Sunday, March 21, 2021

I have been thinking, why do we try to make a story of our whole life? Wouldn't it make more sense to compartmentalize and see each episode in a new light? 

ছোট বেলা আমি যে মানুষ  টা  ছিলাম, কেন ভেবে নিচ্ছি ওটাই আমি, আমাকে কোনোভাবে ওটাতে ফেরত যেতে হবে? কেন কোন একটা পরিকল্পনা ঠিক মতো সফল না হওয়ায় ভেবে নিচ্ছি ওই সময় টা ভুল ছিল? বিশেষ করে কী ছিলাম আর কী করছি - এই বোধটা ভয়ানক - ওটা আমাদের অতীত কে একটা শুদ্ধ/পবিত্র/পুরোপুরি নির্ভুল জায়গায় বসায়, আর বর্তমান টাকে ভাবায় একটা কিছু যেটা আমার সাথে হওয়ার কথা ছিল ন। কিন্তু এমন তো হতেই পারে, কঠিন সময়টা আমার সহজ সময়ের মতোই 'আমারই!' 

আমার ছেলে হওয়ার পর একবার লিখেছিলাম, "আল্লাহ আনন্দের বালতি উপুড় করে দিয়েছেন। অথচ এই ব্লেসিং টাই উনি যদি নিজের কাছে নিয়ে যেতে চান আমি ভাববো আমার সাথেই কেন এমন হয়!" তার সাড়ে তিন বছর পর আল্লাহ যখন ওর লাইফলং ইন্সুলিন ডিপেন্ডেন্স এর মাধ্যমে খুব ছোট্ট একটা পরীক্ষার মধ্যে আমাকে ফেললেন, তখন কি একবারও আমি ভাবিনি, আমার তো এমন হওয়ার কথা ছিল না? অনেক বার ভেবেছি। অনেক অনেক বার। সত্যি বলতে, হেরে যাওয়ার দলে আমি কোনোদিন থাকবো এটা মেনে নিতে আমার কিভাবে বিঁধেছে আমি বলে বোঝাতে পারবো না। আমি কেন? অন্যদের হবে! আমার সাথে কেন এমন হবে? খুব স্বার্থপর শোনায়, কিন্তু সত্যি, ঠিক এটাই ভেবেছি দিনের পর দিন। কোন স্বান্তনা, কোন উইজডম আমাকে কোন সত্যিকারের সোলেস দেয় নি। যতদিন না পর্যন্ত যত ধরণের ইগো, আত্মঅভিমান ছিল সব ভালো মতো ভেঙেছে। মেধাবী হওয়ার, জ্ঞানী হওয়ার, বিজ্ঞ হওয়ার, ভালো মা হওয়ার, ভালো কর্মী হওয়ার, ভালো লেখক হওয়ার, ভালো গানের গলা থাকার, ভালো মানুষ হওয়ার - সব সব সব ভেঙেছে। আমি নিজের চোখে নিজেকে দেখেছি কোনঠাসা হলে কীভাবে নিজের টা ছাড় না দিয়ে স্বার্থপর হয়ে যাই। কীভাবে যেটুকু মূলধন ছিল যা দিয়ে দু'একটা প্রশংসা কুড়িয়েছি কোনকালে, সেটাকে বার বার বার বার চোখের সামনে ঘুরিয়ে, নাচিয়ে, খুঁচিয়ে আরেকটু পাওয়ার চেষ্টা করেছি। ইগো আসলে ভাঙার দরকার আছে। সব ভাবে না হারলে আসলে অন্যকে হারিয়ে নিজে জেতার এই প্রক্রিয়াটার খুঁতগুলো কখনো চোখে পড়ে না। 

ফেসবুকে ছবি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। কেন? কারণ সত্যি বলতে আমরা গত দেড় মাস ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছি। রেহান প্রায় প্রতিদিন রোদে দাঁড়াতে পারছে, আমরা এক জোড়া স্যান্ডেল পায়ে দিয়ে পানির ধারে যেতে পারছি, সমুদ্রের গর্জন শুনতে পাচ্ছি। প্রতিটা মুহূর্তে আমার কেবল মনে হয় আমি কী অসম্ভব ব্লেসড, এবং কতটা সুবিধাভোগী শ্রেণীর অংশ। কত পরিবারের শ্বাস ফেলার জায়গাটা পর্যন্ত নেই, সাধ্য যদিও থাকে, উপায় নেই, হয়তো তাদের সপ্তাহে দু'দিন অফিসে যেতে হচ্ছে, পরিবারে এমন কেউ আছেন যার ২৪/৭ কেয়ার নিতে হচ্ছে। 

