ইরার দু'টো বন্ধু আছে। একজনের নাম বঙ্কু আরেকটার নাম ছুঁচো। ইরার বয়স যখন পাঁচ, তখন একদিন টেবিলের উপর চকলেটের প্যাকেট দেখে কে যেন বলে ওঠে, 'কী মজা! সব খেয়ে ফেলব! ইয়াম ইয়াম!!' সাথে সাথে আরেকজন বলে, 'না! মামনি বলেছে বেশি চকলেট খেলে দাঁতে পোকা হয়, পেট ব্যথা করে... মামনি না বললে চকলেট খাইনা।' তারপর দু'জন ঝগড়া করতে থাকে। ইরা বড় হতে হতে বুঝে, ওর এক বন্ধু শুধু বকাঝকা করে, তাই ওর নাম দিয়েছে বঙ্কু। আরেকজন চকলেট, ফাস্ট ফুড, কার্টুন - যা পায় তাই খেতে চায়, তাই ওর নাম ছুঁচো।
ইরা এখন অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। পড়াশুনা শেষ করে চাকরি করে। বঙ্কু আর ছুঁচোও বড় হয়েছে ওর সাথে সাথে, কিন্তু ওদের ঝগড়া থামেনি। এই যেমন সেদিন, মতিঝিল থেকে বের হয়ে শাহবাগ এ আসার জন্য রিকশায় ওঠে, রিকশাওলা বলে বসে তাকে চল্লিশ টাকা দিতে হবে। ইরার মাথায় রক্ত চড়ে যায়। ছুঁচো বলতে থাকে, 'ফাইজলামির আর জায়গা পায়না? একটা কষে চড় দেয়া দরকার। দাও ত ইরা, আচ্ছাসে গালি কয়েকটা!!' বঙ্কু বলে, 'না না.. কিছু করার দরকার নাই। সুন্দর করে কথা বল, বল, চল্লিশ টাকা অনেক বেশি, তুমি পঁচিশ টাকা দেবে।' ইরা সেদিন ছুঁচোর কথাই শোনে। অনেক চেঁচামেচি করে রিকশা থেকে নেমে যায়। তবে, মাঝে মধ্যে মনে হয়, সেদিন বঙ্কুর কথা শুনলেই ভাল হত।
ইরার এখন নতুন সংসার হয়েছে। আরিব বেশ আধুনিক মনের ছেলে। তারা মন খুলে কথা বলতে পারে, ইরার কখনও ভয় করে না, 'আমি এটা বললে ও কী ভাববে', তাই কখনও মনোমালিন্য হলে ইরা জানে, যুক্তি দিয়ে বোঝাতে পারলে আরিব ঠিকই বুঝবে। সেজন্য ঝগড়া হলেও, একটা সময় সেটা কোন সিদ্ধান্তে এসে তবেই থামে। রাগ, অভিমান নিয়ে শীতল যুদ্ধে এসে আটকে যায় না।
সেদিন অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে হতে ইরা শুনতে পেল আরিব বাসায় কথা বলছে, ফোন রাখার পর আরিব কে একটু চিন্তিত মনে হল। 'কী ব্যাপার? কোন খারাপ খবর নাকি?' 'নাআ.. খারাপ খবর না, একটু সমস্যা।' 'কী সমস্যা?' 'আফিয়ার হাজবেন্ড জমি কিনবে, পার্টনার রা সহ ব্যবসা করার জন্য, আমার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার চাইছে। পরে কথা বলব, আমি যাই, দেরি হয়ে যাচ্ছে'
ইরাকে একরাশ এলোমেলো চিন্তার মধ্যে ডুবিয়ে দিয়ে আরিব অফিসের জন্য বের হয়ে গেল। আফিয়া ইরার ননদ, নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে চাওয়ায় বাসায় খুব আপত্তি করে, ছেলের আর্থিক অবস্থা ভাল না। আরিবই তখন নিজে দায়িত্ব নিয়ে ওর বিয়ে দেয়। ছেলেটা ভাল, দায়িত্বশীল। কিন্তু এই মুহূর্তে ধার নিয়ে শোধ করার মত অবস্থা ওর নেই। আপাতত টাকা দেয়া মানে দিয়ে দেয়াই।
