স্নিগ্ধার দিনগুলো সবচেয়ে করুণ হয় যখন কোন উৎসব আসে। প্রায় নেই হয়ে যাওয়া রিলেটিভদের সাথে যখন দেখা হয়, ওর ঘরের মানুষগুলোর বিভাজন যেন ওর ভেতরটা এতটুকু করে ফেলে। খুব রাগ হয় মা'র উপর, বাবার উপর। কেন পৃথিবীতে আনলে আমাকে? কেন এই উৎকট অস্বস্তিকর পারিবারিক গেট টুগেদারে আমাকে সং বানানোর খেলা খেলবে? কোন প্রোগ্রামে যেতে ওর ইচ্ছে হয়না। কিন্তু না গেলে যে আরো কতগুলো তীর্যক মন্তব্য আর অসংলগ্ন উপদেশ সইতে হবে!
বাবা মায়ের উপর রাগ হয়, আবার মায়াও লাগে খুব। এই মানুষগুলোর মত দুঃখী আর ক'জন আছে? সবচেয়ে কাছের যে সম্পর্কটা থেকে ওরা নির্ভরতা পেতে পারত, সেটা বদলে গেছে ইগো রক্ষার যুদ্ধে। ওদের আর আমি ছাড়া কী আছে? তাই ত আমার এতটুকু স্খলন ওরা সইতে পারেনা। উন্মত্তের মত একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে। আমি যদি কষ্ট দেই এরা যাবে কোথায়? এক আমাকে নিয়েই ত ওদের যা কিছু স্বপ্ন, যা কিছু বেঁচে থাকার অবলম্বন! এসব ভেবে অনেকবার আত্মহত্যা করতে গিয়েও পারেনা সে। সাহসও বোধ করি হয়না অতটা। মৃত্যু কেমন হয়? আমি মরে গেলে কি আব্বু আম্মু কাঁদবে? কতটুকু কাঁদবে? আহ্, আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব কাঁদবে, তাই না? ইস, আমি যদি ওদের পাগল পাগল কান্না দেখতে পেতাম!
স্নিগ্ধার ইচ্ছে হয় সব কিছু ফেলে অনেক দূরে পালিয়ে যেতে। নিজের মত থাকবে, কাউকে নিয়ে ভাবতে হবেনা.. কিন্তু আব্বু আম্মুকে যে বড় ভালবাসে ও। কত রাত চুপিচুপি দোয়া করেছে বাবা মার সব যেন ঠিক হয়ে যায়। ঠিক একটা মুভির মত যেন ওরা খুব খুব সুখে থাকে। একা একাই ফ্যান্টাসি গড়ে স্নিগ্ধা। কখনো ওর মরে যাওয়ার, কখনো বাবা মায়ের খুনসুটির, কখনো নিজের কথাও ভাবে সে। প্রিন্স চার্মিং,
আমার প্রিন্সও ঠিক এমন করেই আমাকে কষ্ট দেবে, তাই না? আচ্ছা, আব্বু কি কখনো আম্মুর প্রিন্স চার্মিং ছিল? ধ্যাৎ, কী সব ভাবছি!
স্নিগ্ধা কলেজ, কোচিংএর বাইরের পৃথিবীটাতে খুব নাজুক, ও জানেই না কী করে অচেনা মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, কী করে সমস্যা সমাধান করতে হয়, বা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ওকে ত কেউ শেখায়নি! তবে হ্যা, এই গুণগুলো না থাকার কারণে ভর্ৎসনা পেয়ে ফেলেছে বেশ কয়েকবার, নিজের ভেতরে গুটাতে গুটাতে ছোট্ট একটা বিন্দু হয়ে যেতে পারত যদি সে! ভয়ই করে তার, কী করে মানুষের চাওয়া পূরণ করবে সে? কখনো কি পেরেছে? এইটুকু বয়সে কত বড় বড় কথা চিন্তা করে স্নিগ্ধা। আচ্ছা, অন্যরা কেন চিন্তা করে না? বাবা মা, শিক্ষক - এরা ত আমার অনেক বড়! ওরা কেন এত অন্ধ?
টিভির প্রোগ্রাম মন ভাল করতে পারেনা। কী সব আজগুবি ফান এদের। গল্পের বই পড়তে বেশ লাগে, ফ্যান্টাসি গুলো বেশ বাধন ছাড়া হয়! এক আধজন বন্ধু বান্ধব আছে, কিন্তু কেমন যেন হাঁপ ধরে যাওয়া আলোচনা এদের। স্নিগ্ধার নিজের মনের জগতে সে একা থেকেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। খুব বেশি ভালবাসা পেতে তার অস্বস্তি লাগে। বিষন্নতা, একা থাকা - এটা তার অনেক দিনের সঙ্গী। বোধকরি জীবনসঙ্গীর থেকে উদাসীনতা পেলেই তার স্বাভাবিক মনে হবে।
পাঠক, বলতে পারেন, স্নিগ্ধা আর চার বছর পরে বিয়ে করে নিজের সংসারে গিয়ে কী করবে? আবেগ, অভিমান, হতাশা, অপরিপক্কতা, অদূরদর্শিতা, জীবনের সব কিছুর প্রতি বিতৃষ্ণা ওকে কেমন জীবন সঙ্গী হিসেবে গড়ে তুলবে? একজন মা হিসেবে সে কেমন হবে? চাকরির কথা নাহয় বাদই দিলাম। এই মেয়েটা যদি ভারসাম্য করে চলতে না পারে, তার পরিবারেও কি তবে তার বাবা মায়ের গল্পেরই পুনরাবৃত্তি হবে? এর শেষ কবে, কোথায়?
