অপ্রিয় সত্যটাকে অস্বীকার না করেও কীভাবে ভাল দিকগুলো তুলে আনা যায় - সেটা বোঝাতেই এই সত্য/অর্ধসত্য/কাল্পনিক ঘটনাগুলোর অবতারণা
আরও একটা কর্মব্যস্ত দিন। অনিকের এখন ছুট.. ছুট... ছুট করে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল। কিন্তু সে অলস পড়ে আছে বিছানায়, জানালা দিয়ে আকাশ দেখছে। সামনের দিনগুলো কী হবে - কিছুই বলতে পারেনা।
অনিক ভাবতেও পারেনা দেড় বছর পর এক কথায় তাকে ল্যাব থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারে। তার শখের রিসার্চ, দেড় বছরের ডাটা - সব ফেলে দিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। অন্য কোন ল্যাবে গিয়ে ধর্ণা দিতে হবে, ওর কত প্রিয় ছিল এই কাজটা! কোন মুখে নতুন কোন ল্যাবে যাবে সে? নিশ্চয়ই পুরো ডিপার্টমেন্টে চাউর হয়ে গেছে, গত বছরের এই পিএইচডি স্টুডেন্টটা কিক্ আউট হয়েছে - সবাই কী ভাবছে.. সব শেষ হয়ে গেল... কীভাবে আবার শুরু করবে? পিএইচডির পাঁচ বছরের বেঁধে দেয়া সময়ে নতুন ল্যাবে ঢোকা, নতুন জিনিস নিয়ে আবার শিখতে শুরু করা, প্রজেক্ট গুছানো ... এত কিছু করে আদৌ কি সে আর শেষ করতে পারবে পিএইচডি? দেশে থাকা মায়ের মুখটা মনে পড়ে অনিকের। কী লজ্জা! কী লজ্জা!! কেউ নেই পাশে সাপোর্ট দেয়ার মত... কী অপ্রয়োজনীয়, অপদার্থ লাগছে! মাথা তুলে চারদিকে তাকাতেও লজ্জা, ঘেন্না হচ্ছে।
ল্যাবটার কথা বারবারই মনে পড়ে তার। কাজটা ভাল হলেও, ল্যাবের মানুষগুলোর আসলে সাথে কখনোই তার বনিবনা হয়নি। ওরা বেশ উন্নাসিক, আড়ালে একজন আরেকজনের নামে বাজে কথাও বলে। ওর সুপারভাইজর, ব্যস্ত মানুষ, তার সাথে কোন অন্তরঙ্গতাই হয়নি কখনো, তিনিও ল্যাবের পুরনোদের কথা বেশ গুরূত্ব দেন, যাচাই না করেই। ল্যাবের অনেকেই পুরনো ল্যাব মেম্বারদের তোয়াজ করে চলত। পুরো পরিবেশটাই ওর খুব বাজে লাগত। এমনকি কাজটা... কাজের ফিল্ডটা এক্সাইটিং হলেও, ওকে একই কাজ বারবার করতে হচ্ছিল, নতুন কিছু শিখছিল না, সুপারভাইজর নতুন কোন কাজ করতে খুব একটা উৎসাহও দিত না। কাজটাও এত গোলমেলে, ঠিকঠাক মত কোন রেজাল্ট পাওয়া যায় না।
নাহ! কাজটা যত সহজ আর আনন্দের মনে হত, আসলে ততটা ছিলনা, একই কাজ করতে করতে একঘেঁয়েমি পেয়ে বসত, তার উপর রেজাল্ট না পেলে হতাশ লাগত। তার উপর ল্যাবের মানুষগুলোর কারণে ওর ল্যাবের জন্য টানটাও ছিল না। মানুষ পিএইচডি করাকালে সুপারভাইজরের থেকে কত কিছু শেখে, ওর সুপারভাইজরের সময় কোথায়? সপ্তাহে দু'বার মিটিং ছাড়া আর কখনও তাকে দেখাই যায়না। আর তাকে সবাই এত ভয় পায়, যে সত্যিকারের মেন্টরশীপ আদৌ গড়ে উঠত কিনা সন্দেহ। যা হয়েছে ভালই হয়েছে, পাঁচ বছর এই বাজে পরিবেশে থাকতে হয়নি।
কিন্তু দেড় বছর যে নষ্ট হল? আর মোটে সাড়ে তিন বছরে নতুন কাজ খুঁজে শুরু করা, প্রথম থেকে? পারবে ত সে? ভাবতে ভাবতে তার মনে পড়ল, গত বছর একটা কোর্সে এক ফ্যাকাল্টি কে দেখে ওর ভাল লেগেছিল, ভদ্রলোক খুব অমায়িক, ওদের কাজগুলোও মজার। তাছাড়া সে ল্যাবে ওর খুব কাছের একজন বন্ধু কাজ করে, পড়াশুনার গ্যাপটা বন্ধুর সাথে আলোচনা করেও অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবে। তাছাড়া, সে বন্ধু সবসময় বলে ওদের ল্যাবে অনেক ফ্লেক্সিবিলিটি। সুপারভাইজরের নতুন নতুন কাজ করতে খুব উৎসাহ! চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কী?
ভাবতে ভাবতে বিছানা থেকে উঠে বসল অনিক, নাহ! এক্ষুণি বন্ধুকে একটা ফোন দিতে হবে। আর সে ভদ্রলোকের সাথেও একটা এপয়েন্টমেন্ট নেয়া দরকার। অনেক কাজ, শুয়ে থাকলে হবে না।
No comments:
Post a Comment