Thursday, February 25, 2021

মা ছেলের গল্প

রেহান, আজকে তোর সাথে রেল লাইনের পাশ ধরে হেঁটেছি, হাঁটতে হাঁটতে গল্প করেছি আমাদের বাংলাদেশের রেল লাইন গুলিও এমন হয়, একটু উঁচু, তার পাশে আইল ধরে ঝোপ ঝাড়! বিকেলের সোনা রোদ তোর চিরুনি না পড়া ঝাঁকড়া চুল ছুঁয়ে হাতের লাঠিটায় এসে থামছিল... কাশফুলের মতো একরকম ঝোপ তোর কাঁধ পর্যন্ত আসে, তুই তাই নিয়েই মেতে ছিলি, আর আমি ভাবছিলাম, কবে একবার গ্রামে যাবো! আব্বুর গ্রাম পর্যন্ত নাকি এখন গাড়ি নেয়া যায়, শেষবার, বারো বছর আগে যখন গিয়েছিলাম, দু' দুটো নদী পার হয়ে যেতে হয়েছিল. ফুপুরা ছিল, কাকী ছিল, দাদি ছিল! কাকারা সবাই ঈদ করতে এসেছিলেন. বারো বছর! নানুবাড়ি শেষবার যাই প্রায় কুড়ি বছর আগে. নানুবাড়ির বাঁধের ওপরের রাস্তাটা বেয়ে বৃষ্টির সময় নামতে বেগ পেতে হতো বেশ. কুড়ি বছর! মামাদের আড্ডা, রান্নাঘরে লাকড়ির চুলায় নানু আর বড় মামীর রান্না, পেছনে পুকুর - সবগুলো স্মৃতি খুব স্পষ্ট. 


রাস্তার ধারে আজকে অনেক আবর্জনা ছিল, তুই আর আমি আজকে ঠিক করেছি এর পরের বার হাতে পলিথিন আর গ্লাভস পরে বের হবো. তুই বলছিলি, "i cannot let the earth be polluted like this, Greta Thunberg is still fighting for it, you should join her মমি!" গ্রেটা থুনবার্গ, গ্রিন নিউ ডিল, ক্যাপিটালিজম এর প্রাণ বেহিসাবি কেনাকাটা - সবকিছু মাথায় ঘুরপাক খায় রে! আজই দেখলাম এক ইউটিউবার মম প্লাস্টিক ছাড়া বাচ্চা বড় করার টিপস দিচ্ছে. এলিটিস্ট মাইন্ডসেট এর একটা মজা আছে, জানিস! নিজের বলয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে পারলেই ভেবে নেয়া যায় যে সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে. ইন্ডিভিজুয়াল লেভেলে অলমোস্ট নাথিং মেকস এ ডিফারেন্স যতক্ষণ না ঐ এলিট ক্লাসটাই নিজেদের লাভের হিসাব টা কাট ছাঁট করে পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট এর উপর কর আরোপ করে. কিন্তু সেটা তো করবে না! 


