আমার পূর্ণ না হওয়া সব সাধ আমি খুঁজে বেড়াই স্বপ্নের দেশে। সত্যিকারের স্বপ্নের দেশ না, জেগে দেখা স্বপ্নের দেশ। সে দেশে ভালবাসায় টইটম্বুর হয়ে থাকে আকাশ বাতাস। সূর্যটা কোমল আলো হয়ে ঝুলে থাকে এক পশলা বৃষ্টির পর ঝকঝকে আকাশের এক কোণায়। তরতাজা ঘাসে পা ফেলে হাঁটি আমি, শরীরটা এত হালকা - ঘাসের ডগাগুলোই যেন বয়ে নিয়ে চলে। সামনে ঝিরিঝিরি ছোট্ট এক নালা। উপরে ছোট ছোট নুড়ি পাথর। ওপাশে উঁচু হয়ে উঠে গেছে ঘাসের নরম বিছানা, তাতে অসংখ্য উজ্জ্বল রংয়ের ফুল মুখ তুলে তাকিয়ে আছে। প্রজাপতির ওড়াওড়ি, গাছের ছায়ায় জোনাক পোকার লুকোচুরি, এই এত্তটুকুন লাল পিঁপড়ার তড়িঘড়ি চলে যাওয়া... ঘাসফড়িং এর একটানা ক্রং... ক্রং... শব্দ... সব..... সবকিছু আমার স্বপ্নে আসে ভালবাসা হয়ে।
মানুষ? হ্যা, মানুষও আসে। এই পৃথিবীতে যাদের ভালবাসা আমার বুকের নিঃশ্বাসটা ভারি করে দেয়, চোখে শুধু শুধু একসার জল এনে দেয়... তারাও আসে আমার পাশে বসতে। এ পৃথিবীতে যাদের ভালবাসি, তারা সবাই আমার মত করে ভাবে না। আমার সব - সবচাইতে প্রিয় মানুষটাও পুরোপুরি আমার মত করে আনন্দগুলোকে দেখে না। কিন্তু স্বপ্নের দেশে... খুব আনন্দ... একটা ছোট্ট বাঁকানো লতার হেলে পড়া আমাকে যতটুকু উচ্ছ্বসিত করে... তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি তার মুখও ততটুকু উজ্জ্বল হয়ে গেছে।
স্বপ্নের দেশে আমাকে নিয়ে কেউ হাসে না। 'এটা ঠিক হয়নি, ওটা ঠিক না...' অমন বিচার করতে শুরু করে না। কেউ বলে না, 'এইটাও জান না?', বলে, 'এস, শিখিয়ে দেই।' মুখ যত না হাসে, চোখ হাসে তারও বেশি, আর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই হৃদয়ের গভীর...টুকু। সেখানে একটুও ঘৃণা নেই, সমালোচনা নেই, অহংকার নেই। যেন আমার সাথে থাকতে পারাই তাদের একমাত্র আনন্দ।
'আমরা দু'জন একই গাঁয়ে থাকি, এই আমাদের একটি মাত্র সুখ'
আমার স্বপ্নের দেশে আমার প্রিয় সব খাবার থাকে। স্ট্রবেরিগুলো টুকটুকে লাল, আর খুব মিষ্টি গন্ধ, টকটক মিষ্টি, পানসে টক না। পাকা রসালো আতা... মুখ ডুবিয়ে খেতে গেলে সারা মুখ ভরে যায়। বিচিগুলোও খেয়ে ফেলা যায়, বাছতে হয়না। ওখানে সব কিছু সুন্দর। সবাই সুন্দর কথা বলে। তাই ত সুরা গাশিয়াহ তে 'লা তাসমা'উ ফীহা লা'গীয়া' শুনে স্বপ্নের দেশটাতে চলে যাই। আল্লাহ কত মজার মজার স্বপ্ন দেখান! এমনকি পান করা নিয়েও, যারা সেই রকম ভাল মুসলিম, আল্লাহ নাকি নিজে তাদের পানপাত্রে পানীয় ঢেলে দেবেন। এ কথাটা শুনে বুক থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত কেঁপে উঠে। আমার কল্পনাতে আর ধরে না।
তবে মেঘহীন পরিষ্কার আকাশের দিকে তাকালে কেমন যেন করে বুকের ভেতর। অদ্ভুত সেই আলো বার বার মনে করিয়ে দেয় 'Allah is the light of the heavens and the earth'. সে আলোয় সম্মোহিত হয়ে শুধু ভাবি, কেমন সেই আলো? জান্নাতের যারা অধিবাসী, তাদের জন্য নাকি সব পুরস্কারের সেরা পুরস্কার হবে আল্লাহ কে দেখতে পাওয়া। যারা বেশি ভাল কাজ করেছে, তারা সামনের সারি থেকে দেখতে পাবে। একবার দেখার পর নাকি শুধু মনে হবে আবার কখন দেখব? অধিক পূণ্যবান লোকেরা দিনে দুইবার দেখতে পাবে, আর কম যারা, তারা সপ্তাহে একবার দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া - আমার কাছে শুধুই মনে হয় অনেক অনেক ভালবাসায় ভরা এক সত্ত্বা। যার সামনে গেলে এত এত বেশি সমর্পন করতে ইচ্ছে হবে যে আমি যে একটা পূর্ণাঙ্গ মানুষ, সেটাই আর মনে থাকবে না। কিছু চাইব, কী চাইব? তিনি ত সব জানেন। কিছু বলব, বলার জন্য যে চিন্তাটুকু করতে হয়, তারও আগেই ত তিনি জানেন আমি কি ভাবছি। তাঁকে আমি ভালবাসি... কিন্তু এ কেমন ভালবাসা, যার প্রকাশ কী দিয়ে হবে তাই ভাবতে ভাবতেই সময়টুকু ফুরিয়ে যায়? আল্লাহর কথা ভাবতে গেলে কেবলই আমার সব তালগোল পাকিয়ে যায়।
তবু তাঁর কথা ভাবতে ভাল লাগে। আমার চারপাশের মানুষগুলোর কোন কারণ ছাড়া এত এত ভালবাসা বিলানো দেখে বুঝি, এ আর কেউ না, আল্লাহরই দেয়া। অনেকে ভ্রুকুটি করে জানতে চায়, তুমি এমন কি কেউকেটা যে নিজে নিজে জান্নাত, আল্লাহর দর্শন - সব নির্ধারণ করে ফেলেছ? আমি বলি, আমি যতটা ক্ষুদ্র, আল্লাহ ততটাই মহৎ। এতগুলো বছর আল্লাহ আমাকে যা কিছু দিয়েছেন, তা পাওয়ার জন্য আমার কেউকেটা হতে হয়নি। তাঁর রাহমাহ ই আমাকে সব দিয়েছে, যার কিঞ্চিৎ যোগ্যতাও আমার ছিল না। জান্নাত? না, আমি যোগ্য নই। তবে আমি আল্লাহর দর্শন পেতে উদগ্রীব। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হব, এত বড় বোকা আমি নই। নিশ্চয়ই তাঁকে আমি দেখব, সেদিন তাঁর রাহমাহ তাঁর ক্রোধের উপর জয়ী হবে।
যে ভাইটি অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নিয়েছে, তাকে স্বান্তনা দেয়ার মত ভাষা আমার জানা নেই। শুধু তাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, আল্লাহ বলেছেন, 'আমার বান্দা যদি হেঁটে আমার দিকে আসে, আমি দৌড়ে তার দিকে যাই। আমার বান্দা এক পৃথিবী সমান পাপ নিয়ে আমার সামনে দাঁড়ালে আমিও এক পৃথিবী সমান ক্ষমা নিয়ে তার সামনে দাঁড়াই।'
মানুষের ক্ষুদ্রতা দেখে নিরাশ হয়ে আল্লাহর থেকে সরে গেলে হবে? আল্লাহর ক্ষমার কোন তুলনা হয়? না তাঁর ভালবাসার কোন তুলনা হয়?
মানুষ? হ্যা, মানুষও আসে। এই পৃথিবীতে যাদের ভালবাসা আমার বুকের নিঃশ্বাসটা ভারি করে দেয়, চোখে শুধু শুধু একসার জল এনে দেয়... তারাও আসে আমার পাশে বসতে। এ পৃথিবীতে যাদের ভালবাসি, তারা সবাই আমার মত করে ভাবে না। আমার সব - সবচাইতে প্রিয় মানুষটাও পুরোপুরি আমার মত করে আনন্দগুলোকে দেখে না। কিন্তু স্বপ্নের দেশে... খুব আনন্দ... একটা ছোট্ট বাঁকানো লতার হেলে পড়া আমাকে যতটুকু উচ্ছ্বসিত করে... তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি তার মুখও ততটুকু উজ্জ্বল হয়ে গেছে।
স্বপ্নের দেশে আমাকে নিয়ে কেউ হাসে না। 'এটা ঠিক হয়নি, ওটা ঠিক না...' অমন বিচার করতে শুরু করে না। কেউ বলে না, 'এইটাও জান না?', বলে, 'এস, শিখিয়ে দেই।' মুখ যত না হাসে, চোখ হাসে তারও বেশি, আর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই হৃদয়ের গভীর...টুকু। সেখানে একটুও ঘৃণা নেই, সমালোচনা নেই, অহংকার নেই। যেন আমার সাথে থাকতে পারাই তাদের একমাত্র আনন্দ।
'আমরা দু'জন একই গাঁয়ে থাকি, এই আমাদের একটি মাত্র সুখ'
