আমি কিছুদিন আগে আমাদের স্টাডি সার্কেলে সূরা ইখলাস আলোচনা করার দায়িত্ব পেয়েছিলাম। সূরা ইখলাস কুরআনের এক তৃতীয়াংশ - এটা হজম করতে আমার খুবই কষ্ট হত, আমার ক্ষুদ্র মস্তিষ্কে কিছুতেই ধরত না, চার লাইনের এক সূরা, যেটা এক নিঃশ্বাসে বলে বিশ সেকেন্ডের মধ্যে রূকু তে চলে যাওয়া যায় - তা কী করে এত ভারি হয়?
সূরা ইখলাস যে কতটা আশ্চর্যকর, কত...টা তা আবিষ্কার করার পর আমার মাথা কিছুক্ষণ ঝিমঝিম করছিল। এই সূরার নামকরণই একটা বিস্ময়। এর নাম ইখলাস, অর্থাৎ sincerity. একটা উপদেশনামায় sincerity নামে চ্যাপ্টার পেলে তাতে কী বক্তব্য থাকা স্বাভাবিক? "ভাল থাক, ভাল কাজ কর, সদা সত্য কথা বল" - এসব ত? ঠিক সূরা আসরে যেমন আছে, (বিশ্বাস কর, ভাল কাজ কর, ধৈর্য ও সততার সাথে অন্যদের ভাল কাজের উপদেশ দাও....) এসব থাকলেই ত মানাত বেশ। তা না করে আল্লাহ নিজের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা দিলেন যে সূরায়, তার নাম দিলেন 'ইখলাস'; কেন? মানে টা কী?
তার পরের বিস্ময় ছিল আমার জন্য, এক তৃতীয়াংশর হাদীস টা। আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, এক লোক নাকি সারা রাত নামাযে কেবলমাত্র 'ক্বুল হুয়া আল্লাহু আহাদ' পড়েছে, তা শুনে রাসুলুল্লাহ (স) শপথ করে বলেছেন, এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশ। এখানে লক্ষ্যণীয়, লোকটা কেবলমাত্র একটা আয়াত পড়েছে, পুরো সূরাটাও না। রাসুলুল্লাহ আরেক হাদীসে বলেছেন,
'inna 'ala kuli shay'in noor , wa noor-ul Qur'ani; Qul huwwa Allahu ahad. '
'surely, for every thing is light, and the light of the Qur'an is; Say, He is Allah, the One'
কুরআনের আলো জানার আগে এ সূরা নাযিলের প্রেক্ষাপট আর তাওহীদ সম্পর্কে কিছুটা জানতে হবে। তাওহীদ তিন প্রকার, খুব সংক্ষেপে এই -
১. তাওহীদ আর রুবুবিয়্যাহ (রব হিসেবে আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করা) 'রব' হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। লালন পালন, ভরণ পোষণ, ভূত ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনা করা সহ সামগ্রিক দেখভাল যিনি করেন, তিনিই রব হতে পারেন। আমাদের বাবা মাও এক অর্থে আমাদের রব। কিন্তু তাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। উনারা ভবিষ্যৎ দেখতে পান না। খাবার কেনার ক্ষমতা তাঁদের আছে, কিন্তু খাবার সৃষ্টি করার ক্ষমতা তাঁদের নেই। তাই সবকিছু মিলে 'দি রব' হচ্ছেন আল্লাহ। আর এটাকে বিশ্বাস করাই তাওহীদ আর রুবুবিয়্যাহ।
২. তাওহীদ আল উলুহিয়্যাহ (ইলাহ হিসেবে আল্লাহর একত্ববাদ) যে কোন সমাজই শান্তিতে টিকে থাকার জন্য তার সদস্যদের উপর কিছু নিয়ম কানুন আরোপ করে। সমাজের সদস্যরা দল মত নির্বিশেষে তা মেনে চলে। এই যে একটা মানার ব্যাপার, নিজের একটা বোধ থেকে, যে এটা মানলে সব মিলিয়ে আমার জন্য ভালই হবে - এই বোধ থেকে নিজের ছন্নছাড়া ইচ্ছাগুলোকে বাঁধ মানানো - এই সাবমিশনের ব্যাপারটাই ইবাদত। যার নির্দেশ মানছি, সে হয়ে যাচ্ছে আমার ইলাহ। তাওহীদ আল উলুহিয়্যাহ আমাদের শিক্ষা দেয়, আমাদের আল্টিমেট ইলাহ হচ্ছে আল্লাহ। অর্থাৎ অন্য কারো বেঁধে দেয়া নিয়ম যদি আল্লাহর বেঁধে দেয়া নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে আল্লাহর নিয়মটাই আমাদের বেছে নিতে হবে। এমনকি তা যদি বাবা মায়ের থেকে হয়, তবুও।
