Friday, April 20, 2012

আর্ট অব এপ্রিসিয়েশন - ৪

অপ্রিয় সত্যটাকে অস্বীকার না করেও কীভাবে ভাল দিকগুলো তুলে আনা যায় - সেটা বোঝাতেই এই সত্য/অর্ধসত্য/কাল্পনিক ঘটনাগুলোর অবতারণা 


আজকে নাহিয়ান আর আসাদের গল্প করার দিন। দু'জনেরই বেশ খানিকটা অবসর, তাই গল্পের ডালি খুলে বসেছে দু'জনে। ওদের বিয়ে হয়েছে দুই তিন মাস হল। এখনও অনেক কিছু জানার বাকি, তাই একথা সেকথা থেকে দু'জনেই ফিরে গেল শৈশবে। 

(নাহিয়ান): আমি ছোটবেলা খুব বাবার ভক্ত ছিলাম। বাবা বাইরে যেতে নিলে পা জড়িয়ে ধরে রাখতাম। ঘরে আসলেই আবার বাবার কোলে। 

(আসাদ): আমি ছিলাম প্রচন্ড মায়ের ন্যাওটা। আম্মুর সাথে সাথেই ঘুরতাম, আম্মু ঘরের কাজ করত, আমি তার সাথে বসে থাকতাম। আমার যন্ত্রণায় কাজই করতে পারত না। 

(নাহিয়ান): হ্যা, আম্মুও আদর করত, কিন্তু বাবা সবসময় থাকত না ত, বাসায় আসলে আমার সাথে খেলা করত... তারপর বিকেল বেলা আব্দার করলে শিশুপার্ক, নিউমার্কেট - এসব জায়গায় নিয়ে যেত - খুব মজা! তারপর একবার আব্বু ঢাকায় গিয়েছিল, আসার সময় আমার জন্য ৩-৪ টা পুতুল, গল্পের বই, রং - অনেক কিছু এনে দিয়েছিল। এই জন্য আমার কাছে বাবা মানেই আনন্দ ছিল। 

(আসাদ): শাসন করত না? 

(নাহিয়ান): নাহ্! বড় হওয়ার পরে করেছে, কিন্তু এমনিতে খালি আদরই করত। 

আসাদের মুখটা আস্তে আস্তে কাল হয়ে গেল। ধীরে ধীরে বলল, 'তুমি খুব লাকি, নাহিয়ান! তোমার শৈশব খুব সুন্দর ছিল।' 

- কেন, তোমার ছিল না? 

- আমার সারা জীবনে কোনদিন কোন খেলনা ছিলনা। 

- তো কী হয়েছে? কত বাচ্চারই ত থাকেনা। তোমাদের ত কিছুটা অস্বচ্ছলতা ছিল, খেলনা কেনার মত বিলাসিতাটা হয়ত উনারা করতে পারেন নি। এতে মন খারাপ কর কেন? 

আসাদ মৃদু হাসে, 'তোমার কি মনে হয়, আমি এত অকৃতজ্ঞ যে আমার বাবা মায়ের অক্ষমতা নিয়ে অভিযোগ করব? ব্যাপারটা তা ছিলনা।' 

- তাহলে? 

- আমার বাবা কোনদিন আমাকে বাবার আদর দিয়ে বড় করেন নি। 

- কী বল তুমি? আমার শ্বশুরের মত ভাল মানুষ কয়টা হয়? আমাকেই ত কীরকম আদর করেন!! 

- হ্যা, উনি পৃথিবীর সবার কাছে ভাল মানুষ। কেবল স্ত্রী, সন্তানদের জন্য উনার কোন দায়িত্ব আছে, এটা তিনি মনে করতেন না, এখনও করেন না। খেলনা বল, বেড়ানো বল, কাপড় চোপড় বল.. কোন কিছুই উনার কাছে মনে হতনা যে এটা আমার পরিবারের মানুষদের জন্য দরকার। সামান্য যে ক'টা টাকা আয় করতেন, বাসায় বাজারটা করে দিয়ে বাকি টাকা নিজের ভাই ভাবীর পরিবারে খরচ করতেন। 

- উনাদের হয়ত আরো বেশি দরকার ছিল! 

- মোটেই না, উনারা খুবই স্বচ্ছল, নিজেদের ব্যবসাপাতি আছে। 

- তাহলে? 

- জানি না। একবার আমার মনে পড়ে বাজার থেকে বেশ কিছু খেলনা, বাচ্চাদের জিনিস কিনে আনেন। সব আমার চাচাত ভাই বোনদের জন্য, আমার বয়স তখন সাত। 

- কেন? 

- জানিনা। 

আসাদের মুখের বিমর্ষতা কেটে আস্তে আস্তে ভর করে ক্ষোভ। অস্ফুট স্বরে বলতে থাকে, 'আম্মু চাচাদের বাসায় কত অসম্মান পেয়েছে, আমার বাবা পাত্তাও দেয়নি। বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত বাবা আমাদের কাছে কেবলই ভয়ের ব্যাপার ছিল। পড়ার টেবিলে না পেলে মারবেন, এ ছাড়া বাবার সাথে আমার আর কোন শৈশব নেই।' 

বলতে বলতে নাহিয়ানের দিকে তাকিয়ে দেখে ওর চোখে টলটল করছে পানি। 'আরে! এ্যই মেয়ে, কান্না করছ কেন? তোমাকে ত আর কিছু বলাই যাবে না দেখি।' আসাদ মুখোমুখি বসে চোখের পানি মুছিয়ে দিতে থাকে। নাহিয়ান একটু ধাতস্থ হলে আবার কথা শুরু করে - 

- কান্না কর কেন? এটা এমন কী কষ্ট? মানুষ আরো কত কষ্টে থাকে না? কারো ত বাবাই থাকে না! 

- তারপরেও, যার যার স্ট্রাগল তার তার। তুমি যে কষ্ট পাওনি তা ত না। 

- না, কষ্ট পেয়েছি এটা অস্বীকার করব না। কিন্তু দেখ, এতদিন পরে পেছনে তাকিয়ে মনে হয়, আমি আজকে যে মানুষটা হয়েছি, তার জন্য এ ঘটনাগুলোর অবদান আছে। 

- কীরকম? 

- আমি এগুলো পাইনি দেখেই বুঝি বাবা হিসেবে, স্বামী হিসেবে দায়িত্বগুলো পালন করা কত জরুরি। আমার বন্ধুবান্ধবদের অনেকের মধ্যেই বিয়ে মানে একটা ফ্যান্টাসি, একটা মেয়ের সাথে ২৪ ঘন্টা থাকা - এটুকুই। তোমার মনে আছে, তোমার বাবা যখন তোমার হাতটা আমার হাতে তুলে দিল, আমি কী বলেছিলাম? 