বাবা মায়ের উপর রাগ হয়, আবার মায়াও লাগে খুব। এই মানুষগুলোর মত দুঃখী আর ক'জন আছে? সবচেয়ে কাছের যে সম্পর্কটা থেকে ওরা নির্ভরতা পেতে পারত, সেটা বদলে গেছে ইগো রক্ষার যুদ্ধে। ওদের আর আমি ছাড়া কী আছে? তাই ত আমার এতটুকু স্খলন ওরা সইতে পারেনা। উন্মত্তের মত একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকে। আমি যদি কষ্ট দেই এরা যাবে কোথায়? এক আমাকে নিয়েই ত ওদের যা কিছু স্বপ্ন, যা কিছু বেঁচে থাকার অবলম্বন! এসব ভেবে অনেকবার আত্মহত্যা করতে গিয়েও পারেনা সে। সাহসও বোধ করি হয়না অতটা। মৃত্যু কেমন হয়? আমি মরে গেলে কি আব্বু আম্মু কাঁদবে? কতটুকু কাঁদবে? আহ্, আমাকে জড়িয়ে ধরে খুব কাঁদবে, তাই না? ইস, আমি যদি ওদের পাগল পাগল কান্না দেখতে পেতাম!
স্নিগ্ধার ইচ্ছে হয় সব কিছু ফেলে অনেক দূরে পালিয়ে যেতে। নিজের মত থাকবে, কাউকে নিয়ে ভাবতে হবেনা.. কিন্তু আব্বু আম্মুকে যে বড় ভালবাসে ও। কত রাত চুপিচুপি দোয়া করেছে বাবা মার সব যেন ঠিক হয়ে যায়। ঠিক একটা মুভির মত যেন ওরা খুব খুব সুখে থাকে। একা একাই ফ্যান্টাসি গড়ে স্নিগ্ধা। কখনো ওর মরে যাওয়ার, কখনো বাবা মায়ের খুনসুটির, কখনো নিজের কথাও ভাবে সে। প্রিন্স চার্মিং,
আমার প্রিন্সও ঠিক এমন করেই আমাকে কষ্ট দেবে, তাই না? আচ্ছা, আব্বু কি কখনো আম্মুর প্রিন্স চার্মিং ছিল? ধ্যাৎ, কী সব ভাবছি!স্নিগ্ধা কলেজ, কোচিংএর বাইরের পৃথিবীটাতে খুব নাজুক, ও জানেই না কী করে অচেনা মানুষের সাথে কথা বলতে হয়, কী করে সমস্যা সমাধান করতে হয়, বা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ওকে ত কেউ শেখায়নি! তবে হ্যা, এই গুণগুলো না থাকার কারণে ভর্ৎসনা পেয়ে ফেলেছে বেশ কয়েকবার, নিজের ভেতরে গুটাতে গুটাতে ছোট্ট একটা বিন্দু হয়ে যেতে পারত যদি সে! ভয়ই করে তার, কী করে মানুষের চাওয়া পূরণ করবে সে? কখনো কি পেরেছে? এইটুকু বয়সে কত বড় বড় কথা চিন্তা করে স্নিগ্ধা। আচ্ছা, অন্যরা কেন চিন্তা করে না? বাবা মা, শিক্ষক - এরা ত আমার অনেক বড়! ওরা কেন এত অন্ধ?
টিভির প্রোগ্রাম মন ভাল করতে পারেনা। কী সব আজগুবি ফান এদের। গল্পের বই পড়তে বেশ লাগে, ফ্যান্টাসি গুলো বেশ বাধন ছাড়া হয়! এক আধজন বন্ধু বান্ধব আছে, কিন্তু কেমন যেন হাঁপ ধরে যাওয়া আলোচনা এদের। স্নিগ্ধার নিজের মনের জগতে সে একা থেকেই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। খুব বেশি ভালবাসা পেতে তার অস্বস্তি লাগে। বিষন্নতা, একা থাকা - এটা তার অনেক দিনের সঙ্গী। বোধকরি জীবনসঙ্গীর থেকে উদাসীনতা পেলেই তার স্বাভাবিক মনে হবে।
পাঠক, বলতে পারেন, স্নিগ্ধা আর চার বছর পরে বিয়ে করে নিজের সংসারে গিয়ে কী করবে? আবেগ, অভিমান, হতাশা, অপরিপক্কতা, অদূরদর্শিতা, জীবনের সব কিছুর প্রতি বিতৃষ্ণা ওকে কেমন জীবন সঙ্গী হিসেবে গড়ে তুলবে? একজন মা হিসেবে সে কেমন হবে? চাকরির কথা নাহয় বাদই দিলাম। এই মেয়েটা যদি ভারসাম্য করে চলতে না পারে, তার পরিবারেও কি তবে তার বাবা মায়ের গল্পেরই পুনরাবৃত্তি হবে? এর শেষ কবে, কোথায়?
No comments:
Post a Comment