৩. তাওহীদ আল আসমা ওয়া আস সিফাত (আল্লাহর নাম ও গুণবাচক বিশেষণের স্বাতন্ত্র্যের প্রতি বিশ্বাস) আল্লাহর অনেক গুণবাচক নাম, আল্লাহকে চেনার জন্য কুরআনে প্রতি তিন চার আয়াত পর পর আল্লাহর সম্পর্কে একটা কিছু লেখা। কুরআনে লেখা, তা ত আর মিথ্যা বা কাল্পনিক হতে পারে না, অতএব আল্লাহর প্রতিটা নাম ও গুণকে অন্তর থেকে বিশ্বাস করা এই তাওহীদের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া একই গুণ যদি আমরা মানুষের মধ্যে পাই তবু জানব আল্লাহর এই গুণ স্বতন্ত্র, কারণ এর কোন আদি অন্ত নেই, আর আল্লাহকে এই গুণ কেউ দিয়ে দেয়নি, কিন্তু মানুষকে এই গুণ দিয়েছে আল্লাহ।
যাই হোক, বলছিলাম ক্বুল হুয়া আল্লাহু আহাদ এর কথা। রাসুলুল্লাহ (স) যখন তাওহীদের কথা প্রচার করতে থাকলেন, যে গড বা ঈশ্বর একজনই, তখন কুরাইশদের মধ্যে কেউ কেউ জানতে চায়, তোমার গড কেমন? আমাদের লাত উজ্জা ত সোনা রূপার তৈরি, তোমার গড কীসের তৈরি? সে দেখতে কেমন? তখন আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (স) এর কাছে ওহী পাঠান, 'বল, তিনি আল্লাহ, তার মত কেউ নেই।' একটা বাক্যের অবতারণা যখন হয় 'সে' বা 'তিনি' দিয়ে, তখন বুঝতে হবে, বাক্যের আলোচ্য ব্যক্তিটি আগে থেকেই শ্রোতাদের পরিচিত। এখানে কুরাইশরা জানতে চেয়েছে তোমার 'গড' টা কে বা কী? রাসুলুল্লাহ বলেছেন, 'তিনি হচ্ছেন আল্লাহ, আহাদ।' এই তিনি দিয়ে রাসুলুল্লাহ (স) নির্দেশ করেছেন তাঁর ঈশ্বর কে। এই পুরো 'তিনি হচ্ছেন আল্লাহ, আহাদ' - বাক্যটা সাক্ষ্য দিচ্ছে যে আল্লাহই রাসুলুল্লাহ (স) এর একমাত্র রব। আর এটাই তাওহীদ আর রুবুবিয়্যাহ এর শিক্ষা।
পরের শব্দ 'আল্লাহু', আরবি ব্যকরণবিদরা এখনও নিশ্চিত হতে পারেন নি 'আল্লাহ' কি একটা বিশেষ্য না বিশেষণ, আল্লাহ কি শুধুই একটা নাম, নাকি একে ভেঙে 'আল ইলাহ' বানানো যাবে। দুটো মতবাদই এখন পর্যন্ত গ্রহণীয়, তাই এই একটা বাক্য আল্লাহর নাম, আর আল্লাহর গুণ - দু'টোই প্রকাশ করছে। যেমন 'তোমার গড কে?' উত্তর 'তিনি হচ্ছেন আল্লাহ', আবার 'তোমার গডের সম্পর্কে কিছু বল' এর উত্তরও 'তিনি হচ্ছেন আল্লাহ।' অর্থাৎ আল ইলাহ বা একমাত্র উপাস্য, আমি যার ইবাদত করি। (তাওহীদ আল উলুহিয়্যাহ)
আয়াতের সর্বশেষ শব্দ, 'আহাদ' মানে কেবল সংখ্যায় এক নয়, ইউনিক, এর মত কোন কিছু কোথাও পাওয়া যাবেনা, একটাই, মাস্টারপিস। এমন একটা কিছু, যার উৎস জানা নেই, যার সমকক্ষ, বা সমমানের কোন কিছু নেই। এই 'আহাদ' শব্দটা থেকেই নিশ্চিত হয়ে যায় আল্লাহর কোন জনক নেই, বা তাঁর কোন সন্তান নেই। তাঁর সমকক্ষ নেই, তার মানে তিনি স্ত্রী বা সহযোগীও গ্রহণ করেন নি। পুরোপুরিই অদ্বিতীয়।
এইবার সূরা ইখলাস এর পরের আয়াতগুলো পড়ে দেখুন। নতুন কিছু পেলেন কি?