এধরণের সমস্যায় বঙ্কু আর ছুঁচো খুব বাচাল হয়ে যায়। আফিয়া তার মাথার ভেতর ছুঁচোর বকবকানি শুনতে শুনতে অফিসে যেতে থাকে।
'পাঁ..চ লা..খ টাকা! এইটা কোন কথা? ব্যাঙ্কে সাকুল্যে জমেছে সাড়ে চার লাখ টাকা। ওকে দিয়ে দিলে ত আর কিছুই থাকে না। আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ আছে না? বিপদ আপদ কত কিছু আসতে পারে। আর টাকাটা কি একা আরিবের নাকি? আমরা দুইজন মিলে জমিয়েছি। ওর বোনকে আমার টাকা দিব কেন? না না... এসব হবে না। আরিব কে আমি বাসায় গিয়ে বলব ও নিজেরটা থেকে দিলে দিবে, আমার টাকায় যেন হাত না দেয়। আর এইটা কী? আফিয়ার আক্কেল জ্ঞান নেই? কী বুঝে এরকম আব্দার করে বসে? আমাদের টাকা কি আকাশ থেকে আসে? আর একবার শুরু করলে এর কোন শেষ নাই। চাইতেই থাকবে। যা বলার এখনই ক্লিয়ার করে ফেলা উচিৎ, দেখ বাপু! বাবা মাকে বোঝানোর জন্য যা করা দরকার করেছি। এখন নিজের টা নিজে দেখ। ওসব ধার ফার দিতে পারবনা। আরিবের বেশি খারাপ লাগলে পঞ্চাশ হাজার টাকা সাহায্য হিসেবে দিক, এর বেশি এক পাই পয়সাও না।'
ইরার মুখে চোখেও বেশ একটা বিরক্তির ছাপ পড়ে। অফিসে পৌঁছে একটা হিসাব ভুল দেখে অধস্তন কর্মচারী কে আচ্ছাসে বকে মেজাজটা একটু শান্ত হয়।
লাঞ্চ টাইমে নামাজ পড়ে একটু চোখ বন্ধ করে। শুনতে পায় বঙ্কুর কণ্ঠ -
'ইরা! ইতু কেমন আছে?'
ইরা জবাব দেয়, হুঁ, ভাল ত। অনার্স শেষ হবে কিছুদিন পর।
'ইতুর জন্য মায়া লাগে না?'
হ্যা.... খুব!
'ওর কোন কষ্ট আসলে ওকে সাপোর্ট দেবে না?'
দেব না মানে? বুকে করে রাখব। আমার আদরের ছোট্ট বোন টা!
আফিয়াও ত ছোট্ট বোন, তাই না?
ঝট্ করে চোখ খুলে গেল ইরার। সকাল থেকে পুরো ঘটনাটা সে রিওয়াইন্ড করে দেখতে থাকল। শুধু আরিবের জায়গায় নিজেকে, আর আফিয়ার জায়গায় ইতুকে বসিয়ে। ঝর ঝর করে চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকল। এসব কী ভাবছিল সে? যদি আরিব কে বলে বসত সব? কী হত? বঙ্কু আবার কথা বলে উঠল,
কী? দেবে টাকা?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
তুমি কিন্তু এখনও ইমোশনাল, ইরা! একটু চিন্তা করে দেখ ত, ব্যাঙ্ক খালি করে একজনকে সব টাকা দিয়ে দেয়া কোন ভাল বুদ্ধি কী না! ছুঁচো কিন্তু খারাপ কথা বলে নি, তোমাদের সমস্যা আসলে টাকা কোথায় পাবে?
তাই ত! তাহলে কি দিব না?
