে অন্যজন কে দেখতে না পারে তাহলে কখনোই তার সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হতে পারবেনা। কিন্তু আন্তরিক ত হতেই হবে! আর কতদিন মানুষ স্বেচ্ছাচারিতা, আত্মম্ভরিতার মধ্যে ডুবে থেকে তার এত এত সম্ভাবনা কে নষ্ট করবে? 

কারো কারো খুব অদ্ভুত ধারণা যে সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য ভালবাসাই যথেষ্ট। ব্যস্ত বাবা মা যেমন কোয়ালিটি টাইম কাটাতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে, অনেক বিবাহিত দম্পতিও দাম্পত্য জীবনকে ডেটিংএর পর্যায়ে নামিয়ে ফেলেছেন। কারো বিপদে কেউ নাই, যার যার আনন্দ তার তার, হয়ত যখন দু'জনেরই মনে চাবে তখন হয়ত কিছুটা সময় ভাব ভালবাসা হবে। বাকি পুরোটা সময় যে যার আপন জগতে মগ্ন।

দায়িত্বজ্ঞানের অভাবজনিত তিক্ততা আরেকটা কারণেও হতে পারে। যে মানুষটা সম্পর্কের খুব মোটা চোখে দেখতে পাওয়া দায়িত্বগুলি সম্পর্কে উদাসীন, সে হয়ত বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর পরেও পুরোপুরি জায়গামত আসবেনা। এখন অপরপক্ষ যদি এই গোয়ার্তুমি জিইয়ে রাখে যে তাকে ১০০% হতেই হবে এবং সেটা খুব শিগগিরই.. তাহলে সমস্যা হতে বাধ্য। এই সমস্যা পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক - দু'রকম সম্পর্কের ক্ষেত্রেই সত্যি। ভুল উপেক্ষা করা ও অপরপক্ষের ভুলের কারণে উদ্ভুত পরিস্থিতি সামাল দেয়ার মত সহিষ্ণুতা না থাকলে সম্পর্কের ব্যালেন্স নষ্ট হতে বাধ্য।


তবে একই সাথে এটাও লক্ষ্যণীয় যে, ভুল দু'টো কারণে হতে পারে। সাময়িক বিচ্যুতি অথবা সেই এক্সপেক্টেশনের প্রতি অশ্রদ্ধা। অনেক সময় সাময়িক বিচ্যুতি করে ফেললে অপর পক্ষ এটাকে দেখে তার চাওয়া পাওয়ার প্রতি উদাসীনতা হিসেবে। এতে করে যাকে দোষী করা হল তার মধ্যে মান অভিমান, পরবর্তীতে নিজেকে শোধরানোর ইচ্ছা কমে আসা - এসব তৈরি হয়। অনেক সময় এটাও হয় যে দোষগুলো মূলত হচ্ছে যথেষ্ট আগ্রহ নেই বলে, কিন্তু ভুলকারী বারবার সেটাকে চালিয়ে দিচ্ছে সাময়িক স্খলন বলে। এক্ষেত্রে অপরপক্ষের উচিৎ তার প্রতিটা কাজকেই ভাল করে লক্ষ করে বুঝে শুনে তারপর সিদ্ধান্ত নেয়া। কারণ ভুল হয়ে গেলে আরেকবার সুযোগ দেয়া সহজ। কিন্তু উদাসীনতা দূর করতে আরো অনেক বেশি কাঠখড় পুড়াতে হয়।

No comments:

Post a Comment