- হুঁ, বলেছিলে, 'আপনারা যে বিশ্বাস নিয়ে ওকে আমার হাতে দিলেন, দোয়া করবেন যেন তার সবটুকু মর্যাদা রাখতে পারি।' 

- আমি সত্যিই মনে প্রাণে এটাই বিশ্বাস করি। 

- আমি জানি। 

- তারপর দেখ, তোমরা অনেক নিরাপত্তা পেয়ে বড় হয়েছ। তোমার বাবা ছিল বিপদ আপদ দেখার জন্য, মা তোমাদের মানসিক শক্তি দিয়েছেন, সে তুলনায়, আমরা ভাইবোনেরা অনেক ছোট থেকেই জানি, আমাদের জন্য মাথার উপর কেউ নেই। আমার মা এত সরল, উনি আমাদের সামলাবেন কী, আমাদেরই উনাকে মানসিক শক্তি দিতে হয়েছে। সে জন্য আমরা ভাইবোনেরা, মা - সবাই একটা ইউনিট এর মত ছিলাম। এখনও ত তুমি বল, আমাদের মধ্যে বন্ধনটা অনেক বেশি। 

- হ্যাঁ, তোমরা ভাইবোনেরা যেভাবে একাত্মা হয়ে আছ, এটা এখন আর অত দেখা যায় না। 

- তাছাড়া, তোমাকে ত বললামই, আত্মীয়দের থেকেও অনেক সময় কষ্ট পেয়েছি। তাই বন্ধুবান্ধব, প্রতিবেশী, যেই হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, আপন মানুষের মত দেখেছি। 

- হুঁ, তুমি মানুষকে খুব দ্রুত আপন করে নিতে পার। 

- কী করব বল, আমাদের একমাত্র আনন্দ ত ছিল হিউম্যান ইন্টারঅ্যাকশনেই। টিভি নেই, গল্পের বই কেনার টাকা নেই, ঘুরতে যাওয়ার উপায় নেই... আড্ডা দিতাম, ওটাই আনন্দ। 

- হ্যা, আমি নতুন জায়গায় গেলে ভয় লাগে, মানুষের সাথে মিশতে ভয় পাই, তুমি পাওনা, দেখেছি। 

- প্লাস সবসময় মাথায় ছিল ভাল পড়াশুনা না করলে এই অবস্থা থেকে কোনদিন বের হতে পারব না। দাঁতে দাঁত চেপে কেবল পড়াশুনা করেছি। আমার মধ্যে একটা বাধনছেঁড়া ভাব আছে। এখন মনে হয়, পরিবারের এই চাপটা না থাকলে আমি মনে হয় ঠিক থাকতাম না। 

- কী জানি! 

- সবকিছু মিলিয়ে আমার এখন আর কোন দুঃখ নেই, জান! আমার মনে হয় দুঃখের সময়গুলো আমার জন্য ট্রেইনিং পিরিয়ড ছিল। উৎরে যেতে পেরেছি বলেই এখন এখানে আছি এবং তোমাকে পেয়েছি। 

নাহিয়ানের ভেজা গালে খুশি আর লজ্জা মিলে অদ্ভুত এক রং দেখা দিল। আসাদ আরও একবার মেয়েটার সরলতা দেখে অবাক হল।

Tuesday, April 17, 2012

আর্ট অব এপ্রিসিয়েশন - ৩


অপ্রিয় সত্যটাকে অস্বীকার না করেও কীভাবে ভাল দিকগুলো তুলে আনা যায় - সেটা বোঝাতেই এই সত্য/অর্ধসত্য/কাল্পনিক ঘটনাগুলোর অবতারণা 


আরও একটা কর্মব্যস্ত দিন। অনিকের এখন ছুট.. ছুট... ছুট করে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা ছিল। কিন্তু সে অলস পড়ে আছে বিছানায়, জানালা দিয়ে আকাশ দেখছে। সামনের দিনগুলো কী হবে - কিছুই বলতে পারেনা। 

অনিক ভাবতেও পারেনা দেড় বছর পর এক কথায় তাকে ল্যাব থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারে। তার শখের রিসার্চ, দেড় বছরের ডাটা - সব ফেলে দিয়ে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। অন্য কোন ল্যাবে গিয়ে ধর্ণা দিতে হবে, ওর কত প্রিয় ছিল এই কাজটা! কোন মুখে নতুন কোন ল্যাবে যাবে সে? নিশ্চয়ই পুরো ডিপার্টমেন্টে চাউর হয়ে গেছে, গত বছরের এই পিএইচডি স্টুডেন্টটা কিক্ আউট হয়েছে - সবাই কী ভাবছে.. সব শেষ হয়ে গেল... কীভাবে আবার শুরু করবে? পিএইচডির পাঁচ বছরের বেঁধে দেয়া সময়ে নতুন ল্যাবে ঢোকা, নতুন জিনিস নিয়ে আবার শিখতে শুরু করা, প্রজেক্ট গুছানো ... এত কিছু করে আদৌ কি সে আর শেষ করতে পারবে পিএইচডি? দেশে থাকা মায়ের মুখটা মনে পড়ে অনিকের। কী লজ্জা! কী লজ্জা!! কেউ নেই পাশে সাপোর্ট দেয়ার মত... কী অপ্রয়োজনীয়, অপদার্থ লাগছে! মাথা তুলে চারদিকে তাকাতেও লজ্জা, ঘেন্না হচ্ছে। 

ল্যাবটার কথা বারবারই মনে পড়ে তার। কাজটা ভাল হলেও, ল্যাবের মানুষগুলোর আসলে সাথে কখনোই তার বনিবনা হয়নি। ওরা বেশ উন্নাসিক, আড়ালে একজন আরেকজনের নামে বাজে কথাও বলে। ওর সুপারভাইজর, ব্যস্ত মানুষ, তার সাথে কোন অন্তরঙ্গতাই হয়নি কখনো, তিনিও ল্যাবের পুরনোদের কথা বেশ গুরূত্ব দেন, যাচাই না করেই। ল্যাবের অনেকেই পুরনো ল্যাব মেম্বারদের তোয়াজ করে চলত। পুরো পরিবেশটাই ওর খুব বাজে লাগত। এমনকি কাজটা... কাজের ফিল্ডটা এক্সাইটিং হলেও, ওকে একই কাজ বারবার করতে হচ্ছিল, নতুন কিছু শিখছিল না, সুপারভাইজর নতুন কোন কাজ করতে খুব একটা উৎসাহও দিত না। কাজটাও এত গোলমেলে, ঠিকঠাক মত কোন রেজাল্ট পাওয়া যায় না। 

নাহ! কাজটা যত সহজ আর আনন্দের মনে হত, আসলে ততটা ছিলনা, একই কাজ করতে করতে একঘেঁয়েমি পেয়ে বসত, তার উপর রেজাল্ট না পেলে হতাশ লাগত। তার উপর ল্যাবের মানুষগুলোর কারণে ওর ল্যাবের জন্য টানটাও ছিল না। মানুষ পিএইচডি করাকালে সুপারভাইজরের থেকে কত কিছু শেখে, ওর সুপারভাইজরের সময় কোথায়? সপ্তাহে দু'বার মিটিং ছাড়া আর কখনও তাকে দেখাই যায়না। আর তাকে সবাই এত ভয় পায়, যে সত্যিকারের মেন্টরশীপ আদৌ গড়ে উঠত কিনা সন্দেহ। যা হয়েছে ভালই হয়েছে, পাঁচ বছর এই বাজে পরিবেশে থাকতে হয়নি। 

