Monday, June 27, 2011

epitaph


আমার মাথায় সারাক্ষণ মরার চিন্তা ঘুরঘুর করে। এইবারের জন্মদিনে মনে হল, average life expectancy এর প্রায় অর্ধেক ত পার করে আসলাম, বাকি অর্ধেকটা যদি না পাই? চিন্তা করে দেখলাম আমি আদমিটা না থাকলে দুনিয়ার মাত্র যেই একজনের খাঁটি মানুষ হয়ে বেড়ে্ ওঠা কিছুদিনের জন্য থেমে যেতে পারে সে হচ্ছে আমার ছোট বোন ইশতু। তাই তাড়াতাড়ি ওকে একটা ইমেইল করলাম, একটা গালভরা নাম দিয়ে, 'epitaph'. পুরো মেইলটাই এই চিন্তা করে লেখা, সে তার অন্তহীন পথচলার কোন এক জায়গায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে, সামনে ভাগ হয়ে যাওয়া দুটো পথেই কাটা, কঙ্কর, ফুলের বাগান আছে। she has to choose which flower she loves more, which thorn she allows her to hurt. আমি তাকে অনে...ক দূর থেকে দেখছি আর মাথা কুটে মরছি, কেন চলে আসার আগে এই কথা ক'টা বলে আসলাম না!

০৪.০২.১০

বোন, আমি যদি মারা যাই তখন ত আর তোকে উপদেশ দিতে পারবনা.. তাই শর্টকাট তোকে কয়েকটা ভাল টিপস দিয়ে রাখি।

tips no. 1: মন থেকে কখনো কারো ক্ষতি চাবিনা বা করবিনা। কোন একটা কথা বললে তোর একটু্খানি উপকার হবে, আর অন্যের বড় একটা ক্ষতি হবে - বলবিনা! তোর বড়সর উপকার হবে, আর অন্যের হালকা পাতলা ক্ষতি হয়ে যাবে - করবিনা! এমনকি মন থেকে চাবিও না যে তার খারাপ হোক, সে যাই করুক। যদি তারে দেখতে না পারিস, তারে নিয়ে চিন্তা করা বন্ধ করে দিবি। কিন্তু খারাপ চাবি না কক্ষণো।
corollary 1: This includes গীবত, hatred and revenge. মন থেকে এগুলি দূর করার চেষ্টা কর্।

tips no.2: as a person নিচের কয়েকজনের প্রতি তোর দায়িত্ব সবসময় পালন করবি।
১. আল্লাহর প্রতি: 5 times prayer, 1 month fasting, zakat, hajj
২. বাবা মায়ের প্রতি: তাদের কেয়ার নেয়া, in their old ages, treat in a way so that they can NEVER realize that they are not making decisions anymore.
৩. spouse and own family: care care and care. nothing else to say. তারা যাতে উচ্ছন্নে না যায় তার সব দায়িত্ব তোর। কোন excuse নাই এর মধ্যে।
৪. আত্মীয় স্বজনদের প্রতি: advice লাগলে advice, টাকা লাগলে টাকা, অসুখ হলে খোঁজ নেয়া - এগুলি। যদি কখনো দান খয়রাত করার মত income হয় তাহলে আত্মীয়দের মধ্যে দিবি সবার আগে।

এই তো! এই দুইটা principle এ strict থাকলে তোর নিজের জীবন টা সুন্দর হবে, আর তোর কারণে তোর চারপাশের মানুষগুলিও উপকৃত হবে। এরকম অনেক সময় আসবে, যখন তোর কোনটা করণীয় বুঝতে পারবিনা। আর দেখবি মনের মধ্যে কে যেন কথা জুগিয়ে দিতে থাকে। "এইটা কর... এইটা করলে অনেক সুবিধা... এত ইয়ে হলে হয়না... অন্যেরা সবাই ত করে.........." এইটা শয়তান। শয়তান এমনকি আমাকে দারুন দারুন সব logical point মনে করায় দিতে থাকে (যখন রনির সাথে ঝগড়া হয়), with nice sentence structure and example. এত জোস সব উত্তর presentation এর সময় মনে আসলেও একটু কাজে দিত। একটা violent surge আসে, এক্ষুণি গিয়ে কথাটা শোনায় দিয়ে আসি, দাঁতভাঙা জবাব হবে, হুঁহ!
মনটারে তখন ধমক দিয়ে exact opposite চিন্তা করতে থাকি। শান্তি!