গত বছর এই সময় টাতে লক ডাউনে তীব্র ঠান্ডার মধ্যে বের হতে পারছি না, চাকুরী চলে যাচ্ছে, নতুন চাকরি খুঁজতে হবে, বাচ্চা সারাদিন জিজ্ঞাসা করে মমি আমার সাথে খেলবে? জোঁকের মুখে নুন পড়ার মতো মুখটা করে চলে যায় যখন বলি আমি এখন খেললে ঘরের কাজগুলি করবে কে?  আর যেদিন খেলি সেদিন রাত জেগে থাকি আড়াইটা তিন টা পর্যন্ত, কাজ তো শেষ করতে হবে! না একটা পেপার পড়তে পারতাম, না রিসার্চের দুটো লাইন লিখতে পারতাম। পরের দিন মিটিং এ কথা বলতে গেলে দু'টো শব্দ এক করে বলতে পারিনা - এই ছিল আমার দিন।  

এখন নাহয় নীল সমুদ্রের পানিতে পা ডুবাতে পারি। এখন কোনটা কে আমার রিয়েলিটি ধরবো? এটা? না ঠিক এক বছর আগের এ সময় টাকে? সারি সারি পাম গাছের মধ্য দিয়ে হাঁটা, এটা? নাকি দেশে আমার মায়ের সার্জারির সময় আমার বাবা মায়ের ভাই বোনের পাশে না থাকতে পারা - এটা? 

আমি একই সাথে অসম্ভব ভাগ্যবান, আবার একই সাথে অনেকগুলো স্ট্রাগলের মধ্য দিয়ে যাই। ফেসবুকের চিত্রগল্পগুলো যে কতটা ন্যারো - অথচ প্রতি টা অভিজ্ঞতা এত তীব্র করে এখানে প্রকাশ পায় যে মাঝে মধ্যে নিজেই কনফিউজড হয়ে যাই, এই যে হাসিমুখে ছবি দেয়া মানুষটা না সেদিনই খুব কাঁদলো শরীর আর মনের এতগুলো ক্ষত নিয়ে? এই যে দুঃখী দুঃখী গল্প বলা মানুষ টা না সেদিনই এত্তগুলো টাকা বেহিসেবি খরচ করে ঘুরে আসলো? অন্যদের কেন, সব ক'টা গল্প তো আমার নিজেরও! কোনটা কে ধরে থাকবো? 

এজন্যই মনে হয়, এই যে সবগুলো গল্প কে করে একটা আইডেন্টিটি দাঁড় করানোর এই আগ্রহটাই বোধ হয় ভুল। বহুরূপী হওয়াটাই বোধ হয় ঠিক। এটাই হওয়ার কথা। আমি যখন রেহানের পাকা পাকা কথার গল্প বলি আমি ওর একটা ইমেজ তৈরী করি যে ও বোধহয় ভীষণ পরিণত ওর বয়সের তুলনায়। একটু বড় হলে (বা হয়তো এখনই), ও বুঝে যাবে যে ওর থেকে এটাই আশা করা হয়, ও তখন ওভাবেই কথা বলার চেষ্টা করবে, আস্তে করে আমি কন্ডিশনিং করে ওর ছ' বছর বয়সের বাচ্চামিগুলো কেড়ে নিবো। অথচ যদি আমি একই ফ্রেম এ রেহান কে পাগলা, গুফি, দুরন্ত, পড়াশুনায় কম মনোযোগী, গান কবিতা কিচ্ছু না পারা, আঁকতে লিখতে অনীহা, চঞ্চল একটা বাচ্চা হিসেবে দেখাই যে কিনা মাঝে মধ্যে কিছু পন্ডিতি কথা বলে ফেলে, যেটা সব বাচ্চাই করে - তাহলে কিন্তু এই অযাচিত/আরোপিত এক্সপেক্টেশন টা আর আসেনা! 