আল্লাহ এই সূরা শুরু করেছেন 'বল', এই নির্দেশ দিয়ে। কাকে বলতে বলেছেন? যার প্রতি নাযিল হয়েছিল, তিনি নিজেও জানতেন না আল্লাহর স্বরূপ। তাই আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে হবে নিজেরই উপরে সর্বপ্রথম। নিজেকে 'তিনি আল্লাহ, আহাদ' এর মর্মার্থ হৃদয়ঙ্গম করাতে হবে। তারপর আল্লাহর নির্দেশে এই বার্তা ছড়াতে হবে অন্যদের মাঝেও। এখন তাওহীদের বাণী নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করে এবং অন্যদের দাওয়াত দিতে থাকলে দ্বীনের প্রতি আপনার সততা প্রমাণিত হবেই। তাছাড়া আমরা যখন মনে প্রাণে কৃতজ্ঞচিত্তে বিশ্বাস করব আমাদের সব কিছু দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন আল্লাহ, আমাদের ইবাদতের একমাত্র দাবিদার আল্লাহ, এবং তাঁর সমকক্ষ বা সাহায্যকারি কেউ নেই, যাকে ধরে শেষ বিচারের দিনে পার পেয়ে যেতে পারি, তখন দৈনন্দিন কাজে ফাঁকি দেয়ার কি আর কোন উপায় থাকবে?
এ জন্য এই সূরার নাম sincerity? ও!
সূরা ইখলাস যে কতটা আশ্চর্যকর, কত...টা তা আবিষ্কার করার পর আমার মাথা কিছুক্ষণ ঝিমঝিম করছিল। এই সূরার নামকরণই একটা বিস্ময়। এর নাম ইখলাস, অর্থাৎ sincerity. একটা উপদেশনামায় sincerity নামে চ্যাপ্টার পেলে তাতে কী বক্তব্য থাকা স্বাভাবিক? "ভাল থাক, ভাল কাজ কর, সদা সত্য কথা বল" - এসব ত? ঠিক সূরা আসরে যেমন আছে, (বিশ্বাস কর, ভাল কাজ কর, ধৈর্য ও সততার সাথে অন্যদের ভাল কাজের উপদেশ দাও....) এসব থাকলেই ত মানাত বেশ। তা না করে আল্লাহ নিজের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা দিলেন যে সূরায়, তার নাম দিলেন 'ইখলাস'; কেন? মানে টা কী?