কিন্তু দেড় বছর যে নষ্ট হল? আর মোটে সাড়ে তিন বছরে নতুন কাজ খুঁজে শুরু করা, প্রথম থেকে? পারবে ত সে? ভাবতে ভাবতে তার মনে পড়ল, গত বছর একটা কোর্সে এক ফ্যাকাল্টি কে দেখে ওর ভাল লেগেছিল, ভদ্রলোক খুব অমায়িক, ওদের কাজগুলোও মজার। তাছাড়া সে ল্যাবে ওর খুব কাছের একজন বন্ধু কাজ করে, পড়াশুনার গ্যাপটা বন্ধুর সাথে আলোচনা করেও অনেকটা পুষিয়ে নিতে পারবে। তাছাড়া, সে বন্ধু সবসময় বলে ওদের ল্যাবে অনেক ফ্লেক্সিবিলিটি। সুপারভাইজরের নতুন নতুন কাজ করতে খুব উৎসাহ! চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কী? 

ভাবতে ভাবতে বিছানা থেকে উঠে বসল অনিক, নাহ! এক্ষুণি বন্ধুকে একটা ফোন দিতে হবে। আর সে ভদ্রলোকের সাথেও একটা এপয়েন্টমেন্ট নেয়া দরকার। অনেক কাজ, শুয়ে থাকলে হবে না।

আর্ট অব এপ্রিসিয়েশন - ২

অপ্রিয় সত্যটাকে অস্বীকার না করেও কীভাবে ভাল দিকগুলো তুলে আনা যায় - সেটা বোঝাতেই এই সত্য/অর্ধসত্য/কাল্পনিক ঘটনাগুলোর অবতারণা 

অরিত্রার চোখে টলটল করছে পানি। ওর বাবা আবারও অকারণে রাগারাগি শুরু করেছে, সাথে অনেক অপমানজনক কথা। আজকে অন্যায় কথার প্রতিবাদ করতে গিয়েছিল একটু... ওর বাবা প্রায় মারতে এসেছিলেন। মাকে এসব কটু কথা শোনালে অরিত্রার একেবারেই সহ্য হয়না। কিছু বলতে গেলে উল্টো মা-ই নিষেধ করেন। অরিত্রা যতবারই এসব ভাবতে যায়, চোখে পানি এসে পড়ে। 

মা এসে বসলেন পাশে, গায়ে হাত বুলিয়ে দিলেন। অরিত্রা আরেকটু মুখ গুঁজে ফেলল বইয়ের ভেতর। 

কী রে মা, মন খারাপ? 

নাহ! 

তোর বাবার ব্যবহারে কষ্ট পেয়েছিস? 

(নীরব) 

তুই জানিস না তোর বাবা অমনই? কেন তর্ক করতে যাস? 

(মনে মনে..) অন্যায়টার প্রতিবাদ না করলে আমি বিবেকের কাছে কী বলব মা? 

কী রে, উত্তর দিবিনা কিছু? 

তুমি আমাকে আটকাও কেন? কথা বলতে দাও না কেন? 

দেখলি না, একটু বলতেই তোর গায়ে হাত তুলতে নিয়েছিল.. 

তুললে তুলবে, সবসময় এগুলা সহ্য করা যায় না কি? 

দ্যাখ, আজকে প্রায় তিরিশ বছর ধরে তোর বাবার সাথে আমার সংসার। আমার যখন বিয়ে হয় তখন আমার বয়স মাত্র একুশ। পড়াশুনা করতাম, দুনিয়ার কিচ্ছু চিনতাম না... তোর বাবার হাত ধরে বাবা মায়ের আদর ছেড়ে ঢাকায় চলে আসলাম। একা একা বাসা থেকে বেরোতেও ভয় করত। সারাদিন একা একা ঘরে বসে থাকতাম, তোর বাবা অনেক রাত করে বাসায় ফিরত, ঠিক মত কথা বলত না, খাবার ভাল না থাকলে রাগারাগি করত। 

এগুলো ত আমি জানিই... 

তারপরেও শোন। আমি মন খারাপ করে থাকতাম, কিন্তু কখনো এর বাইরে কিছু চিন্তা করিনি। তারপর তুই যখন পেটে আসলি, আমার শরীর ভাল না, একটা মানুষ নাই দেখার... তোর বাবার থেকে সহযোগিতা ত দূরে থাক, একটু ভাল ব্যবহারও পেতাম না। তারপর একটা হাতখরচ দিত না, ঈদে নতুন কাপড় পর্যন্ত না। 

মা, এসব আমাকে বলছ কেন? 

বলছি, কারণ, তুই এখন আমার সাথে তোর বাবা গলা উঁচু করে কথা বললে রাগ হয়ে যাস। আমি ত এর চেয়ে অনেক অনেক কঠিন সময় পার করে এসেছি। তখন বয়স কম ছিল, বাবা মা বেঁচে ছিল, চাইলে সংসার ছেড়ে চলে যেতে পারতাম। এখানে থাকব, এটা ত আমারই সিদ্ধান্ত। 

ত? 

পুরোটা শোন। তোর মুখ চেয়ে আমি যখন ঠিক করলাম, আমি থাকব, তখন সিদ্ধান্ত নিলাম, থাকলে সম্মানের সাথেই থাকব, মাথা উঁচু করে থাকব। ঘরে শান্তি, স্বস্তি রাখার জন্য যা যা করতে হয় করব। অনার্সে ভর্তি হলাম, তোকে, অর্ঘ্যকে নিয়ে অনার্স, মাস্টার্স করলাম। চাকরি তে ঢুকলাম। সব কি এত সহজে হয়েছে? তোর বাবা পড়ার বই দেখলে রাগ হয়ে যেত। চাকরি করা নিয়ে কত যুদ্ধ - এক বেলার খাবারে উনিশ বিশ হলে বাটি ছুঁড়ে ফেলে দিত। 

এত কিছু করে চাকরি করতে গেলা কেন? 

তোদের মুখের দিকে তাকিয়ে। আত্মসম্মান বল, শান্তি বল... কোনকিছুই ত তোর বাবার থেকে আমি পাইনি। এভাবে যদি আমাদের সংসার চলতে থাকত, তোরা অসুস্থ হয়ে যেতি। চাকরিটা আমাকে মনের জোর দিয়েছে। আমার যোগ্যতা কতটুকু, সেটা বোঝার সুযোগ দিয়েছে। 

ত এখন তুমি প্রতিবাদ করনা কেন? 

প্রতিবাদ করব কেন? আমি পুরো ব্যাপারটার জন্য তোর বাবার কাছে কৃতজ্ঞ! 

মানে???!!!! 