** জিইবি তে পড়ার সুবাদে ছোট ভাই বোনের সংখ্যা এখন প্রায় পঞ্চাশ এ এসে দাড়িয়েছে। কারো জন্যই ত আমার নিজের বোনের চেয়ে কম মঙ্গল আশা করিনা, তাই সাত পাঁচ না ভেবে নোট টা পোস্ট করেই দিলুম।

ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার টা কী?

খুবই যুক্তিসঙ্গত কথা। কী দরকার? আসলে প্রশ্নটা বোধহয় ঠিকমত হলনা, কারণ আমরা সবাই জানি, জাহান্নামে পুড়ে মরার হাত থেকে বাচার জন্য ধর্ম পালন করতে হবে। ছোটবেলা থেকে টেক্সটবুক এ অথবা বাবা মায়ের থেকে যা জেনেছি তার সুবাদে ধর্ম নিয়ে এর বাইরে কিছু ভাবার যোগ্যতা আমার হয়নি। আবার পাশাপাশি এটাও শুনে এসেছি, আল্লাহ নাকি খুব দয়ালু। যেই আল্লাহ এবং রাসুল কে সত্য বলে জানবে সেই বেহেশতে যাবে।

well, সব তর্কই এভাবে শুরু হয়- সবাই প্রমাণ করার চেষ্টা করে, তোমরা যা ভাবছ আল্লাহ আসলে অত দয়ালু না। তোমরা যদি ১০০% ধর্ম না মান তাহলে কোনভাবেই মাফ পাবে না। তারপর শিরক, বিদআত ইত্যাদি ইত্যাদি আরো বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করে বোঝানোর চেষ্টা করে এই সব ক্ষমার অযোগ্য অপরাধগুলি তোমার মধ্যে বিদ্যমান, অতএব পরিত্রাণ পেতে ধার্মিক না হয়ে তোমার উপায় নেই।

পুরো তর্কটা abstract থেকে আরো abstract হয়ে যায়। একটা যুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন মানুষকে জুজুর ভয় দেখিয়ে কি তার পুরো lifestyle বদলে ফেলা সম্ভব? সে ত জানতে চাইতেই পারে, একজন পরোপকারি ভাল মানুষের সাথে একজন ধার্মিক মানুষের পার্থক্যটা কী? একজন সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষ বেশির ভাগ সময়ই অনেক বেশি মুক্ত বুদ্ধির অধিকারী হয়, পক্ষান্তরে, ধর্মের সাথে মুক্ত চিন্তা, স্বাধীনতার কেমন যেন একটা আড়ি আড়ি ভাব। কেমন যেন একটু ষাঁড় ষাঁড় ভাব তাদের মধ্যে। একটু বেশি কিছু বললেই ঢুস!

গতকাল রনি তার এক বন্ধুর সাথে তর্ক করছিল, সিলেবাস থেকে ধর্ম বিষয়টা বাদ দিয়ে দেয়া নিয়ে, আমার খুব একটা ভাল লাগেনি। ফাইভ সিক্স এ সালাম স্যার এর স্কেলের বাড়ি না খেলে এতদিনেও বোধহয় দুআ কুনুত শিখে উঠতে পারতাম না। ও তখন আমাকে বলল, এই যে এতগুলি বছর ইসলামিয়াত বই পড়ে আসলা, কেউ কোথাও লিখসে আমাদের ধর্মটা যে এত সুন্দর?