আমাদের এই নিজেদের প্রতি, অন্যদের প্রতি একটা এক্সপেক্টেশনের বোঝা, তাকে আমার ফ্রেমে ফিট করার একগুঁয়ে ইচ্ছা - এটা আসলে ঠিক না। শেইম ট্রিগারিং পোস্টগুলি মানুষের রং বেরঙের জীবনের গল্পগুলি কে একটা বদ্ধ মলাটে আটকাতে চায়।  এটা ঠিক না। মানুষের মন একটা বড় খোলা মাঠে বিচরণ করতে পারলে তার সবচেয়ে সুন্দর অংশ টা বের করে আনতে পারবে। শেমিং খুব বেশি কাজ করেনা। শুধু পিঠে এত্ত বড় একটা বোঝা চাপিয়ে দেয়। 

লেখাটার কোন মূল কথা টাইপ কিছু নেই। শুধু খেয়াল করলাম, লেখালেখির এক যুগে আমি খোলা দমকা হাওয়া থেকে বাঁশির সুর হওয়ার চেষ্টা করেছি। এই আবদ্ধ হওয়ার ইচ্ছে টা কি এমনিতেই হয়ে গেছে? নাহ! একটা একটা সমালোচনা অবচেতনে দেয়াল তুলতে থাকে। এই আর কি! বাঁশির সুরের প্রয়োজন আছে, কিন্তু দমকা হাওয়া কে কষে বেঁধে তা বানানোর চেষ্টা করা অনর্থক।  

Tuesday, March 9, 2021

রিপ্রেজেন্টেশন ম্যাটারস


[Published in Women Express magazine, 2021]

সম্প্রতি বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউ ইয়র্কের শহর গুলো তে অফিসিয়াল পদে দাঁড়াচ্ছেন বাংলাদেশি সহ বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের আমেরিকান নারীরা। মূলত তৃণমূল পর্যায় থেকে অ্যাক্টিভিজম করে উঠে আসা এই পদপ্রার্থীরা নিজেদের পরিচয় দেন 'বিগ ডোনার' দের থেকে কোন পৃষ্ঠপোষকতা না নেয়া আমজনতার প্রতিনিধি হিসেবে। এঁদের অনেকের পরিবারই সংগ্রাম করে উঠে এসছে, যেমন তাহানি আবুশি(1) (ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক, ম্যানহাটান, নিউ ইয়র্কের ডিসট্রিক্ট এটর্নি পদপ্রার্থী হিজাবি মুসলিম আমেরিকান) তাঁর ক্যাম্পেইন প্লাটফর্মে লিখেছেন তাঁর বাবা ২২ বছরের জন্য কারাগারে দণ্ডিত হয়েছেন। ডিসট্রিক্ট এটর্নি হিসেবে তিনি নিউ ইয়র্কের জাস্টিস সিস্টেম কে নিরপেক্ষ করতে চান। অপরদিকে মৌমিতা আহমেদ (2) (বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক, নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সেলর পদপ্রার্থী) জানান, তাঁর মা কোভিডের কারণে জেনারেল স্টোরের চাকুরী হারান, তাঁর বাবা ওষুধ প্যাকেজিং এর এক স্টোরে ডাবল শিফট শুরু করেন। সিটি কাউন্সেলর হিসেবে তিনি সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কাজ করতে চান। 