তুই চিন্তা কর, আমি কী ছিলাম! তোর বাবার এই অমানুষিক রাগই ত আমাকে পথ দেখিয়েছে। আমার দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল, হয় আমি সংসার ছেড়ে চলে আসতে হবে, অথবা নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। তোর বাবা অমন না করলে আমি ত পড়াশুনাটাও আর করতাম না। তোদের কে তখন কী শিক্ষা দিয়ে বড় করতাম? মোরালিটি বল, দায়িত্বজ্ঞান বল, সবই ত আমি যেটুকু পেরেছি শিখিয়েছি। এটুকু না হলে তোরা এমন আলোকিত মানুষ হতে পারতি? 

তারপরেও মা... 

তুই এখন বুঝবি না। প্রত্যেকটা কঠিন সময়ের পেছনেই কোন ভাল উদ্দেশ্য থাকে। আমরা ভাল টা ধরতে পারিনা দেখে কষ্ট পাই। আর তোর বাবারই বা দোষ কী? উনিও ত যে পরিবেশ থেকে বড় হয়েছে, ওসব শিখে আসতে পারে নি। এখন নিজে বুঝে বুঝে যতটুকু পেরেছে হয়েছে। এখন উনি গর্ব করেন যে ছেলেমেয়েগুলো ভাল মানুষ হয়েছে। উনি নিজের দোষটা দেখতে পান না, কিন্তু মানুষ হিসেবে ত উনি ভাল!

জানি না... 

জানবি। একটা সময় পরে। তখন ঠিকই এপ্রিশিয়েট করবি।

Sunday, April 15, 2012

আর্ট অব এপ্রিসিয়েশন - ১

মৌমিতার প্রাণের বন্ধু আসমার মুখ ভার, চোখমুখ কাল, প্রায় কাঁদকাঁদ মুখ। মৌমিতা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আসমা যে অফিসে কাজ করে সেখানে এক উচ্ছ্বল, উদার হৃদয়ের যুবককে মনে ধরে গেছে আসমার। কিন্তু প্রাণে ধরে কখনই সে কল্পনা করতে পারেনা, তাকে কারও পছন্দ হতে পারে। হবেই বা কী করে? গায়ের রং, শারীরিক গঠন - সব কিছু নিয়ে কি কম কথা শুনতে হয়েছে সারা জীবন? তাও যদি দাঁতগুলো একটু সুন্দর হত! আসমার ভুসো মাখানো মুখটাতে রঙের খেলা বোঝা যায়না, তবু মৌমিতা বুঝতে পারে ফেরেশতাসম সুন্দর মনের এই মেয়েটার মনে কত দুঃখ। কী বলবে বুঝতে পারেনা। আসমাই এক সময় মুখ খোলে - 

'আমার মনে হয় কখনো বিয়ে হবে না রে!' 

কেন? 

কে বিয়ে করবে আমাকে? 

কেন? 

আমি কত কুচ্ছিত। 

তুই কুচ্ছিত হলি কোন দিক দিয়ে? 

ওমা! তোর কি চোখ নেই? আমার গায়ের রং দেখেছিস? চেহারা দেখেছিস? মানুষ হাসলে কত সুন্দর দেখায়... আমি হাসলে... কে বিয়ে করবে আমাকে? 

কী সব যা তা বলিস? তোকে ভালবাসবে না যে ছেলে সে আসলে তোকে পাওয়ার যোগ্যই না! 

ধ্যেৎ! শুরু হল তোর কথার খেলা। 

আচ্ছা, ঠিক আছে। আগে বল, সৈকত ভাই তোর সাথে কথা বলে? 

ম্... বলে ত! 

সুন্দর করে? 

হ্যা! ভালই ত, ভদ্র ব্যবহার। 

আচ্ছা! তাহলে বল, তোর সাথে কথা বলার আগে ত উনাকে তোর চেহারা দেখতে হয়েছে, এমন ত না যে চোখ বন্ধ করে কথা বলেছে। 

হ্যা, ত? 

ত, উনি ত তোকে ঘৃণা করেন না। করেন? 

ন্ না... 

ত, চেহারার আকর্ষণের পর্যায়টা ত উনি পার হয়েই এসেছেন, তাই না? 

হ্যা। তাতে কী? 

মানুষ ত চেহারা দেখে প্রথম পরিচয়ে, তারপর ত চেহারাটা কেবলই মুখ চেনার জন্য। বাকিটা চেনাজানা ত হয় মনের চেহারা দিয়ে। 

হু, কী বলতে চাচ্ছিস? 

দ্যাখ, তুই খুব গভীর চিন্তা চেতনার একটা মেয়ে। তোর মনটা খুব স্বচ্ছ। যখন কথা বলিস, ফালতু কথা বলিস না, আন্তরিকতা নিয়ে, চিন্তাভাবনা করে কথা বলিস। এতদিন হয়ে গেল, কখনও তোকে হিংসা করতে দেখলাম না, কাউকে নিয়ে খারাপ কথা বলতে দেখলাম না... তোর চালচলন, পোশাক আশাকে সুরুচির পরিচয় পাওয়া যায়। তুই শুধু গাধার মত পড়াশুনাই করিস নি দিন রাত, অনেক দায়িত্ব নিতে শিখেছিস, যে কোন কাজ দিলে গুছিয়ে টিপটপ করে করে ফেলতে পারিস। বল্, আমি কোন মিথ্যা বলেছি? 

 

তাহলে বল, সৈকত ভাই কি এতই অন্ধ যে এসব কিছুই উনার চোখে পড়বে না? 

আমি জানি না... 

তুই ত লুকিয়ে প্রেম করবি না, ভাল লাগলে বাসায় প্রস্তাব পাঠাতে বলবি। হলে হল, না হলে নাই। 

তাও... 

অ্যাই! তোর এসব ইয়ে বাদ দে ত! আমার কথাটা লিখে রাখ্, কোন মেয়েই তোর চেয়ে ভাল অপশন হতে পারে না। 

পাম্প মারিস? 

নাআআ... মানলাম তুই ডানাকাটা পরী না। ডানাকাটা পরী হলে কী হত? সৈকত ভাইয়ের চোখ ধাঁধাত, তারপর ভেতরটা বাইরের মত না হলে একসময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলত। আর এখন? তোকে যদি একবার কাছ থেকে চেনে, তারপর থেকে যতই চিনবে, ততই আরও বেশি মুগ্ধ হবে। There is no way anyone will like you less over time. 

ইস্! তুই যে এসব কথা কোথায় পাস!!  

মিথ্যা বলেছি? বললে আমার কান কেটে নিস, যা! > 

Tuesday, April 10, 2012

কনফিউজড, কী করি?