তুই এখনো যথেষ্ট বড় হোস নি, বড় হলে প্যারাসাইট মুভি টা তোকে দেখাব. তোর বাবার সাথে যে গল্পগুলো করেছি ঘন্টার পর ঘন্টা, ওগুলোই তোর সাথে ঝালাই করব. তুই দেখবি যে বৃষ্টি মালকিনের বাচ্চার বার্থ ডে পার্টির জন্য 'রহম' হয়ে আসে, সেই বৃষ্টিই বাড়ির ড্রাইভারের ঘর সুয়ারেজের পানিতে ডুবিয়ে দেয়. বাড়ির নতুন গভর্নেস তার চাকরিটা টিকিয়ে রাখার জন্য আগের গভর্নেস কে লিটারেলি লাথি দিয়ে নিচ্তলায় ফেলে দেয়. যে মেয়েটা একটু সুযোগ পেয়ে স্পা রুমে বাকি জীবন শাওয়ার করার স্বপ্ন দেখে, বাস্তবতা তাকেই আবার এনে উপচে পড়া কমোডের উপর এনে বসায়. আরো যখন বড় হবি, তখন তোকে সাউথ কোরিয়ার ক্যাস্তেলা শপ আর পপ চিকেন বাবলএর গল্প শোনাব. মিডল ক্লাস ফ্যামিলি কীভাবে লোয়ার ক্লাস বনে যায় একের পর এক ফেইল্ড বিজনেস এ - লোন শার্ক কাছিমের মতো লেগে থাকে ধারের টাকা উসূলের জন্য - তোকে সব শোনাব. তোকে আমেরিকার হাউজিং বাবলের গল্প শোনাব. মেডিক্যাল বিলের জন্য ব্যাংকরাপট হয়ে যাওয়া পরিবারের গল্প শোনাব. গেমস্টপ শেয়ার বাড়ায় যখন হেজ ফান্ডের লাভ ধরে টানাটানি পড়েছে তখন ফ্রি মার্কেট এর বুলি কীভাবে মুহূর্তে উধাও হয়ে যায় সে গল্প শোনাব. 


আর শোনাব এলিটিসিজমের গল্প. না রে, এলিট ক্লাস কেবল ঐ এক সাদা দাদারাই হয়না. যে ক্লাস যেখানে একটু সুবিধা পায়, সেখানেই সুবিধা টাকে কামড়ে ধরে রাখার মতো লোকজন বের হয়ে যায়. ইটস অল এবাউট ক্লাস প্রিভিলেজ, আর কিছু না. প্যারাসাইটএর ঐ দুই গভর্নেস এর মতো, ইট্টুখানি লেভারেজ - একটা কোনো মতন যুক্তি সুবিধা মতন পেলেই - ব্যাস! 


তুই আমাকে আজকাল বলিস, মমি ইউ শুড গো ব্যাক টু ইওর রাইটিং! থিঙ্ক অফ বুলিজ এজ হোয়াইট নয়েজ. ডু ইউ ওয়ান্ট টু স্টপ রাইটিং বিকজ বুলিজ ওয়ান্ট ইউ টু অর ডু ইউ ওয়ান্ট টু কিপ রাইটিং বিকজ দিজ মেকস ইউ হ্যাপি? গ্রাড লাইফের আড্ডা গুলো খুব মিস করি. হালকা করতাম, বুক ক্লাব করতাম, আর চা আড্ডা তো চলতোই! সে সময়ের বন্ধুগুলোকে স্বর্ণালী মনে হয়. মনে আছে রোড ট্রিপ এ তারিক রামাদানের সিডি বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম, পুরো রাস্তা তর্ক বিতর্ক. দাঁড়া! একবার কোথাও থিতু হয়ে নেই, প্রতি শনিবার ওপেন হাউজ করব দেখিস! তুই তোর বন্ধু বান্ধব নিয়ে আসবি, এসে তোর বাবার আর আমার কলিগদের সাথে তর্ক করবি. কেমন হবে? 


রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে তোকে বলছিলাম, বাবা এমন যদি হয় আমি রাস্তার এক ধারে আর তুমি আরেক ধারে, এর মধ্যে ট্রেইন আসে, কী করতে হবে বলো তো? "দূরে যেতে হবে". "মামনির কাছে আসা যাবে না কিন্তু, তাই না? একটু ভয় লাগবে, কারণ আমরা একজন আরেকজন কে দেখতে পাবো না". তুই তখন বললি, "স্টিল ইট উইল বি ফুলিশ টু প্যানিক কজ উই উইল সি ইচ আদার ফর দ্য রেস্ট অফ আওয়ার লাইফ!" আমি ধরে নিচ্ছি ওপারের তুই হচ্ছিস আমার রাইটার সোল্, এপারে আমি. ট্রেইন টা হচ্ছে বাস্তবতার ধুলো ঝড়. লেখকসত্তাটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই উই হ্যাড টু পার্ট, সো উই ক্যান স্টে টুগেদার ফর দ্য রেস্ট অফ আওয়ার লাইফ.