তাই ত! কত কষ্টে, জীবনের বিভিন্ন চড়াই উতরাই পার হতে ঘুমের ওষুধ, ডেল কার্ণেগী থেকে শুরু করে মেডিটেশন, সাইকোলজিকাল কাউন্সেলিং ইত্যাদি ইত্যাদি স...ব পদ্ধতি প্রয়োগ করে হোচট খেয়ে শেষ পর্যন্ত ধর্মের আশ্রয় নিয়েছি। কই! কেউ ত কোনদিন বলেনি, আল্লাহ নামে তোমার একজন best friend আছে। তাকে তুমি যাই জিজ্ঞাসা করবা সে তারই উত্তর দিবে। in fact, সব উত্তর already দেয়াই আছে। ইকটু কষ্ট করে হাদিস এর দুইটা বই পড়ে ফেল.... দেখবা কোথাও না কোথাও তোমার সমস্যার সমাধান দেয়া আছেই।

যাই হোক, প্রশ্নটা ছিল, ধর্ম নিয়ে মাথা ঘামানোর দরকার কী? আরো সহজ করে বলতে গেলে, মানবতাবোধ ই কি সবচেয়ে বড় কথা না? কেন ধর্মের দোহাই দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করতে হবে? প্রথমত, বিভেদ তৈরি করার প্রশ্নই উঠেনা। দ্বিতীয়ত, অবশ্যই মানবকল্যাণ সবচেয়ে বড় কথা (as long as worldly things are concerned). এইবার নিচের অতি সাধারণ ঘটনাগুলি একটু চিন্তা করা যাক -

১. আমার কলিগ অথবা স্বল্প পরিচিত কেউ আমার সাথে ছোটলোকের মত একটা কাজ করল। simply ছোটলোকি! যে কেউ শুনলে ছি ছি করবে (যে যার মনের মত একটা উদাহরণ ভেবে নিন, আমার কল্পনাশক্তি বেশি প্রবল না). আমি কীভাবে react করব?
- সাধারণ মানুষ হলে একটা উচিত শিক্ষা দিব। চক্ষুলজ্জায় সামনা সামনি কিছু বলতে না পারলেও তাকে চেনে এমন মানুষের কাছে পুরো ঘটনাটা সবিস্তার বয়ান করব।
- ভাল মানুষ হলে ঘটনাটা চেপে যাব, তবে সেই পাবলিকের থেকে সাবধান হয়ে যাব, তার সাথে আমি আর নাই।

ধর্মের সমাধান মানলে পুরো ঘটনাটা ভুলে যাব, তাকে অন্তর থেকে মাফ করে দিব এবং তার সুমতির জন্য চেষ্টা করব। যে মানুষটার best friend আল্লাহ, সে ত ঐ লোকের থেকে কিছু আশা করে না। অতএব ঐ বদলোকের কর্মকান্ড ওর প্রতি আমার আচরণ বিন্দুমাত্র বদলাতে পারবেনা। আমি তাকে আগের মতনই উপকার করব, খারাপ সময়ে স্বান্তনা ও ভাল উপদেশ দিব। চাই কি, আল্লাহ কে খুশি করার উদ্দেশ্যে তার spiritual uplifting কে একটা প্রজেক্ট হিসেবেও নিয়ে ফেলতে পারি। ফলাফল, সে আমার থেকে উপকার পেতেই থাকবে, হয়ত কোনদিন তার মধ্যে চেতনা আসবে, না আসলেও আমার কিছু যায় আসে না। আর আমিও irritating people দের ভাল deal করা শিখে যাব।


২. আমার অসম্ভব মন খারাপ। কোন প্রিয়জনের অন্যায় আচরণ আমার বুকের ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে। বেচে থাকাটাই এখন অর্থহীন মনে হচ্ছে। চারপাশে কালিগোলা অন্ধকার, অসহায়ের মত হাতড়ে কোথাও একটু আলো পাচ্ছিনা। teen age হলে ঘুমের ওষুধ খাবো, একটু সাবালক হলে আরেকটু নিষিদ্ধ কিছু... অথবা খুব ভাগ্যবান হলে কোন বন্ধুর উপর ভর করে আস্তে আস্তে জীবনে ফিরে আসব, তাও পুরো সময়টায় অসংখ্য বার হতাশা, রাগ, প্রতিশোধ, ঘৃণাসহ ধ্বংসাত্মক হাজারো আজব অনুভূতি হবে।