যে বিষয়টা নিয়ে লিখতে শুরু করেছি তা নিয়ে লেখা আমাকে একেবারেই সাজে না। খুব ছোট বিষয়েও আমি এত বেশি চিন্তাভাবনা করা শুরু করে দেই যে মূল উদ্দেশ্য থেকে বেশ দূরে সরে আসি। এই যেমন, কয়েকদিন আগে আমার একটা বেশ কঠিন প্রেজেন্টেশন ছিল। প্রায় দেড় মাস ধরে এর জন্য দিন গুনছিলাম। একাডেমিক এসব টকগুলোতে মোটামুটি ফরমাল কাপড় পরে টক দিতে হয়। আমি সাধারণত এই ব্যাপারগুলো একেবারেই মাথায় রাখি না। কিন্তু এটা বড় পরীক্ষা হওয়ায় যেই না একটু মাথায় আনলাম, ওমা! একেবারে সিন্দাবাদের ভূত এর মত রাজ্যের চিন্তা ঘাড়ে চেপে বসল। ফরমাল কী? ফরমালিটির এ মাপকাঠি কে ঠিক করেছে? আমার প্রেজেন্টেশনে ওরা যাচাই করবে আমি কতটুকু জানি, কী পরলাম তাই নিয়ে গাত্রদাহের প্রয়োজন টা কী? আমি একটু কিছু পরে আমাকে খারাপ না দেখালেই ত হল। ওদের চোখে ফরমাল না ইনফরমাল তা দিয়ে কী এসে যায়? ইত্যাদি ইত্যাদি... 

ত যা হয়, এত রকমের চিন্তায় খেই হারিয়ে ছোট বিষয়ও অনেক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তবে এই প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে একটা বিষয় আমার ভালভাবে শেখা হয়ে গেছে - কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। খুবই সহজ একটা উপলব্ধি, পাঠকদের প্রত্যেকে আশা করি সিদ্ধান্ত নিতে সিদ্ধহস্ত, তবু লিখছি। শার্লক হোমস তার রহস্যের সমাধান নিজে নিজে করলেও ওয়াটসন কে তার এত প্রয়োজন ছিল কেন জানেন? ওয়াটসনকে বুঝিয়ে বলার জন্য হোমস কে ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করতে হত। যে কোন জটিল বিষয়ই ছোট ছোট ভাগ করে নিলে সমাধান করাটা অনেক সহজ হয়ে যায়। সিদ্ধান্ত নেয়ার এই প্রক্রিয়াটা তাই লিখছি, যাতে আমরা প্রত্যেকেই নিজের সাথে ঝালাই করে নিতে পারি। 

ফিরে যাই আবারো সেই কাপড়ের বিষয়ে। যেহেতু ফরমাল বলতে কী বুঝায় সেটা নিয়েই একটু সন্দেহ ছিল, নেট এ একটু ঘাঁটাঘাঁটি করে বুঝলাম এর কোন ধরে দেয়া মানদণ্ড নেই। যে ক'টা উদাহরণ পেলাম, তার কোনটাই আমার জন্য খাটে না। তবে ধরণ দেখে মোটামুটি একটা আন্দাজ পেয়ে আমার নিজের যে কাপড়গুলো ছিল সেগুলো দিয়ে ট্রায়াল দিলাম। দেখে শুনে দুই তিনটা বাছাই করে রাখলাম। তারপর আমার বেচারা বান্ধবীদের মতামত জানতে চাইলাম, কারো পছন্দ কারো সাথে মিলল না। বুঝলাম, এর যে কোনটাই মোটামুটি উতরে যাওয়ার যোগ্যতা রাখে। 

এই ঘটনাটায় সিদ্ধান্ত নেয়ার দু'টো গুরূত্বপূর্ণ ধাপ মেনে চলা হয়েছে। যে কোন সমস্যায় প্রথম কাজ হচ্ছে সেটা নিয়ে নিজে ব্রেইনস্টর্ম করা। সরাসরি সিদ্ধান্তে চলে না গিয়ে মোটামুটি সমস্যাটা কী, কেন হচ্ছে, আমার জানায় কোন গ্যাপ আছে কি না, এ ধরণের সমস্যায় অন্যরা কী করে - এ সব গুলো বিষয়ে একটা মোটামুটি হোমওয়ার্ক করে রাখলে সুবিধা হয়। তারপর যা যা জানলাম, তার উপর ভিত্তি করে কিছু সম্ভাব্য অগ্রগতি চিন্তা করে রাখা যায়, এই ধাপে 'কী' ফলাফল ঠিক করলাম সেটা গুরূত্বপূর্ণ না, গুরূত্বপূর্ণ হচ্ছে 'কেন' আমি এই ফলাফল টা পছন্দ করলাম। এই যেমন জামাগুলোর ক্ষেত্রে কোনটাই আমি শেষ পর্যন্ত পরি নি, কিন্তু রং, ফিটিং, প্যাটার্ণ - সবকিছু নিয়েই কিছুটা সময় বাছ বিচার করেছি। 

নিজে নিজে হোমওয়ার্ক শেষে বিষয়টা নিয়ে অন্যদের সাথে আলাপ করেছি। এই ধাপটা খুবই, খুবই গুরূত্বপূর্ণ, কেন একটু পরে বলছি। আলাপ করাতে কী হল, একেকজন একেকটার পক্ষে রায় দিল। এতে করে আমার বিচারটা যে মোটামুটি ঠিক আছে সে আত্মবিশ্বাসটা পেলাম। কাপড় না হয়ে বিষয়টা যদি আরো গুরুতর হত (এই যেমন সুপারভাইজরের সাথে সমস্যা), তখন আমার আগে থেকে করা হোমওয়ার্কের ভিত্তিতে তা নিয়ে আরো বিশদ আলোচনা করা যেত। এতে করে শুধু যে আরো শক্তপোক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া যেত তাই না, সে মানুষটার দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেও আরো ভাল জানা যেত। মেডিটেশন কোর্সে একটা কথা বারবার বলত, 'পয়েন্ট অব রেফারেন্স' বাড়াতে হবে। একটা নতুন মানুষের সমস্যাকে সমাধান করার ধরণ একটা নতুন পয়েন্ট অব রেফারেন্স। কে জানে, ভবিষ্যৎ জীবনে কোন একটা পর্যায়ে গিয়ে হয়ত আমি তার মত করে সমস্যাগুলো কে দেখতে চাইব! 

এছাড়া এর কিছু সেকেন্ডারি সুবিধা আছে। মতামত চাওয়া মানেই একজনের বিচার বুদ্ধির প্রতি সম্মান প্রদর্শন। আমি ব্যাপারটা মনে না রাখলেও অপরজন এটা মনে রাখবে বহুদিন। সম্মান, নির্ভরতা - ব্যাপারগুলো এমনই, হৃদ্যতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণে। তাছাড়া পুরো বিষয়টিতে আন্তরিকভাবে একজনকে অংশীদার করে নিলে তার দোয়ারও অংশীদার হয়ে যেতে পারি। 

আলোচনায় প্রত্যেকে একটা করে মতামত দেবে। কেউ কেউ তার মতের ক্ষেত্রে অত্যন্ত জোরালো হবে। এদের মধ্যে কারও কারও প্রভাব আমার উপর অত্যন্ত প্রবল (যেমন আমার পরিবারের মানুষগুলো), হয়ত আমি একজন সফল মানুষ হিসেবে তার মত হতে চাই, বা তাকে এত ভালবাসি যে তার কোন কথা সমালোচনা করতে আমি প্রস্তুত নই। তখন আমি কী করব? আর কিছু কানে না নিয়ে সে যা বলল, অন্ধভাবে পালন করব। না! কোনভাবেই না। যে যাই বলুক, নিজে বিবেচনা না করে কোন কাজ করা যাবে না। সূরা ত্বীন এ আল্লাহ বলেছেন, 

