ডিফেন্স, কচ্ছপ - সবই ভাল, কিন্তু এগুলো সবই সাময়িক স্বস্তি আনে। ডিফেন্ড করলে নিজের ইগোকে ঠিকঠাক রাখা যায়, আর গুটিয়ে থাকলে অপরপক্ষকে জয়ী করে নির্বিবাদে থাকা যায়। সত্যিকার অর্থে সম্পর্ক দৃঢ় করতে এ ধরণের অ্যাপ্রোচ কতটুকু কাজে আসে? উত্তরটা পাঠকের কাছ থেকেই জানার অপেক্ষায় থাকলাম।
৩. তৃতীয় অ্যাপ্রোচের কোন যুতসই নাম আমি খুঁজে বের করতে পারিনি। এটা অনেকটা, "আমি তোমার কাজে কষ্ট পেয়েছি, কিন্তু তোমাকে ভালবাসি বলে কিছু বললাম না। কিন্তু আমি জানি কখনোই না বললে তুমি বুঝবেনা যে আমি কষ্ট পেয়েছি।" সোজা ভাষায়, প্রবলেম আসলে তাকে ঠান্ডা মাথায় ডিল করতে হবে। তাকে জানিয়ে দিতে হবে যে এ ব্যাপারটা আমার কাছে ন্যায়সঙ্গত লাগেনি।
মজা হচ্ছে, এই যে আপনি ধৈর্য ধরলেন, পাল্টা শোধ নিলেন না, ক্ষমা করলেন, তারপরে আবার সব ঠিক হয়ে যাওয়ার পর ঠান্ডা মেজাজে ঘটনাটা তুলে বললেন যে এই ব্যাপারটা আপনি পছন্দ করেননি - অপর পক্ষ কিন্তু আপনার এতগুলি ভাল দিক দেখতে পাবেনা। ঐ ঘটনা উঠে আসার সাথে সাথে সেও নিজেকে ডিফেন্ড করতে শুরু করবে। সত্যি বলতে কি, সব ঠিক হয়ে যাওয়ার পরে পুনরায় ঐ প্রসঙ্গ তোলাটাকেই সে অপমান হিসেবে নিয়ে ফেলতে পারে। কারণ রাগত: অবস্থায় নিজের অন্যায়কে ডিফেন্ড করা যত সহজ, ঠান্ডা মেজাজে, সুন্দর সময়ে সেটার উল্লেখ ততটাই বিব্রতকর। এই অবস্থায় নিজেকে বাঁচাতে মানুষ সবচেয়ে সহজ উপায়টা বেছে নেয় - হয় রাগ করে, নাহয় কান্নাকাটি করে, তার সাথে পুরনো যত অন্যায় তার উপর করা হয়েছে সেসব বলা শুরু করে। অথবা এমন কোন মন্তব্য করে যাতে করে পুরনো লজ্জা ঢাকা পড়ে যায়।
এই পর্যন্ত এসে মানুষ সবচেয়ে বেশি হাল ছেড়ে দেয়। মনে মনে বলে, "আমি আমার সাধ্যমত চেষ্টা করেছি, তার সাথে খারাপ ব্যবহার করি নাই, রাগ করি নাই, তাকে অবসর সময়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছি - কিন্তু সে কিছুতেই কিছু শোনে না। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে কী করত?" সে দেখতে পায়না যে এই বোঝানোর মধ্যে তার ইফোর্টের কমতি ছিল। কীভাবে বললে সে অফেন্ডেড না হয়ে কথাগুলো শুনবে এবং মেনে নিবে সেটার উপর সে আরো অনেক মনোযোগ দিতে পারত।
প্রত্যেকটা সম্পর্ক একেকটা খুউব দামী রত্নের মত - এটা রক্ষা করতেই হবে কারণ এটা মূল্যবান! এইখানে মানুষটার চেয়েও বেশি গুরূত্বপূর্ণ এই বন্ধনটা। মানুষটা খারাপ হলে তার মানে এইটার উপর বেশি কাজ করতে হবে, এমন না যে মানুষটা খারাপ তাই ঐ সম্পর্ককে আমি আর শ্রদ্ধাই করব না। বা ঐ সম্পর্কটা থেকে আমি কিছু পাওয়ার আশা চিরতরে বন্ধ করে দিব।
বুঝলাম, একবারে না হলে বারবার কমিউনিকেট করার চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু কীভাবে? একই ভাবে? এইখানেই দ্বিতীয় ভুলটা আমরা করি, আমরা একই মেসেজ বার বার একই ভাবে দিতে চাই। ধৈর্য ধরলাম, কথা বললাম, শুনলনা, আবারো ধৈর্য ধরলাম, আবারো কথা বললাম, আবারো, আবারো। ফলাফল হিসেবে আপনি কি অন্য কিছু দেখার আশা করছেন?
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য এতক্ষণ পর্যন্ত ধৈর্য দিয়েই কাজ চলে যাচ্ছিল। এই স্টেজে এসে দরকার পড়বে আপনার ইন্টেলেক্ট এর। যেহেতু স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড ডিসকাশন দুইজনের জন্য একইভাবে কাজ করেনা - আপনার এখন ঐ মানুষটিকে স্টাডি করা শুরু করতে হবে। সে কী ধরণের কথায় ইন্সপায়ার্ড হয়, কোন ধরণের অভিযোগ শোনার সাথে সাথে তার মনের মধ্যে বিদ্রোহ শুরু হয়ে যায়, কী ধরণের চিন্তা তার মধ্যে ভাল কাজ করার আগ্রহ জাগিয়ে তোলে, লজিক গ্রহণ করার ক্ষমতা তার মধ্যে কতটুকু (সবাই কিন্তু একভাবে হক্ কথা নিতে পারেনা) - এই সব ধরণের তথ্য আপনার ভেতর জমা করতে হবে। তারপর তার পছন্দসই উপায়ে কথাগুলো তাকে বোঝাতে হবে।
অনেক সময় এমন হয়, কথা যত সুন্দর করেই অ্যাক্সেপ্ট করুক, কাজে তার প্রতিফলন হয়না। সাতকাহন গল্পে নায়িকাটার যার সাথে বিয়ে হয়েছিল সে ছেলেটা খাবারের টেস্ট ভাল না হলে ব্যঙ্গ করত, রেগে যেত। পরে হাজারবার সরি টরি বলে প্রমিজ করত যে আর করবেনা, কিন্তু কীভাবে কীভাবে যেন আবারো একই কাজ করত। এ রকম অবস্থায় মানুষ প্রায়ই পড়ে, আর তখন ক্ষমা করাটা সত্যি, সত্যিই অসম্ভব হয়ে যায়।
No comments:
Post a Comment