[Published in Women Express magazine, 2021]
সম্প্রতি বাংলাদেশি অধ্যুষিত নিউ ইয়র্কের শহর গুলো তে অফিসিয়াল পদে দাঁড়াচ্ছেন বাংলাদেশি সহ বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের আমেরিকান নারীরা। মূলত তৃণমূল পর্যায় থেকে অ্যাক্টিভিজম করে উঠে আসা এই পদপ্রার্থীরা নিজেদের পরিচয় দেন 'বিগ ডোনার' দের থেকে কোন পৃষ্ঠপোষকতা না নেয়া আমজনতার প্রতিনিধি হিসেবে। এঁদের অনেকের পরিবারই সংগ্রাম করে উঠে এসছে, যেমন তাহানি আবুশি(1) (ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক, ম্যানহাটান, নিউ ইয়র্কের ডিসট্রিক্ট এটর্নি পদপ্রার্থী হিজাবি মুসলিম আমেরিকান) তাঁর ক্যাম্পেইন প্লাটফর্মে লিখেছেন তাঁর বাবা ২২ বছরের জন্য কারাগারে দণ্ডিত হয়েছেন। ডিসট্রিক্ট এটর্নি হিসেবে তিনি নিউ ইয়র্কের জাস্টিস সিস্টেম কে নিরপেক্ষ করতে চান। অপরদিকে মৌমিতা আহমেদ (2) (বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক, নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সেলর পদপ্রার্থী) জানান, তাঁর মা কোভিডের কারণে জেনারেল স্টোরের চাকুরী হারান, তাঁর বাবা ওষুধ প্যাকেজিং এর এক স্টোরে ডাবল শিফট শুরু করেন। সিটি কাউন্সেলর হিসেবে তিনি সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কাজ করতে চান।
আমি ও আমারই মত অসংখ্য বাংলাদেশি যারা বহু বছর আমেরিকায় কাটানোর পরও শেকড়টা খুঁজে বেড়ান, তাদের জন্য এই প্রতিনিধিত্ব আশাজাগানিয়া। তার কারণ আর কিছুই নয়, শুধুমাত্র জীবিকার জন্য উপার্জন করে যাওয়া আর সপ্তাহান্তে নিজের কমিউনিটির মধ্যেই সামাজিকতা চালিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি পরিবারদের মধ্যে এই প্রতিনিধিত্ব এই বোধটা তৈরি করে যে, আমরা এই সমাজেরই অংশ।এই সমাজকে আরেকটু উন্নত করার যোগ্যতা আমারও আছে। বিভাজনের যে রাজনীতি ট্রাম্প আমলেরও বহু আগে থেকে আমেরিকায় চলে আসছে, সেখানে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আসলে তেমন কোন ভয়েস নেই। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রতিদিন যে সিস্টেমিক মারজিনালাইজেশনের মুখোমুখি হয়, সেটাই নিজেদের মত করে আত্মিকরন করে তার চেয়েও সুবিধাবঞ্চিতর উপরে চড়াও হয়। প্রসঙ্গত, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে কালোদের প্রতি বিরুদ্ধভাব প্রবল। আমি মনে করি এই বিভাজন একটি বৃহত্তর বর্ণবাদি সিস্টেমের ক্ষুদ্র প্রতিফলন মাত্র। যখন সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে নামে তখন সুবিধাটা মূলত যায় ক্ষমতাধরের পকেটে। উদাহরণস্বরুপ, আমেরিকার বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান 'আমাজনের' কর্মীরা নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, উপর মহল থেকে এই ইউনিয়ন যাতে না হয় তার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে (3)। এছাড়াও, আফ্রিকার তৃতীয় বৃহত্তম হিরের জোগানদার দেশ এঙ্গোলায় ২৭ বছর ধরে গৃহযুদ্ধ চলে কয়েকটি ক্ষমতাধর দেশের পৃষ্ঠপোষকতায়(4)। দুঃখের বিষয়, হিরের খনির ওপর বসেও দেশের মানুষগুলো লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির কারণে অন্ন সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছে। বলা বাহুল্য, হিরের খননকার্য কিন্তু থেমে থাকেনি।
যা হোক, মূল প্রসঙ্গ হচ্ছে, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর লোকজন উপরের পদগুলোতে আসলে তাদের নিজেদের পক্ষে কথা বলার লোক তৈরি হয়। রিপ্রেজেন্টেশন ম্যাটারস। যেমন কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের মাঝে আমি নিজের পরিচয় খুঁজে পেয়েছি(5)। উনি ওম্যান অফ কালার, এবং উনি হিজাব পরেন। বিভিন্ন প্রান্তিকতার হায়ারারকি তে ওম্যান অফ কালার হচ্ছে ডাবল প্রান্তিক। দুটো সংখ্যালঘু পরিচয়ের প্রান্তিকতা কে বলে Intersectionality (6). এর ওপরে যদি আরও যোগ হয় হিজাব পরুয়া - তবে তো কথাই নেই! এই তিনটি পরিচয়ের সমন্বয়ের যে কী বিড়ম্বনা তা ঠিক একই রকম বিপদের আরেকজন ছাড়া বুঝবেনা। সে কারণে সংখ্যালঘুদের সব প্লাটফর্মই সমান হয়না। মুসলিমদের প্লাটফর্মগুলোতে মেয়েদের ইস্যুগুলো উঠে আসছে না, নারী আন্দোলনের প্লাটফর্মে হয়তো ওম্যান অফ কালাররা পাত্তা পাচ্ছেনা। সে দুটো যদিও বা পাওয়া গেল, মুসলিম পরিচয়ের কারণে যে বাড়তি ব্যাগেজগুলো টানতে হয়, সেটা হয়ত আবার এরা কেউই বুঝবেনা।