তার পরের বিস্ময় ছিল আমার জন্য, এক তৃতীয়াংশর হাদীস টা। আবু সাইদ খুদরি থেকে বর্ণিত, এক লোক নাকি সারা রাত নামাযে কেবলমাত্র 'ক্বুল হুয়া আল্লাহু আহাদ' পড়েছে, তা শুনে রাসুলুল্লাহ (স) শপথ করে বলেছেন, এটি কুরআনের এক তৃতীয়াংশ। এখানে লক্ষ্যণীয়, লোকটা কেবলমাত্র একটা আয়াত পড়েছে, পুরো সূরাটাও না। রাসুলুল্লাহ আরেক হাদীসে বলেছেন,
'inna 'ala kuli shay'in noor , wa noor-ul Qur'ani; Qul huwwa Allahu ahad. '
'surely, for every thing is light, and the light of the Qur'an is; Say, He is Allah, the One'
কুরআনের আলো জানার আগে এ সূরা নাযিলের প্রেক্ষাপট আর তাওহীদ সম্পর্কে কিছুটা জানতে হবে। তাওহীদ তিন প্রকার, খুব সংক্ষেপে এই -
১. তাওহীদ আর রুবুবিয়্যাহ (রব হিসেবে আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করা) 'রব' হওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। লালন পালন, ভরণ পোষণ, ভূত ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনা করা সহ সামগ্রিক দেখভাল যিনি করেন, তিনিই রব হতে পারেন। আমাদের বাবা মাও এক অর্থে আমাদের রব। কিন্তু তাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। উনারা ভবিষ্যৎ দেখতে পান না। খাবার কেনার ক্ষমতা তাঁদের আছে, কিন্তু খাবার সৃষ্টি করার ক্ষমতা তাঁদের নেই। তাই সবকিছু মিলে 'দি রব' হচ্ছেন আল্লাহ। আর এটাকে বিশ্বাস করাই তাওহীদ আর রুবুবিয়্যাহ।
২. তাওহীদ আল উলুহিয়্যাহ (ইলাহ হিসেবে আল্লাহর একত্ববাদ) যে কোন সমাজই শান্তিতে টিকে থাকার জন্য তার সদস্যদের উপর কিছু নিয়ম কানুন আরোপ করে। সমাজের সদস্যরা দল মত নির্বিশেষে তা মেনে চলে। এই যে একটা মানার ব্যাপার, নিজের একটা বোধ থেকে, যে এটা মানলে সব মিলিয়ে আমার জন্য ভালই হবে - এই বোধ থেকে নিজের ছন্নছাড়া ইচ্ছাগুলোকে বাঁধ মানানো - এই সাবমিশনের ব্যাপারটাই ইবাদত। যার নির্দেশ মানছি, সে হয়ে যাচ্ছে আমার ইলাহ। তাওহীদ আল উলুহিয়্যাহ আমাদের শিক্ষা দেয়, আমাদের আল্টিমেট ইলাহ হচ্ছে আল্লাহ। অর্থাৎ অন্য কারো বেঁধে দেয়া নিয়ম যদি আল্লাহর বেঁধে দেয়া নিয়মের সাথে সাংঘর্ষিক হয়, তাহলে আল্লাহর নিয়মটাই আমাদের বেছে নিতে হবে। এমনকি তা যদি বাবা মায়ের থেকে হয়, তবুও।
৩. তাওহীদ আল আসমা ওয়া আস সিফাত (আল্লাহর নাম ও গুণবাচক বিশেষণের স্বাতন্ত্র্যের প্রতি বিশ্বাস) আল্লাহর অনেক গুণবাচক নাম, আল্লাহকে চেনার জন্য কুরআনে প্রতি তিন চার আয়াত পর পর আল্লাহর সম্পর্কে একটা কিছু লেখা। কুরআনে লেখা, তা ত আর মিথ্যা বা কাল্পনিক হতে পারে না, অতএব আল্লাহর প্রতিটা নাম ও গুণকে অন্তর থেকে বিশ্বাস করা এই তাওহীদের অন্তর্ভুক্ত। তাছাড়া একই গুণ যদি আমরা মানুষের মধ্যে পাই তবু জানব আল্লাহর এই গুণ স্বতন্ত্র, কারণ এর কোন আদি অন্ত নেই, আর আল্লাহকে এই গুণ কেউ দিয়ে দেয়নি, কিন্তু মানুষকে এই গুণ দিয়েছে আল্লাহ।