আমি ও আমারই মত অসংখ্য বাংলাদেশি যারা বহু বছর আমেরিকায় কাটানোর পরও শেকড়টা খুঁজে বেড়ান, তাদের জন্য এই প্রতিনিধিত্ব আশাজাগানিয়া। তার কারণ আর কিছুই নয়, শুধুমাত্র জীবিকার জন্য উপার্জন করে যাওয়া আর সপ্তাহান্তে নিজের কমিউনিটির মধ্যেই সামাজিকতা চালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি পরিবারদের মধ্যে এই প্রতিনিধিত্ব এই বোধটা তৈরি করে যে, আমরা এই সমাজেরই অংশ।এই সমাজকে আরেকটু উন্নত করার যোগ্যতা আমারও আছে। বিভাজনের যে রাজনীতি ট্রাম্প আমলেরও বহু আগে থেকে আমেরিকায় চলে আসছে, সেখানে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আসলে তেমন কোন ভয়েস নেই। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রতিদিন যে সিস্টেমিক মারজিনালাইজেশনের মুখোমুখি হয়, সেটাই নিজেদের মত করে আত্মিকরন করে তার চেয়েও সুবিধাবঞ্চিতর উপরে চড়াও হয়। প্রসঙ্গত, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে কালোদের প্রতি বিরুদ্ধভাব প্রবল। আমি মনে করি এই বিভাজন একটি বৃহত্তর বর্ণবাদি সিস্টেমের ক্ষুদ্র প্রতিফলন মাত্র। যখন সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে নামে তখন সুবিধাটা মূলত যায় ক্ষমতাধরের পকেটে। উদাহরণস্বরুপ, আমেরিকার বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান 'আমাজনের' কর্মীরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, উপর মহল থেকে এই ইউনিয়ন যাতে না হয় তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে (3)। এছাড়াও, আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম হিরের জোগানদার দেশ এঙ্গোলায় ২৭ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলে কয়েকটি ক্ষমতাধর দেশের পৃষ্ঠপোষকতায়(4)। দুঃখের বিষয়, হিরের খনির ওপর বসেও দেশের মানুষগুলো লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির কারণে অন্ন সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছে। বলা বাহুল্য, হিরের খননকার্য কিন্তু থেমে থাকেনি।


যা হোক, মূল প্রসঙ্গ হচ্ছে, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর লোকজন উপরের পদগুলোতে আসলে তাদের নিজেদের পক্ষে কথা বলার লোক তৈরি হয়। রিপ্রেজেন্টেশন ম্যাটারস। যেমন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের মাঝে আমি নিজের পরিচয় খুঁজে পেয়েছি(5)। উনি ওম্যান অফ কালার, এবং উনি হিজাব পরেন। বিভিন্ন প্রান্তিকতার হায়ারারকি তে ওম্যান অফ কালার হচ্ছে ডাবল প্রান্তিক। দুটো সংখ্যালঘু পরিচয়ের প্রান্তিকতা কে বলে Intersectionality (6). এর ওপরে যদি আরও যোগ হয় হিজাব পরুয়া - তবে তো কথাই নেই! এই তিনটি পরিচয়ের সমন্বয়ের যে কী বিড়ম্বনা তা ঠিক একই রকম বিপদের আরেকজন ছাড়া বুঝবেনা। সে কারণে সংখ্যালঘুদের সব প্লাটফর্মই সমান হয়না। মুসলিমদের প্লাটফর্মগুলোতে মেয়েদের ইস্যুগুলো উঠে আসছে না, নারী আন্দোলনের প্লাটফর্মে হয়তো ওম্যান অফ কালাররা পাত্তা পাচ্ছেনা। সে দুটো যদিও বা পাওয়া গেল, মুসলিম পরিচয়ের কারণে যে বাড়তি ব্যাগেজগুলো টানতে হয়, সেটা হয়ত আবার  এরা কেউই বুঝবেনা। 


ইলহান ওমর মাথা ঢেকে অফিসে যাওয়ায় উনার এক পুরুষ কলিগ (কোন এক স্টেটের রিপ্রেজেন্টেটিভ) তাঁর স্কার্টের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আই গেট দিস (অর্থাৎ আমি এই পোশাকটার সাথে রিলেট করতে পারি), বাট (স্কার্ফের দিকে ইঙ্গিত করে) আই ডোন্ট গেট দ্যাট (7)। জবাবে ইলহান ওমর ফুল কালো আবায়া পরে পরদিন অফিসে উপস্থিত হন। শুধু এটা বোঝানোর জন্য যে, আমি যে পোষাকেই আসি, সে পোষাকেই আমি আমার কাজ করার যোগ্যতা রাখি! এই গল্পটা আমাকে সাহস যোগায় কেন? কারণ দেশি পোষাক শালওয়ার কামিজে অনেক বাংলাদেশি এমনকি দোকানে যেতেও অস্বস্তি বোধ করেন। নিজেদের স্বাচ্ছন্দের পোশাকটা ছেড়ে আর সবার মত হতে চাওয়ার এই তাগিদটা আসে ওখান থেকেই, যে এই সমাজ আমার ভিন্ন পোশাক, সংস্কৃতিকে আপন করে নিতে এখনো তৈরি না। অথচ, শাহানা হানিফ (8) (বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, নিউ ইয়র্ক ডিসট্রিক্ট ৩৯ থেকে সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন) উনার ক্যাম্পেইনের ভিডিও করেছেন সালওয়ার কামিজ পরে। লিন্ডা সারসুর (9) (ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হিজাবি পলিটিক্যাল এক্টিভিস্ট) ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েশন সেরেমনিতে স্পীচ দিয়েছেন আবায়া পরে। 