ইলহান ওমর মাথা ঢেকে অফিসে যাওয়ায় উনার এক পুরুষ কলিগ (কোন এক স্টেটের রিপ্রেজেন্টেটিভ) তাঁর স্কার্টের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, আই গেট দিস (অর্থাৎ আমি এই পোশাকটার সাথে রিলেট করতে পারি), বাট (স্কার্ফের দিকে ইঙ্গিত করে) আই ডোন্ট গেট দ্যাট (7)। জবাবে ইলহান ওমর ফুল কালো আবায়া পরে পরদিন অফিসে উপস্থিত হন। শুধু এটা বোঝানোর জন্য যে, আমি যে পোষাকেই আসি, সে পোষাকেই আমি আমার কাজ করার যোগ্যতা রাখি! এই গল্পটা আমাকে সাহস যোগায় কেন? কারণ দেশি পোষাক শালওয়ার কামিজে অনেক বাংলাদেশি এমনকি দোকানে যেতেও অস্বস্তি বোধ করেন। নিজেদের স্বাচ্ছন্দের পোশাকটা ছেড়ে আর সবার মত হতে চাওয়ার এই তাগিদটা আসে ওখান থেকেই, যে এই সমাজ আমার ভিন্ন পোশাক, সংস্কৃতিকে আপন করে নিতে এখনো তৈরি না। অথচ, শাহানা হানিফ (8) (বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত, নিউ ইয়র্ক ডিসট্রিক্ট ৩৯ থেকে সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন) উনার ক্যাম্পেইনের ভিডিও করেছেন সালওয়ার কামিজ পরে। লিন্ডা সারসুর (9) (ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত হিজাবি পলিটিক্যাল এক্টিভিস্ট) ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েশন সেরেমনিতে স্পীচ দিয়েছেন আবায়া পরে।
পোশাকের এই প্রসঙ্গগুলো টানতে হল কারণ বাহ্যিক অবয়বকে ব্যবহার করেই গোটা সমাজটা প্রান্তিকীকরণের খেলায় মেতে আছে। একটা সময় ওম্যান ইস্যু নিয়ে পড়তাম অনেক। তারপর দেখলাম শেরিল স্যান্ডবার্গ এর 'লীন ইন' (10) মুভমেন্ট মূলত কর্পোরেট কালচারে মেয়েদের উপরে ওঠার টিপ্স নিয়ে বই। আরে! একজন ব্ল্যাক ওম্যান ত ঐ জায়গায় উঠতেই পারবে না! অ্যান মেরি স্লোটার জেন্ডার রোল রিডিফাইন নিয়ে কথা বলতেন (11)। কিন্তু উনি একজন একাডেমিক। একাডেমিয়া এখনো জেন্ডার ইকুইটি নিয়েই পড়ে আছে, সম্প্রতি বর্ণনিরপেক্ষতার দিকে ঝুঁকছে - কিন্তু এখনো একাডেমিয়া তে ফ্যাকাল্টি তে ডাইভার্সিটি বলতে বোঝায় নন-হোয়াইট পুরুষ অথবা সাদা মহিলা ফ্যাকাল্টি। ইন্টারসেকশনালিটি পর্যন্ত যেতে একাডেমিয়ার বহু, বহু দিন বাকি। তারপর বর্ণবাদ নিয়ে পড়তে শুরু করলাম, দেখলাম, কালোদের স্ট্রাগল আমাদের মত ইমিগ্র্যান্টদের চেয়ে বহু বহু গুণ কঠিন। ফলস্বরূপ কালোদের নিজেদের সার্কেলের বাইরে অন্য কমিউনিটির সমস্যা দেখার সময় বা সাধ্য নেই। আর সেখানেও কালো পুরুষদের থেকে কালো মহিলাদের স্ট্রাগল আলাদা। আর হিজাবি যদি বলি, আমি রীতিমত হিজাব পরে এমন মেয়েদের লিঙ্কডইন এ ট্র্যাক করে খুঁজতাম। এখানে বলে নেয়া প্রয়োজন, হিজাব দিয়ে আমি কারও রেলিজিয়সিটি বিচার করছিনা। হিজাব হচ্ছে মুসলিম হিসেবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সবচেয়ে সহজ পথ। প্রতিকূল পরিবেশে (for example, after 9/11), কেউ হিজাব টাকে বেছে নেন বাইরে বের হওয়াটাকে ছাড় দিয়ে, কেউ বাইরে বের হওয়াটাকে বেছে নেন, হিজাবটাকে ছাড় দিয়ে। যারা দুটোই একসাথে করতে চান তাদের এত বড় দেশটাতে হারিকেন দিয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর ছিল।
Until I found Linda Sarsour: ট্রাম্প অভিষেকের পরের দিন ৪ মিলিয়ন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে যিনি বলেন, "I stand here before you, unapologetically Muslim American, unapologetically Palestinian American" (12). Her speech has a lasting impact on me. Thanks to all of them, finally I found people to look up to with my intersectional identities.
1. https://www.tahanieforda.com/
2. https://votemoumita.com/
3. https://www.cnbc.com/2020/10/24/how-amazon-prevents-unions-by-surveilling-employee-activism.html
4. https://en.wikipedia.org/wiki/Angolan_Civil_War
5. https://omar.house.gov/
6. https://www.ywboston.org/2017/03/what-is-intersectionality-and-what-does-it-have-to-do-with-me/
7. This is what America looks like: book by Ilhan Omar
8. https://www.shahanafrombk.com/
9. https://en.wikipedia.org/wiki/Linda_Sarsour
10. https://leanin.org/
11. https://www.ted.com/talks/anne_marie_slaughter_can_we_all_have_it_all?language=en
12. https://www.youtube.com/watch?v=DnaT8JxUTY0
No comments:
Post a Comment