এখন যে মানুষটা বিশ্বাস করে আল্লাহ তার কণ্ঠনালীর চেয়েও কাছে আছে, সে পুরো কষ্টটা কেদে কেদে আল্লাহর কাছে বলবে। কাদতে কাদতে এক সময় তার মনে হবে আল্লাহ সত্যি তার সাথে কথা বলছে। সে নামাজ পড়বে, নামাজে মনটা অন্যদিকে ফোকাস হয় বলে একটা সময় পাজর ভাঙা কান্না ফোপানো অভিমানে রূপ নেবে... ফোলা ঠোটে চোখের পানি নাকের পানি একাকার হয়ে জমবে, আর নামবে ঘুমের ঢল। ঘুম অর্ধেক কষ্ট এমনিই দূর করে দেয়। Allah is sooooooooooo cute!

৩. আমি কোন সংগঠন বা প্রজেক্ট টিমের লীডার হলাম। ধর্মকে আকড়ে ধরে থাকলে আমি দুটো জিনিস সবসময় মানব -
- আমার কাজটায় আল্লাহ কোনভাবে বেজার হচ্ছে কিনা। (like আমি মিটিং এ দেরি করে আসলে আল্লাহর ভাল্লাগবেনা। আমি সবার মতের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখালে আল্লাহ পছন্দ করবেনা, ইত্যাদি।)
- মনে মনে বলব, 'আল্লাহ! তুমি ছাড়া আর কারো প্রশংসায় পাত্তা দেইনা, তুমি ছাড়া আর কারো সমালোচনায় ভয় পাইনা'
এতে করে আমার decision নেয়া এবং তাতে strict থাকা অনেক সহজ হয়ে যাবে।

৪. শুধু এসব ঘুরানো প্যাচানো অস্পষ্ট ব্যাপার না। Allah gives direct order! তুমি বিয়ের পাত্রী পছন্দ করতে পারছনা, say ishtikhara prayer. তুমি উত্তর পেয়ে যাবা। এইটুকু পড়ে যারা মুখ বেকিয়ে হাসছেন, তারা নিজেরাই চেষ্টা করে দেখবেন। আমার কথা বিশ্বাস করার কোন দরকার নেই। আমার নিজের এবং পরিচিত মানুষের ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে।

যাই হোক, all i wanted to say is ধর্ম মানে নামাজ দাড়ি টুপি না। ধর্ম মানে জানা, প্রয়োগ করা। যারা ধর্মকে অস্বীকার করে তারা কিন্তু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তারপর এটাকে বাতিল বলে ফেলে দেয়নি। they just didn't care enough to think about it. একবার কোন মতে আল্লাহকে close friend বানায় ফেল, মনে মনে বল, i love you Allah! তখন নামাজ, হিজাব... এসবের মাহাত্ম্য নিজে থেকেই পরিষ্কার হয়ে আসবে। জোর করে কি ঠান্ডা পানি দিয়ে ওজু করে সকালের ঘুম মাটি করানো যায়? আল্লাহ খুব কাছের বন্ধু হয়ে গেলে বাকিসব এমনিই হয়ে যায়। 