পোশাকের এই প্রসঙ্গগুলো টানতে হল কারণ বাহ্যিক অবয়বকে ব্যবহার করেই গোটা সমাজটা প্রান্তিকীকরণের খেলায় মেতে আছে। একটা সময় ওম্যান ইস্যু নিয়ে পড়তাম অনেক। তারপর দেখলাম শেরিল স্যান্ডবার্গ এর 'লীন ইন' (10) মুভমেন্ট মূলত কর্পোরেট কালচারে মেয়েদের উপরে ওঠার টিপ্স নিয়ে বই। আরে! একজন ব্ল্যাক ওম্যান ত ঐ জায়গায় উঠতেই পারবে না! অ্যান মেরি স্লোটার জেন্ডার রোল রিডিফাইন নিয়ে কথা বলতেন (11)। কিন্তু উনি একজন একাডেমিক। একাডেমিয়া এখনো জেন্ডার ইকুইটি নিয়েই পড়ে আছে, সম্প্রতি বর্ণনিরপেক্ষতার দিকে ঝুঁকছে - কিন্তু এখনো একাডেমিয়া তে ফ্যাকাল্টি তে ডাইভার্সিটি বলতে বোঝায় নন-হোয়াইট পুরুষ অথবা সাদা মহিলা ফ্যাকাল্টি। ইন্টারসেকশনালিটি পর্যন্ত যেতে একাডেমিয়ার বহু, বহু দিন বাকি। তারপর বর্ণবাদ নিয়ে পড়তে শুরু করলাম, দেখলাম, কালোদের স্ট্রাগল আমাদের মত ইমিগ্র্যান্টদের চেয়ে বহু বহু গুণ কঠিন। ফলস্বরূপ কালোদের নিজেদের সার্কেলের বাইরে অন্য কমিউনিটির সমস্যা দেখার সময় বা সাধ্য নেই। আর সেখানেও কালো পুরুষদের থেকে কালো মহিলাদের স্ট্রাগল আলাদা। আর হিজাবি যদি বলি, আমি রীতিমত হিজাব পরে এমন মেয়েদের লিঙ্কডইন এ ট্র্যাক করে খুঁজতাম।  এখানে বলে নেয়া প্রয়োজন, হিজাব দিয়ে আমি কারও রেলিজিয়সিটি  বিচার করছিনা। হিজাব হচ্ছে মুসলিম হিসেবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। প্রতিকূল পরিবেশে (for example, after 9/11), কেউ হিজাব টাকে বেছে নেন বাইরে বের হওয়াটাকে ছাড় দিয়ে, কেউ বাইরে বের হওয়াটাকে বেছে নেন, হিজাবটাকে ছাড় দিয়ে। যারা দুটোই একসাথে করতে চান তাদের এত বড় দেশটাতে হারিকেন দিয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল। 


Until I found Linda Sarsour: ট্রাম্প অভিষেকের পরের দিন ৪ মিলিয়ন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে যিনি বলেন, "I stand here before you, unapologetically Muslim American, unapologetically Palestinian American" (12). Her speech has a lasting impact on me. Thanks to all of them, finally I found people to look up to with my intersectional identities. 