নিশ্চয়ই আমি মানুষকে সর্বোৎকৃষ্ট রূপে তৈরি করেছি 

সর্বোৎকৃষ্ট কেন জানেন? সিদ্ধান্ত নেয়ার স্বাধীন ক্ষমতা আর কারো নেই (জ্বীন ছাড়া); এই আয়াতে 'ইনসান' শব্দ টা একবচন, তার মানে এটা আমার পরিবারের মানুষগুলোর জন্য যতটা সত্যি, আমার জন্যেও ততটা সত্যি। অন্ধভাবে কোন পথ বেছে নেয়ার পথ আমাদের জন্য আল্লাহ বন্ধ করে দিয়েছেন। 

And We have certainly honored the children of Adam.. (17:70) 

এই honor বা dignity কোথা থেকে আসছে? আল্লাহরই দেয়া বিবেক বোধ ও স্বাধীন বিবেচনা বোধ থেকে। আমি কাউকে যতই ভালবাসি, তাকে অনুসরণ করার আগে আমি যেন আমার বিচার বিবেচনায় নিশ্চিত হয়ে নেই যে আমি ঠিক। 

যাই হোক। অন্যদের মতামত চাওয়ার পর আমার অনেকগুলো পয়েন্ট অব রেফারেন্স থাকবে। তারা কেন এ মতামত দিল তাও জানা হবে। তখন তৃতীয় ধাপ হচ্ছে আবারও চিন্তা করা, নিজে নিজে। আমার আগের চিন্তার সাথে এখনের চিন্তার পার্থক্য কী? আগে একটা বিস্তৃত ভাসাভাসা ধারণা ছিল, এখন সমমনা/অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে পক্ষে বিপক্ষে আরো খুঁটিনাটি জানা গেছে। এখন ইনশাআল্লাহ, আমি যা সিদ্ধান্ত নেব তা খারাপ হবে না। এই যে একটা ছোট্ট ইনশাআল্লাহ, এরও খুব প্রয়োজন আছে। সব কিছুর পরেও, আমরা মানুষ হিসেবে আমাদের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করতে পারিনা। আমি আমার সীমিত ক্ষমতায় যা কিছু করা সম্ভব, সব করেছি, সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কিন্তু আগামী একশ বছরের পরিপ্রেক্ষিতে এই কাজের কী প্রভাব পড়বে আমি জানি না। একশ কেন, কিছুক্ষণ পরেও কী হবে আমি জানি না। সুতরাং, আমাদের সীমাবদ্ধতাকে মনে রেখেই আল্লাহর উপর নির্ভর করে আমি আমার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আশা করি আল্লাহ আমার সহায় হবেন। 

সিদ্ধান্তের চতুর্থ বা সর্বশেষ ধাপ হচ্ছে ইস্তিখারা। আমি দুই রাকআত নফল নামায পড়ব, নামাযে দু'আ করব, যদি আমার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য এটি ভাল হয়, তাহলে এটি আমার জন্য সহজ করে দাও, নয়ত আমাকে এর থেকে দূরে সরিয়ে দাও। ইস্তিখারা এমন না যে সমস্যায় পড়লেই নামায পড়ে স্বপ্নের তালাশ করব। নামাযের আগে/পাশাপাশি এই ধাপগুলো পার হতে হবে। 

ইস্তিখারার দু'টো প্রচলিত ভুল ধারণা আছে - 

ইস্তিখারার উত্তর স্বপ্নেই দেখা যাবে: সব সময় না। ইস্তিখারার দুয়ায় আল্লাহর কাছে আমরা চাই যেন সর্বাঙ্গীন মঙ্গলময় একটা পথ আমরা বেছে নিতে পারি। আমার এক বান্ধবী তার প্রিয় মানুষটিকে বিয়ে করার জন্য ইস্তিখারা করে স্বপ্ন দেখে যে তাদের বিয়ে হবে না। হয়ও নি। আরেক বান্ধবী ইস্তিখারা করল অনেকবার। কিছুই দেখল না স্বপ্নে। কিন্তু ধীরে ধীরে তার পছন্দের মানুষটি এমনিতেই অনেক দূরে চলে গেল। আমার বেলায় ইস্তিখারায় আমি খুব সুন্দর একটা স্বপ্ন দেখি। আমাদের বন্ধু অপুর সাথে ভার্সিটিতে পড়াকালেই রনির প্ল্যান ছিল বিয়ের পর দুই বন্ধু বউ নিয়ে কাশ্মীর বেড়াতে যাবে। আমি ইস্তিখারায় স্বপ্নে দেখি আমরা একটা পাহাড়ের উপর বেড়াতে গেছি, নিচে খুব সুন্দর একটা শহর, রনি বলছে, 'ওটা কাশ্মীর'... এর মধ্যেই আমার ঘুম ভেঙে যায় একটা ফোনের শব্দে। রনি ফোন করে আমাকে জানায় আমার ইউনিভার্সিটি থেকে ওরও এডমিশন কনফার্ম হয়েছে। 

জানি না এই গল্প কেন বললাম। আমি যতবার ভাবি আমার হৃদয় ছুঁয়ে যায়, সেজন্য বোধ হয়। তবে ইস্তিখারা থেকে কোন উত্তর না পেলে, বা নিজের সিদ্ধান্তে খুব নিশ্চিন্ত না বোধ করলে ইস্তিখারা আবারো করতে পারেন। ইস্তিখারার কোন সর্বোচ্চ সীমা নেই। আর স্পষ্ট হ্যা বা না নিশ্চিত না হলে কাজ থামিয়ে রাখতে হবে, এমনও কোন কথা নেই। ইস্তিখারা এক অর্থে আল্লাহর অনুমতি চাওয়া। 

আমাদের দেশে পীর, আলেম, ইমামদের দিয়ে ইস্তিখারা করানোর প্রচলন আছে। ভাবনাটা এমন, আমি ত অত প্র্যাকটিস করি না, আমার ইস্তিখারা বোধহয় হবে না। তার চেয়ে যে ভাল নামায রোজা করে, তাকে দিয়ে করালে ঠিকঠাক মত হবে। এটা খুব ভুল ধারণা। আল্লাহর সাথে কথাবার্তায় কোন মাধ্যম নিলে তাতে বড়সর ভুল হয়ে যাবে। আল্লাহ ত এমনিতেই জানেন আমরা কে কেমন। যদি এমন মনে হয় যে আল্লাহ ভাববে, 'এতদিন খোঁজ নেই, এখন দরকারে আমাকে ডাকছে' - ব্যাপারটা কিন্তু মোটেও তা না। ফাঁকিবাজ স্টুডেন্ট পরীক্ষার আগে সিরিয়াস হয়ে গেলে টীচাররা আরো খুশি হন, সাহায্য করতে আরো আগ্রহী হন। আমরাই ভয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে চাই না, শয়তান মনের মধ্যে হীনমন্ন্যতা ঢুকিয়ে দেয়, 'ছিঃ তোমার লজ্জাও নেই, কোন মুখে দাঁড়াও তুমি আল্লাহর সামনে?' তখন যতবার নামায মিস দিয়েছি, সব মনে পড়বে, মুভি দেখা, গালি দেয়া - সব মনে আসতে শুরু করবে। আসুক! তবু দাঁড়াই। মনে মনে বলি, আল্লাহ, তুমি ত জানই আমি কেমন, তোমার ইবাদতটাও ঠিক মত করি না। কিন্তু তারপরেও তুমি ছাড়া আমার কোন উপায় নেই। তুমি পথ না দেখালে, সাহায্য না করলে আমি আরো ভুলের মধ্যে তলিয়ে যাব। দেখ, শয়তান আমাকে কীভাবে ডাকছে! আমার উপর রাগ হয়ে থেক না আল্লাহ প্লীজ! 

ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ আমাদের সিদ্ধান্তে তাঁর রাহমাহ ও জ্ঞানের পরশ বুলিয়ে দেবেন। 

http://www.youtube.com/watch?v=EEcovFTsQ4E

Friday, April 6, 2012

স্বপ্নের দেশ

আমার পূর্ণ না হওয়া সব সাধ আমি খুঁজে বেড়াই স্বপ্নের দেশে। সত্যিকারের স্বপ্নের দেশ না, জেগে দেখা স্বপ্নের দেশ। সে দেশে ভালবাসায় টইটম্বুর হয়ে থাকে আকাশ বাতাস। সূর্যটা কোমল আলো হয়ে ঝুলে থাকে এক পশলা বৃষ্টির পর ঝকঝকে আকাশের এক কোণায়। তরতাজা ঘাসে পা ফেলে হাঁটি আমি, শরীরটা এত হালকা - ঘাসের ডগাগুলোই যেন বয়ে নিয়ে চলে। সামনে ঝিরিঝিরি ছোট্ট এক নালা। উপরে ছোট ছোট নুড়ি পাথর। ওপাশে উঁচু হয়ে উঠে গেছে ঘাসের নরম বিছানা, তাতে অসংখ্য উজ্জ্বল রংয়ের ফুল মুখ তুলে তাকিয়ে আছে। প্রজাপতির ওড়াওড়ি, গাছের ছায়ায় জোনাক পোকার লুকোচুরি, এই এত্তটুকুন লাল পিঁপড়ার তড়িঘড়ি চলে যাওয়া... ঘাসফড়িং এর একটানা ক্রং... ক্রং... শব্দ... সব..... সবকিছু আমার স্বপ্নে আসে ভালবাসা হয়ে। 

মানুষ? হ্যা, মানুষও আসে। এই পৃথিবীতে যাদের ভালবাসা আমার বুকের নিঃশ্বাসটা ভারি করে দেয়, চোখে শুধু শুধু একসার জল এনে দেয়... তারাও আসে আমার পাশে বসতে। এ পৃথিবীতে যাদের ভালবাসি, তারা সবাই আমার মত করে ভাবে না। আমার সব - সবচাইতে প্রিয় মানুষটাও পুরোপুরি আমার মত করে আনন্দগুলোকে দেখে না। কিন্তু স্বপ্নের দেশে... খুব আনন্দ... একটা ছোট্ট বাঁকানো লতার হেলে পড়া আমাকে যতটুকু উচ্ছ্বসিত করে... তার মুখের দিকে তাকিয়ে দেখি তার মুখও ততটুকু উজ্জ্বল হয়ে গেছে। 

স্বপ্নের দেশে আমাকে নিয়ে কেউ হাসে না। 'এটা ঠিক হয়নি, ওটা ঠিক না...' অমন বিচার করতে শুরু করে না। কেউ বলে না, 'এইটাও জান না?', বলে, 'এস, শিখিয়ে দেই।' মুখ যত না হাসে, চোখ হাসে তারও বেশি, আর চোখের দিকে তাকিয়ে দেখতে পাই হৃদয়ের গভীর...টুকু। সেখানে একটুও ঘৃণা নেই, সমালোচনা নেই, অহংকার নেই। যেন আমার সাথে থাকতে পারাই তাদের একমাত্র আনন্দ। 

'আমরা দু'জন একই গাঁয়ে থাকি, এই আমাদের একটি মাত্র সুখ' 

আমার স্বপ্নের দেশে আমার প্রিয় সব খাবার থাকে। স্ট্রবেরিগুলো টুকটুকে লাল, আর খুব মিষ্টি গন্ধ, টকটক মিষ্টি, পানসে টক না। পাকা রসালো আতা... মুখ ডুবিয়ে খেতে গেলে সারা মুখ ভরে যায়। বিচিগুলোও খেয়ে ফেলা যায়, বাছতে হয়না। ওখানে সব কিছু সুন্দর। সবাই সুন্দর কথা বলে। তাই ত সুরা গাশিয়াহ তে 'লা তাসমা'উ ফীহা লা'গীয়া' শুনে স্বপ্নের দেশটাতে চলে যাই। আল্লাহ কত মজার মজার স্বপ্ন দেখান! এমনকি পান করা নিয়েও, যারা সেই রকম ভাল মুসলিম, আল্লাহ নাকি নিজে তাদের পানপাত্রে পানীয় ঢেলে দেবেন। এ কথাটা শুনে বুক থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত কেঁপে উঠে। আমার কল্পনাতে আর ধরে না। 

তবে মেঘহীন পরিষ্কার আকাশের দিকে তাকালে কেমন যেন করে বুকের ভেতর। অদ্ভুত সেই আলো বার বার মনে করিয়ে দেয় 'Allah is the light of the heavens and the earth'. সে আলোয় সম্মোহিত হয়ে শুধু ভাবি, কেমন সেই আলো? জান্নাতের যারা অধিবাসী, তাদের জন্য নাকি সব পুরস্কারের সেরা পুরস্কার হবে আল্লাহ কে দেখতে পাওয়া। যারা বেশি ভাল কাজ করেছে, তারা সামনের সারি থেকে দেখতে পাবে। একবার দেখার পর নাকি শুধু মনে হবে আবার কখন দেখব? অধিক পূণ্যবান লোকেরা দিনে দুইবার দেখতে পাবে, আর কম যারা, তারা সপ্তাহে একবার দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়া - আমার কাছে শুধুই মনে হয় অনেক অনেক ভালবাসায় ভরা এক সত্ত্বা। যার সামনে গেলে এত এত বেশি সমর্পন করতে ইচ্ছে হবে যে আমি যে একটা পূর্ণাঙ্গ মানুষ, সেটাই আর মনে থাকবে না। কিছু চাইব, কী চাইব? তিনি ত সব জানেন। কিছু বলব, বলার জন্য যে চিন্তাটুকু করতে হয়, তারও আগেই ত তিনি জানেন আমি কি ভাবছি। তাঁকে আমি ভালবাসি... কিন্তু এ কেমন ভালবাসা, যার প্রকাশ কী দিয়ে হবে তাই ভাবতে ভাবতেই সময়টুকু ফুরিয়ে যায়? আল্লাহর কথা ভাবতে গেলে কেবলই আমার সব তালগোল পাকিয়ে যায়। 