আমি ভাল মানুষ চিনতে পারি, কিছুক্ষণ কথা বললেই আমি ধরে ফেলতে পারি মানুষটা কেমন


এই কথাটা কে কতবার শুনেছেন বা মনে মনে ভেবেছেন বলুন ত? ভাল মানুষ চিনতে পারা বেশ একটা বড় গুণ হিসেবে ধরা হয়। আমার নিজের, এবং আশপাশের অনেক মানুষের মধ্যেই এই ব্যাপার টা নিয়ে একটা গর্ব থাকতে দেখেছি, উল্টোটাও হয়েছে, আমার গাধামো চোখে আঙুল দিয়ে দেখানোর জন্য অনেকবার অনেকেই বলতে বাধ্য হয়েছে, 'তুমি অনেক কিছুই বোঝনা, কোন কথার কী মানে ধরতে পারনা... অথবা - এত বড় একটা কথা বলে দিয়ে গেল... তুমি বুঝলাও না!' অন্যের কথা কী বলি, আমি নিজেই ত কতসময় বিজ্ঞের মত আত্মীয়স্বজনের একটা কথার আড়ালে তার মুখোশধারী আসল রূপ প্রায় টেনে বের করে দিবালোকের মত স্পষ্ট করে দেয়ার চেষ্টার রত ছিলাম!

হায় আল্লাহ! এই পুরো প্রক্রিয়াটা যে কত বড় অন্যায় আমরা কি কখনো সেভাবে চিন্তা করে দেখেছি? আমি ত আজকাল মনে প্রাণে ইসলাম কে সব মুশকিল আসান বলে ধরা শুরু করেছি। আমার চিন্তার ধরণগুলি এমন - যখনই কুরআন বা হাদীস এ পাই এই এই কাজগুলি আল্লাহর অপছন্দনীয়, আগে বিশ্বাস করে ফেলি যে কাজগুলি আসলে ভাল না, আমার বাদ দেয়া উচিৎ। তারপর অবসরে, আগে যে করতাম - সেই কাজগুলির কোথায় কী impact ছিল ধীরে ধীরে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। তাই আমি ব্যাখ্যা করার সময়ও আমার অতি সীমিত জ্ঞান দিয়ে আগে বলে নিব যে এটা একজন প্রকৃত মুসলিম এর বাদ দিলে ভাল হয়, তারপর সত্যিকারের জীবনে এর প্রভাব কতটুকু আলোচনা করার চেষ্টা করব। যারা আমার মত কানাই দাস হয়ে যান নি, অর্থাৎ যুক্তি দিয়ে ভাল মন্দ বিচার করেন, তারা স্বচ্ছন্দে প্রথম অংশটুকু বাদ দিতে পারেন।

আল্লাহ কুরআনে স্পষ্টভাবে বলেছেন, অদৃষ্টের জ্ঞান আমাদের দেয়া হয়নি, এর মধ্যে পড়ে ভবিষ্যদ্বাণী, রাশির মাধ্যমে কুম্ভ, কর্কট ইত্যাদি রাশির জাতকের সাধারণ বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি ইত্যাদি। একজন মানুষকে জন্মলগ্ন দিয়ে ভাগ করে যদি তার সারা জীবনের character define নিষিদ্ধ হয়ে থাকে, জন্মের অঞ্চলভেদে তাকে ভাগ করাটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত আমাকে কেউ বলবেন? খুব বড়জোড় চৌদ্দ গুষ্টির ইতিহাস ঘাটার একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করানো যায়, কারণ পরিবারে মানুষ যা দেখে আসে তার অনেক কিছুই তার মধ্যে রয়ে যায়। কিন্তু নোয়াখালি, বরিশাল, চাঁদপুর, ফরিদপুর এইসব?? এই দেশে আমাকে এশিয়ান ভেবে কেউ অন্য চোখে দেখলে খুব গায়ে লাগে। আমি নিজে কি সব বাংলাদেশী কে এক চোখে দেখেছি?