তুমি চিন্তা করে দেখ।
বিকেলে ফেরার পথে ইরা খুব করে চিন্তা করল। খুব করে।
রাতে খাওয়ার টেবিলে আরিব বেশ চুপচাপ। বোঝা যাচ্ছে, ও ও সিদ্ধান্ত নিতে ইতস্ততঃ করছে। বা হয়ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইরা কীভাবে নেবে সেই চিন্তা করে বলতে দ্বিধা করছে। ইরাই মুখ খুলল -
'আফিয়ার ব্যাপারটা চিন্তা করলাম, বুঝছ?'
'হুম'
'দেখ, তুমি ওর একমাত্র বড় ভাই। বাবা ত বিয়ের সময়ই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তাই অভিভাবক বলতে এখন তুমিই। তুমি সব দায়িত্ব নিয়ে ওকে বিয়ে দিয়েছ, এই বলে, যে ও এখানে সুখে থাকবে। তুমি সাহায্য না করলে ওর আজকে হয়ত বাবার পছন্দ অনুযায়ী খুব বড়লোকের সাথে বিয়ে হত, হত না?'
'হুঁ'
'ত, তোমার বোনকে ত তুমি এই অবস্থায় ছেড়ে যেতে পার না। ওরা যেন দাঁড়িয়ে যায় সেটা নিশ্চিত করা অবশ্যই তোমার উচিৎ।'
'না, আমার ত ইচ্ছা করেই ওকে হেল্প করতে। কিন্তু আমাদের টাকা কোথায়?'
'তুমি রিজভীর সাথে কথা বল, দেখ, তিন লাখ এর মত দিলে বাকিটা ম্যানেজ করতে পারবে কি না।'
'দুপুরেই বলেছি, ও আরও দশ লাখ ব্যাংক থেকে লোন নিচ্ছে'
'ঠিক আছে, তুমি একাউন্ট থেকে তিন লাখ এর মত দাও, বাকি দুই লাখ আমি ম্যানেজ করে দিব।'
'তুমি কোত্থেকে ম্যানেজ করবে?'
'বাহ! আমার বিয়ের গয়না আছে না? আমি গয়না পরি? একটা এখন ছেড়ে দেই, পরে আল্লাহ দিলে অনেক হবে।'
আরিব কোন কথা না বলে চুপচাপ খেতে থাকে। ওর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে, ভাবে আল্লাহ এই মেয়েটিকে বোধহয় খাঁটি হীরে দিয়ে বানিয়েছেন, তাই টাকা, অলংকার - কোন কিছুই ওর গায়ে লাগে না।
ইরাও চুপচাপ খেতে থাকে, আর মনে মনে বলে, 'বঙ্কু, আমাকে কখনও ছেড়ে যেও না।'
ইরা এখন অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। পড়াশুনা শেষ করে চাকরি করে। বঙ্কু আর ছুঁচোও বড় হয়েছে ওর সাথে সাথে, কিন্তু ওদের ঝগড়া থামেনি। এই যেমন সেদিন, মতিঝিল থেকে বের হয়ে শাহবাগ এ আসার জন্য রিকশায় ওঠে, রিকশাওলা বলে বসে তাকে চল্লিশ টাকা দিতে হবে। ইরার মাথায় রক্ত চড়ে যায়। ছুঁচো বলতে থাকে, 'ফাইজলামির আর জায়গা পায়না? একটা কষে চড় দেয়া দরকার। দাও ত ইরা, আচ্ছাসে গালি কয়েকটা!!' বঙ্কু বলে, 'না না.. কিছু করার দরকার নাই। সুন্দর করে কথা বল, বল, চল্লিশ টাকা অনেক বেশি, তুমি পঁচিশ টাকা দেবে।' ইরা সেদিন ছুঁচোর কথাই শোনে। অনেক চেঁচামেচি করে রিকশা থেকে নেমে যায়। তবে, মাঝে মধ্যে মনে হয়, সেদিন বঙ্কুর কথা শুনলেই ভাল হত।