আমার স্বপ্নের দেশে আমার প্রিয় সব খাবার থাকে। স্ট্রবেরিগুলো টুকটুকে লাল, আর খুব মিষ্টি গন্ধ, টকটক মিষ্টি, পানসে টক না। পাকা রসালো আতা... মুখ ডুবিয়ে খেতে গেলে সারা মুখ ভরে যায়। বিচিগুলোও খেয়ে ফেলা যায়, বাছতে হয়না। ওখানে সব কিছু সুন্দর। সবাই সুন্দর কথা বলে। তাই ত সুরা গাশিয়াহ তে 'লা তাসমা'উ ফীহা লা'গীয়া' শুনে স্বপ্নের দেশটাতে চলে যাই। আল্লাহ কত মজার মজার স্বপ্ন দেখান! এমনকি পান করা নিয়েও, যারা সেই রকম ভাল মুসলিম, আল্লাহ নাকি নিজে তাদের পানপাত্রে পানীয় ঢেলে দেবেন। এ কথাটা শুনে বুক থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত কেঁপে উঠে। আমার কল্পনাতে আর ধরে না।
তবে মেঘহীন পরিষ্কার আকাশের দিকে তাকালে কেমন যেন করে বুকের ভেতর। অদ্ভুত সেই আলো বার বার মনে করিয়ে দেয় 'Allah is the light of the heavens and the earth'. সে আলোয় সম্মোহিত হয়ে শুধু ভাবি, কেমন সেই আলো? জান্নাতের যারা অধিবাসী, তাদের জন্য নাকি সব পুরস্কারের সেরা পুরস্কার হবে আল্লাহ কে দেখতে পাওয়া। যারা বেশি ভাল কাজ করেছে, তারা সামনের সারি থেকে দেখতে পাবে। একবার দেখার পর নাকি শুধু মনে হবে আবার কখন দেখব? অধিক পূণ্যবান লোকেরা দিনে দুইবার দেখতে পাবে, আর কম যারা, তারা সপ্তাহে একবার দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া - আমার কাছে শুধুই মনে হয় অনেক অনেক ভালবাসায় ভরা এক সত্ত্বা। যার সামনে গেলে এত এত বেশি সমর্পন করতে ইচ্ছে হবে যে আমি যে একটা পূর্ণাঙ্গ মানুষ, সেটাই আর মনে থাকবে না। কিছু চাইব, কী চাইব? তিনি ত সব জানেন। কিছু বলব, বলার জন্য যে চিন্তাটুকু করতে হয়, তারও আগেই ত তিনি জানেন আমি কি ভাবছি। তাঁকে আমি ভালবাসি... কিন্তু এ কেমন ভালবাসা, যার প্রকাশ কী দিয়ে হবে তাই ভাবতে ভাবতেই সময়টুকু ফুরিয়ে যায়? আল্লাহর কথা ভাবতে গেলে কেবলই আমার সব তালগোল পাকিয়ে যায়।
তবু তাঁর কথা ভাবতে ভাল লাগে। আমার চারপাশের মানুষগুলোর কোন কারণ ছাড়া এত এত ভালবাসা বিলানো দেখে বুঝি, এ আর কেউ না, আল্লাহরই দেয়া। অনেকে ভ্রুকুটি করে জানতে চায়, তুমি এমন কি কেউকেটা যে নিজে নিজে জান্নাত, আল্লাহর দর্শন - সব নির্ধারণ করে ফেলেছ? আমি বলি, আমি যতটা ক্ষুদ্র, আল্লাহ ততটাই মহৎ। এতগুলো বছর আল্লাহ আমাকে যা কিছু দিয়েছেন, তা পাওয়ার জন্য আমার কেউকেটা হতে হয়নি। তাঁর রাহমাহ ই আমাকে সব দিয়েছে, যার কিঞ্চিৎ যোগ্যতাও আমার ছিল না। জান্নাত? না, আমি যোগ্য নই। তবে আমি আল্লাহর দর্শন পেতে উদগ্রীব। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হব, এত বড় বোকা আমি নই। নিশ্চয়ই তাঁকে আমি দেখব, সেদিন তাঁর রাহমাহ তাঁর ক্রোধের উপর জয়ী হবে।
যে ভাইটি অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নিয়েছে, তাকে স্বান্তনা দেয়ার মত ভাষা আমার জানা নেই। শুধু তাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, আল্লাহ বলেছেন, 'আমার বান্দা যদি হেঁটে আমার দিকে আসে, আমি দৌড়ে তার দিকে যাই। আমার বান্দা এক পৃথিবী সমান পাপ নিয়ে আমার সামনে দাঁড়ালে আমিও এক পৃথিবী সমান ক্ষমা নিয়ে তার সামনে দাঁড়াই।'
মানুষের ক্ষুদ্রতা দেখে নিরাশ হয়ে আল্লাহর থেকে সরে গেলে হবে? আল্লাহর ক্ষমার কোন তুলনা হয়? না তাঁর ভালবাসার কোন তুলনা হয়?
No comments:
Post a Comment