1. https://www.tahanieforda.com/

2. https://votemoumita.com/

3. https://www.cnbc.com/2020/10/24/how-amazon-prevents-unions-by-surveilling-employee-activism.html

4. https://en.wikipedia.org/wiki/Angolan_Civil_War

5. https://omar.house.gov/

6. https://www.ywboston.org/2017/03/what-is-intersectionality-and-what-does-it-have-to-do-with-me/

7. This is what America looks like: book by Ilhan Omar

8. https://www.shahanafrombk.com/

9. https://en.wikipedia.org/wiki/Linda_Sarsour

10. https://leanin.org/

11. https://www.ted.com/talks/anne_marie_slaughter_can_we_all_have_it_all?language=en

12. https://www.youtube.com/watch?v=DnaT8JxUTY0

Thursday, February 25, 2021

মা ছেলের গল্প

রেহান, আজকে তোর সাথে রেল লাইনের পাশ ধরে হেঁটেছি, হাঁটতে হাঁটতে গল্প করেছি আমাদের বাংলাদেশের রেল লাইন গুলিও এমন হয়, একটু উঁচু, তার পাশে আইল ধরে ঝোপ ঝাড়! বিকেলের সোনা রোদ তোর চিরুনি না পড়া ঝাঁকড়া চুল ছুঁয়ে হাতের লাঠিটায় এসে থামছিল... কাশফুলের মতো একরকম ঝোপ তোর কাঁধ পর্যন্ত আসে, তুই তাই নিয়েই মেতে ছিলি, আর আমি ভাবছিলাম, কবে একবার গ্রামে যাবো! আব্বুর গ্রাম পর্যন্ত নাকি এখন গাড়ি নেয়া যায়, শেষবার, বারো বছর আগে যখন গিয়েছিলাম, দু' দুটো নদী পার হয়ে যেতে হয়েছিল. ফুপুরা ছিল, কাকী ছিল, দাদি ছিল! কাকারা সবাই ঈদ করতে এসেছিলেন. বারো বছর! নানুবাড়ি শেষবার যাই প্রায় কুড়ি বছর আগে. নানুবাড়ির বাঁধের ওপরের রাস্তাটা বেয়ে বৃষ্টির সময় নামতে বেগ পেতে হতো বেশ. কুড়ি বছর! মামাদের আড্ডা, রান্নাঘরে লাকড়ির চুলায় নানু আর বড় মামীর রান্না, পেছনে পুকুর - সবগুলো স্মৃতি খুব স্পষ্ট. 


রাস্তার ধারে আজকে অনেক আবর্জনা ছিল, তুই আর আমি আজকে ঠিক করেছি এর পরের বার হাতে পলিথিন আর গ্লাভস পরে বের হবো. তুই বলছিলি, "i cannot let the earth be polluted like this, Greta Thunberg is still fighting for it, you should join her মমি!" গ্রেটা থুনবার্গ, গ্রিন নিউ ডিল, ক্যাপিটালিজম এর প্রাণ বেহিসাবি কেনাকাটা - সবকিছু মাথায় ঘুরপাক খায় রে! আজই দেখলাম এক ইউটিউবার মম প্লাস্টিক ছাড়া বাচ্চা বড় করার টিপস দিচ্ছে. এলিটিস্ট মাইন্ডসেট এর একটা মজা আছে, জানিস! নিজের বলয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে পারলেই ভেবে নেয়া যায় যে সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে. ইন্ডিভিজুয়াল লেভেলে অলমোস্ট নাথিং মেকস এ ডিফারেন্স যতক্ষণ না ঐ এলিট ক্লাসটাই নিজেদের লাভের হিসাব টা কাট ছাঁট করে পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্ট এর উপর কর আরোপ করে. কিন্তু সেটা তো করবে না! 