ইরার এখন নতুন সংসার হয়েছে। আরিব বেশ আধুনিক মনের ছেলে। তারা মন খুলে কথা বলতে পারে, ইরার কখনও ভয় করে না, 'আমি এটা বললে ও কী ভাববে', তাই কখনও মনোমালিন্য হলে ইরা জানে, যুক্তি দিয়ে বোঝাতে পারলে আরিব ঠিকই বুঝবে। সেজন্য ঝগড়া হলেও, একটা সময় সেটা কোন সিদ্ধান্তে এসে তবেই থামে। রাগ, অভিমান নিয়ে শীতল যুদ্ধে এসে আটকে যায় না।
সেদিন অফিসে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে হতে ইরা শুনতে পেল আরিব বাসায় কথা বলছে, ফোন রাখার পর আরিব কে একটু চিন্তিত মনে হল। 'কী ব্যাপার? কোন খারাপ খবর নাকি?' 'নাআ.. খারাপ খবর না, একটু সমস্যা।' 'কী সমস্যা?' 'আফিয়ার হাজবেন্ড জমি কিনবে, পার্টনার রা সহ ব্যবসা করার জন্য, আমার থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার চাইছে। পরে কথা বলব, আমি যাই, দেরি হয়ে যাচ্ছে'
ইরাকে একরাশ এলোমেলো চিন্তার মধ্যে ডুবিয়ে দিয়ে আরিব অফিসের জন্য বের হয়ে গেল। আফিয়া ইরার ননদ, নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করতে চাওয়ায় বাসায় খুব আপত্তি করে, ছেলের আর্থিক অবস্থা ভাল না। আরিবই তখন নিজে দায়িত্ব নিয়ে ওর বিয়ে দেয়। ছেলেটা ভাল, দায়িত্বশীল। কিন্তু এই মুহূর্তে ধার নিয়ে শোধ করার মত অবস্থা ওর নেই। আপাতত টাকা দেয়া মানে দিয়ে দেয়াই।
এধরণের সমস্যায় বঙ্কু আর ছুঁচো খুব বাচাল হয়ে যায়। আফিয়া তার মাথার ভেতর ছুঁচোর বকবকানি শুনতে শুনতে অফিসে যেতে থাকে।
'পাঁ..চ লা..খ টাকা! এইটা কোন কথা? ব্যাঙ্কে সাকুল্যে জমেছে সাড়ে চার লাখ টাকা। ওকে দিয়ে দিলে ত আর কিছুই থাকে না। আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ আছে না? বিপদ আপদ কত কিছু আসতে পারে। আর টাকাটা কি একা আরিবের নাকি? আমরা দুইজন মিলে জমিয়েছি। ওর বোনকে আমার টাকা দিব কেন? না না... এসব হবে না। আরিব কে আমি বাসায় গিয়ে বলব ও নিজেরটা থেকে দিলে দিবে, আমার টাকায় যেন হাত না দেয়। আর এইটা কী? আফিয়ার আক্কেল জ্ঞান নেই? কী বুঝে এরকম আব্দার করে বসে? আমাদের টাকা কি আকাশ থেকে আসে? আর একবার শুরু করলে এর কোন শেষ নাই। চাইতেই থাকবে। যা বলার এখনই ক্লিয়ার করে ফেলা উচিৎ, দেখ বাপু! বাবা মাকে বোঝানোর জন্য যা করা দরকার করেছি। এখন নিজের টা নিজে দেখ। ওসব ধার ফার দিতে পারবনা। আরিবের বেশি খারাপ লাগলে পঞ্চাশ হাজার টাকা সাহায্য হিসেবে দিক, এর বেশি এক পাই পয়সাও না।'
ইরার মুখে চোখেও বেশ একটা বিরক্তির ছাপ পড়ে। অফিসে পৌঁছে একটা হিসাব ভুল দেখে অধস্তন কর্মচারী কে আচ্ছাসে বকে মেজাজটা একটু শান্ত হয়।
লাঞ্চ টাইমে নামাজ পড়ে একটু চোখ বন্ধ করে। শুনতে পায় বঙ্কুর কণ্ঠ -
'ইরা! ইতু কেমন আছে?'
ইরা জবাব দেয়, হুঁ, ভাল ত। অনার্স শেষ হবে কিছুদিন পর।
'ইতুর জন্য মায়া লাগে না?'
হ্যা.... খুব!