যাই হোক, বলছিলাম ক্বুল হুয়া আল্লাহু আহাদ এর কথা। রাসুলুল্লাহ (স) যখন তাওহীদের কথা প্রচার করতে থাকলেন, যে গড বা ঈশ্বর একজনই, তখন কুরাইশদের মধ্যে কেউ কেউ জানতে চায়, তোমার গড কেমন? আমাদের লাত উজ্জা ত সোনা রূপার তৈরি, তোমার গড কীসের তৈরি? সে দেখতে কেমন? তখন আল্লাহ রাসুলুল্লাহ (স) এর কাছে ওহী পাঠান, 'বল, তিনি আল্লাহ, তার মত কেউ নেই।' একটা বাক্যের অবতারণা যখন হয় 'সে' বা 'তিনি' দিয়ে, তখন বুঝতে হবে, বাক্যের আলোচ্য ব্যক্তিটি আগে থেকেই শ্রোতাদের পরিচিত। এখানে কুরাইশরা জানতে চেয়েছে তোমার 'গড' টা কে বা কী? রাসুলুল্লাহ বলেছেন, 'তিনি হচ্ছেন আল্লাহ, আহাদ।' এই তিনি দিয়ে রাসুলুল্লাহ (স) নির্দেশ করেছেন তাঁর ঈশ্বর কে। এই পুরো 'তিনি হচ্ছেন আল্লাহ, আহাদ' - বাক্যটা সাক্ষ্য দিচ্ছে যে আল্লাহই রাসুলুল্লাহ (স) এর একমাত্র রব। আর এটাই তাওহীদ আর রুবুবিয়্যাহ এর শিক্ষা।
পরের শব্দ 'আল্লাহু', আরবি ব্যকরণবিদরা এখনও নিশ্চিত হতে পারেন নি 'আল্লাহ' কি একটা বিশেষ্য না বিশেষণ, আল্লাহ কি শুধুই একটা নাম, নাকি একে ভেঙে 'আল ইলাহ' বানানো যাবে। দুটো মতবাদই এখন পর্যন্ত গ্রহণীয়, তাই এই একটা বাক্য আল্লাহর নাম, আর আল্লাহর গুণ - দু'টোই প্রকাশ করছে। যেমন 'তোমার গড কে?' উত্তর 'তিনি হচ্ছেন আল্লাহ', আবার 'তোমার গডের সম্পর্কে কিছু বল' এর উত্তরও 'তিনি হচ্ছেন আল্লাহ।' অর্থাৎ আল ইলাহ বা একমাত্র উপাস্য, আমি যার ইবাদত করি। (তাওহীদ আল উলুহিয়্যাহ)
আয়াতের সর্বশেষ শব্দ, 'আহাদ' মানে কেবল সংখ্যায় এক নয়, ইউনিক, এর মত কোন কিছু কোথাও পাওয়া যাবেনা, একটাই, মাস্টারপিস। এমন একটা কিছু, যার উৎস জানা নেই, যার সমকক্ষ, বা সমমানের কোন কিছু নেই। এই 'আহাদ' শব্দটা থেকেই নিশ্চিত হয়ে যায় আল্লাহর কোন জনক নেই, বা তাঁর কোন সন্তান নেই। তাঁর সমকক্ষ নেই, তার মানে তিনি স্ত্রী বা সহযোগীও গ্রহণ করেন নি। পুরোপুরিই অদ্বিতীয়।
এইবার সূরা ইখলাস এর পরের আয়াতগুলো পড়ে দেখুন। নতুন কিছু পেলেন কি?
আল্লাহ এই সূরা শুরু করেছেন 'বল', এই নির্দেশ দিয়ে। কাকে বলতে বলেছেন? যার প্রতি নাযিল হয়েছিল, তিনি নিজেও জানতেন না আল্লাহর স্বরূপ। তাই আল্লাহর নির্দেশ পালন করতে হবে নিজেরই উপরে সর্বপ্রথম। নিজেকে 'তিনি আল্লাহ, আহাদ' এর মর্মার্থ হৃদয়ঙ্গম করাতে হবে। তারপর আল্লাহর নির্দেশে এই বার্তা ছড়াতে হবে অন্যদের মাঝেও। এখন তাওহীদের বাণী নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করে এবং অন্যদের দাওয়াত দিতে থাকলে দ্বীনের প্রতি আপনার সততা প্রমাণিত হবেই। তাছাড়া আমরা যখন মনে প্রাণে কৃতজ্ঞচিত্তে বিশ্বাস করব আমাদের সব কিছু দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন আল্লাহ, আমাদের ইবাদতের একমাত্র দাবিদার আল্লাহ, এবং তাঁর সমকক্ষ বা সাহায্যকারি কেউ নেই, যাকে ধরে শেষ বিচারের দিনে পার পেয়ে যেতে পারি, তখন দৈনন্দিন কাজে ফাঁকি দেয়ার কি আর কোন উপায় থাকবে?
এ জন্য এই সূরার নাম sincerity? ও!