তবু তাঁর কথা ভাবতে ভাল লাগে। আমার চারপাশের মানুষগুলোর কোন কারণ ছাড়া এত এত ভালবাসা বিলানো দেখে বুঝি, এ আর কেউ না, আল্লাহরই দেয়া। অনেকে ভ্রুকুটি করে জানতে চায়, তুমি এমন কি কেউকেটা যে নিজে নিজে জান্নাত, আল্লাহর দর্শন - সব নির্ধারণ করে ফেলেছ? আমি বলি, আমি যতটা ক্ষুদ্র, আল্লাহ ততটাই মহৎ। এতগুলো বছর আল্লাহ আমাকে যা কিছু দিয়েছেন, তা পাওয়ার জন্য আমার কেউকেটা হতে হয়নি। তাঁর রাহমাহ ই আমাকে সব দিয়েছে, যার কিঞ্চিৎ যোগ্যতাও আমার ছিল না। জান্নাত? না, আমি যোগ্য নই। তবে আমি আল্লাহর দর্শন পেতে উদগ্রীব। আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হব, এত বড় বোকা আমি নই। নিশ্চয়ই তাঁকে আমি দেখব, সেদিন তাঁর রাহমাহ তাঁর ক্রোধের উপর জয়ী হবে। 

যে ভাইটি অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে নিজেকে সবকিছু থেকে গুটিয়ে নিয়েছে, তাকে স্বান্তনা দেয়ার মত ভাষা আমার জানা নেই। শুধু তাকে মনে করিয়ে দিতে চাই, আল্লাহ বলেছেন, 'আমার বান্দা যদি হেঁটে আমার দিকে আসে, আমি দৌড়ে তার দিকে যাই। আমার বান্দা এক পৃথিবী সমান পাপ নিয়ে আমার সামনে দাঁড়ালে আমিও এক পৃথিবী সমান ক্ষমা নিয়ে তার সামনে দাঁড়াই।' 

মানুষের ক্ষুদ্রতা দেখে নিরাশ হয়ে আল্লাহর থেকে সরে গেলে হবে? আল্লাহর ক্ষমার কোন তুলনা হয়? না তাঁর ভালবাসার কোন তুলনা হয়?

Sunday, March 4, 2012

আমার যখন মন খারাপ

আমার মন খারাপ হয় দু'টো কারণে। কিছু একটা মনে মনে আশা করে থাকি, সেরকম করে সব না হলে; আর মন খারাপ হয় কেউ অন্যায় আচরণ করলে। অন্যায় আচরণ করলে আমি খুব করে হিসেব মেলানোর চেষ্টা করি, কেন এমন করল? তাহলে কি আমার কোন ভুল ছিল? আমি এই কাজটা এভাবে না করে ওভাবে করলে কি ও আর অমন করত না? তারপর যদি বুঝি যে আমারই দোষ ছিল, তখন মনে হয়, আচ্ছা, আমি না হয় দোষ করেছিই, সে কেন আরো একটু উদার হয়ে দেখতে পারল না? সে কেন ক্ষমা করে দিল না? আমার সাথে ওর হৃদ্যতার উছিলায় কেন আমার এই দোষটা উপেক্ষা করতে পারল না? তবে কি ও আমাকে ততটা পছন্দ করে না, যতটা করে ওর নিজের ইগোকে? 

আর যদি আমার কোন দোষ না থাকে, তখন রীতিমত বিমর্ষ হয়ে পড়ি, মানুষ এত স্বার্থপর কেন? এত ইগোনির্ভর কেন? এইভাবে কেন দেখল ঘটনাটাকে, কেন আমি যেভাবে দেখেছি সেভাবে দেখল না? আচ্ছা, ও কি তাহলে সবসময় সবকিছুকে এভাবেই দেখে? ওর পুরনো কাজগুলোও কি তাই মিন করে? তাহলে ত ও আমার মত না। নাকি ওর আত্মসম্মানবোধ প্রচন্ড বেশি, অথবা ইনসিকিউরিটি এত বেশি, যে তার চাওয়া অনুযায়ী কিছু না হলেই চোখ বুজে ঢাল তলোয়ার নিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে লেগে যায় - আর কাকে কী দিয়ে আঘাত করল সেটা দেখতে পায়না? 

আচ্ছা, সে যে অন্যায় করল, সেটা কি সে কোনদিন বুঝতে পারবে? আমি কি ধৈর্য ধরব, না কি এই দন্ডেই তার সাথে সম্পর্ক শেষ করে দিব? আমি কি মাফ করে দিব, না রাগ ধরে বসে থাকব? মাফ করে দিয়ে পুরো স্বাভাবিক হয়ে গেলে ও ত বুঝতেই পারবে না যে সে অন্যায় করেছিল। রাগ সারাজীবন ধরে রাখব? আল্লাহ রাগ হবে যে! আচ্ছা, এখন ভুলে যাই, পরে মনে করিয়ে দেব। কিন্তু আমি ত ভুলতে পারছি না। বুকের ভেতরে খচখচ করে লাগছে। (আচ্ছা, ও কেন এমন করল? ও কি এমনই? ও কি আমাকে পছন্দ করে না? ও কি বোঝেনা যে এটা অন্যায়?) তার চেয়ে এখন মন খারাপ করেই থাকি, বিষন্নতার আবরণে নিজেকে ঢেকে রাখলে এই মুহূর্তে আর কোন কিছুর মুখোমুখি হতে হবে না। 

একটু ঠিক হওয়ার পর... 

ও আমাকে এত কষ্ট দিল? আমিও বোকা, আমি ভুল মানুষের থেকে ভুল আশা করেছিলাম, দোষ আমারই। আমার সত্যিকারের শুভাকাঙ্ক্ষী যারা আছে, তাদের প্রতি এখন থেকে আরো মনোযোগী হব। তাদেরকেই আত্মার সাথে বেঁধে রাখার চেষ্টা করব, যাতে কখনও কষ্ট পেতে না হয়। 

এভাবেই আমি বিলিয়ার্ড বলের মত এক পকেট থেকে আরেক পকেটে মুখ গোঁজার চেষ্টা করে যাব। এই জনের ব্যবহারে দুঃখ পেলে অন্যজনকে আরো বেশি করে আঁকড়ে ধরব, তার প্রতি অতি দয়ার্দ্র হয়ে যাব, যাতে সে আমাকে ভুলেও কষ্ট না দেয়। বন্ধুরা কষ্ট দিলে পরিবারে ফিরে যাব, পরিবারে কষ্ট পেলে বন্ধুদের কাছে। আদর, ভালবাসা, সম্মান পাওয়ার জন্য প্রায়োরিটি ওলট পালট করে দিয়ে যার যা প্রাপ্য তা না দিয়ে যে ভালবাসবে তার জন্য সব উজাড় করে দেব, যতদিন ভালবাসবে, কেবল ততদিনই। 

অন্তঃসারশূন্যতার এই বিরাট ফাঁকি থেকে কবে বের হতে পারব?