'ওর কোন কষ্ট আসলে ওকে সাপোর্ট দেবে না?'
দেব না মানে? বুকে করে রাখব। আমার আদরের ছোট্ট বোন টা!
আফিয়াও ত ছোট্ট বোন, তাই না?
ঝট্ করে চোখ খুলে গেল ইরার। সকাল থেকে পুরো ঘটনাটা সে রিওয়াইন্ড করে দেখতে থাকল। শুধু আরিবের জায়গায় নিজেকে, আর আফিয়ার জায়গায় ইতুকে বসিয়ে। ঝর ঝর করে চোখ দিয়ে পানি পড়তে থাকল। এসব কী ভাবছিল সে? যদি আরিব কে বলে বসত সব? কী হত? বঙ্কু আবার কথা বলে উঠল,
কী? দেবে টাকা?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
তুমি কিন্তু এখনও ইমোশনাল, ইরা! একটু চিন্তা করে দেখ ত, ব্যাঙ্ক খালি করে একজনকে সব টাকা দিয়ে দেয়া কোন ভাল বুদ্ধি কী না! ছুঁচো কিন্তু খারাপ কথা বলে নি, তোমাদের সমস্যা আসলে টাকা কোথায় পাবে?
তাই ত! তাহলে কি দিব না?
তুমি চিন্তা করে দেখ।
বিকেলে ফেরার পথে ইরা খুব করে চিন্তা করল। খুব করে।
রাতে খাওয়ার টেবিলে আরিব বেশ চুপচাপ। বোঝা যাচ্ছে, ও ও সিদ্ধান্ত নিতে ইতস্ততঃ করছে। বা হয়ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইরা কীভাবে নেবে সেই চিন্তা করে বলতে দ্বিধা করছে। ইরাই মুখ খুলল -
'আফিয়ার ব্যাপারটা চিন্তা করলাম, বুঝছ?'
'হুম'
'দেখ, তুমি ওর একমাত্র বড় ভাই। বাবা ত বিয়ের সময়ই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তাই অভিভাবক বলতে এখন তুমিই। তুমি সব দায়িত্ব নিয়ে ওকে বিয়ে দিয়েছ, এই বলে, যে ও এখানে সুখে থাকবে। তুমি সাহায্য না করলে ওর আজকে হয়ত বাবার পছন্দ অনুযায়ী খুব বড়লোকের সাথে বিয়ে হত, হত না?'
'হুঁ'
'ত, তোমার বোনকে ত তুমি এই অবস্থায় ছেড়ে যেতে পার না। ওরা যেন দাঁড়িয়ে যায় সেটা নিশ্চিত করা অবশ্যই তোমার উচিৎ।'
'না, আমার ত ইচ্ছা করেই ওকে হেল্প করতে। কিন্তু আমাদের টাকা কোথায়?'
'তুমি রিজভীর সাথে কথা বল, দেখ, তিন লাখ এর মত দিলে বাকিটা ম্যানেজ করতে পারবে কি না।'
'দুপুরেই বলেছি, ও আরও দশ লাখ ব্যাংক থেকে লোন নিচ্ছে'
'ঠিক আছে, তুমি একাউন্ট থেকে তিন লাখ এর মত দাও, বাকি দুই লাখ আমি ম্যানেজ করে দিব।'
'তুমি কোত্থেকে ম্যানেজ করবে?'
'বাহ! আমার বিয়ের গয়না আছে না? আমি গয়না পরি? একটা এখন ছেড়ে দেই, পরে আল্লাহ দিলে অনেক হবে।'
আরিব কোন কথা না বলে চুপচাপ খেতে থাকে। ওর চোখ ঝাপসা হয়ে আসে, ভাবে আল্লাহ এই মেয়েটিকে বোধহয় খাঁটি হীরে দিয়ে বানিয়েছেন, তাই টাকা, অলংকার - কোন কিছুই ওর গায়ে লাগে না।
ইরাও চুপচাপ খেতে থাকে, আর মনে মনে বলে, 'বঙ্কু, আমাকে কখনও ছেড়ে যেও না।'