তুই এখনো যথেষ্ট বড় হোস নি, বড় হলে প্যারাসাইট মুভি টা তোকে দেখাব. তোর বাবার সাথে যে গল্পগুলো করেছি ঘন্টার পর ঘন্টা, ওগুলোই তোর সাথে ঝালাই করব. তুই দেখবি যে বৃষ্টি মালকিনের বাচ্চার বার্থ ডে পার্টির জন্য 'রহম' হয়ে আসে, সেই বৃষ্টিই বাড়ির ড্রাইভারের ঘর সুয়ারেজের পানিতে ডুবিয়ে দেয়. বাড়ির নতুন গভর্নেস তার চাকরিটা টিকিয়ে রাখার জন্য আগের গভর্নেস কে লিটারেলি লাথি দিয়ে নিচ্তলায় ফেলে দেয়. যে মেয়েটা একটু সুযোগ পেয়ে স্পা রুমে বাকি জীবন শাওয়ার করার স্বপ্ন দেখে, বাস্তবতা তাকেই আবার এনে উপচে পড়া কমোডের উপর এনে বসায়. আরো যখন বড় হবি, তখন তোকে সাউথ কোরিয়ার ক্যাস্তেলা শপ আর পপ চিকেন বাবলএর গল্প শোনাব. মিডল ক্লাস ফ্যামিলি কীভাবে লোয়ার ক্লাস বনে যায় একের পর এক ফেইল্ড বিজনেস এ - লোন শার্ক কাছিমের মতো লেগে থাকে ধারের টাকা উসূলের জন্য - তোকে সব শোনাব. তোকে আমেরিকার হাউজিং বাবলের গল্প শোনাব. মেডিক্যাল বিলের জন্য ব্যাংকরাপট হয়ে যাওয়া পরিবারের গল্প শোনাব. গেমস্টপ শেয়ার বাড়ায় যখন হেজ ফান্ডের লাভ ধরে টানাটানি পড়েছে তখন ফ্রি মার্কেট এর বুলি কীভাবে মুহূর্তে উধাও হয়ে যায় সে গল্প শোনাব. 


আর শোনাব এলিটিসিজমের গল্প. না রে, এলিট ক্লাস কেবল ঐ এক সাদা দাদারাই হয়না. যে ক্লাস যেখানে একটু সুবিধা পায়, সেখানেই সুবিধা টাকে কামড়ে ধরে রাখার মতো লোকজন বের হয়ে যায়. ইটস অল এবাউট ক্লাস প্রিভিলেজ, আর কিছু না. প্যারাসাইটএর ঐ দুই গভর্নেস এর মতো, ইট্টুখানি লেভারেজ - একটা কোনো মতন যুক্তি সুবিধা মতন পেলেই - ব্যাস! 


তুই আমাকে আজকাল বলিস, মমি ইউ শুড গো ব্যাক টু ইওর রাইটিং! থিঙ্ক অফ বুলিজ এজ হোয়াইট নয়েজ. ডু ইউ ওয়ান্ট টু স্টপ রাইটিং বিকজ বুলিজ ওয়ান্ট ইউ টু অর ডু ইউ ওয়ান্ট টু কিপ রাইটিং বিকজ দিজ মেকস ইউ হ্যাপি? গ্রাড লাইফের আড্ডা গুলো খুব মিস করি. হালকা করতাম, বুক ক্লাব করতাম, আর চা আড্ডা তো চলতোই! সে সময়ের বন্ধুগুলোকে স্বর্ণালী মনে হয়. মনে আছে রোড ট্রিপ এ তারিক রামাদানের সিডি বানিয়ে নিয়ে গিয়েছিলাম, পুরো রাস্তা তর্ক বিতর্ক. দাঁড়া! একবার কোথাও থিতু হয়ে নেই, প্রতি শনিবার ওপেন হাউজ করব দেখিস! তুই তোর বন্ধু বান্ধব নিয়ে আসবি, এসে তোর বাবার আর আমার কলিগদের সাথে তর্ক করবি. কেমন হবে? 


রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে তোকে বলছিলাম, বাবা এমন যদি হয় আমি রাস্তার এক ধারে আর তুমি আরেক ধারে, এর মধ্যে ট্রেইন আসে, কী করতে হবে বলো তো? "দূরে যেতে হবে". "মামনির কাছে আসা যাবে না কিন্তু, তাই না? একটু ভয় লাগবে, কারণ আমরা একজন আরেকজন কে দেখতে পাবো না". তুই তখন বললি, "স্টিল ইট উইল বি ফুলিশ টু প্যানিক কজ উই উইল সি ইচ আদার ফর দ্য রেস্ট অফ আওয়ার লাইফ!" আমি ধরে নিচ্ছি ওপারের তুই হচ্ছিস আমার রাইটার সোল্, এপারে আমি. ট্রেইন টা হচ্ছে বাস্তবতার ধুলো ঝড়. লেখকসত্তাটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই উই হ্যাড টু পার্ট, সো উই ক্যান স্টে টুগেদার ফর দ্য রেস্ট অফ আওয়ার লাইফ.