এটুকু পড়ে অনেকেই ভাবছেন, আমি এত mean minded না, আমার কাছে সবাই এক। বেশ! একবার চিন্তা করে দেখুন ত, আপনার কোন সহপাঠী কোন এক দুর্বল মুহুর্তে নিজের রূপ/মেধা/আর্থিক অবস্থা নিয়ে অহংকার করেছে, আপনি কি ভাবেন নি, 'ভাল অবস্থায় থাকলে সবারই দেমাগ বেড়ে যায়'? এক মুহুর্তের ছোট্ট একটা কাজ, তার আগের সব সুন্দর আচরণ কে মুছে দিল... যতবার তার কথা ভাববেন, ঐ একটা কথাই মনে পড়বে, 'হুহ! ভাল আছে ত, তাই আমাদের কে আর চিনে না'। বলুন ত, 'বগুড়ার লোক কিপ্টা হয়, আমি দুইজনের সাথে মিশছি দুইজনেই রাম চাউঠা' আর 'ওর যা দেমাগ... জান না একবার কী হইসে' - দুটোর মধ্যে কি কোন সামঞ্জস্য খুঁজে পাচ্ছেন?

রাসুলুল্লাহ (স) এর কাছে এক সাহাবী বলেছিলেন, 'আল্লাহর কসম, সে একজন মুনাফেক', রাসুলুল্লাহ (স) উত্তর দিয়েছেন, 'যতক্ষণ সে সালাত আদায় করে আমি তাকে আমাদের একজন ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারিনা।' রাসুলুল্লাহ (স) এই দাবি ঠিক না বেঠিক সেই তর্কেই যান নি। কারণ কে মনের মধ্যে কী এইসব ভাবার অবকাশ/অধিকার কোনটাই আমাদের নেই। এমনকি সালাত আদায় না করলেও বলা যাবেনা যে সে কাফের মুনাফিক ইত্যাদি ইত্যাদি.. বড়জোড় বলতে পার 'সে নামায পড়ে না'। অর্থাৎ যে কাজ আমি চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি কেবল সেটাই একটা screenshot এর মত তুলে ধরতে পারব, এর বাইরে এক ধাপ ও আগ বাড়িয়ে বিচার করার অধিকার আমাদের নেই।

this means generalization - categorizing the nature of a group of people based on common features OR deciding the character of a person based on his few acts are not permitted in islam.

একটা চমৎকার লাইন শুনেছিলাম, from Yaasir Fazaga's Self Image Psychology-
'we often fail to distinguish between the performance and the personality' - অর্থাৎ মানুষের একটা দুটো পদস্খলনকে প্রায়ই তার চরিত্রের সাথে গুলিয়ে ফেলি। কত সহজে আমরা বলে ফেলি, সে মিথ্যে কথা বলে; অথচ একবার মিথ্যের বিপরীতে হয়ত সে লক্ষ টা সত্যি কথা বলে, আমরা মনেও রাখি না। যদি ধরতে পার মিথ্যে বলছে, জানতে চাও কারণটা কী, বোঝাও সত্যি বলেও কীভাবে পার পাওয়া যায়, গলায় একটা মিথ্যেবাদীর tag ঝুলিয়ে দিয়ে কি আমরা আরো বড় মিথ্যাচার করছি না?

যাই হোক, generalization যে শুধু খারাপ বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য তা কিন্তু না। আমরা মানুষকে একটু ভালবাসলে তাকে ফেরেশতার পর্যায়ে উন্নীত করে ফেলি। মাঝে মধ্যে আমার ড: জাফর ইকবাল এর জন্য খুব মায়া হয়। তিনি আমাদের প্রজন্মকে স্বপ্নের কথা শোনান, গণিত ভীতি কাটিয়ে ওঠার জন্য পথ দেখান, এরকম আরো অসংখ্য ভাল কাজ করেন, কিন্তু তাই বলে বিজ্ঞানের জগতে তার মৌলিক অবদান কী, ধর্ম সম্পর্কে তার বিশ্বাস কী, হিন্দি গানে তাল দেয়া তার সাথে যায় কি যায় না - সব কিছু আমাদের কাটা ছেড়া করতে হবে? অনেক ছেলেমেয়েই বাবা মায়ের কোন খুঁত থাকবে এটা মেনে নিতে পারেনা। তাহলে কি ব্যাপারটা এমন, সন্তান হওয়ার সাথে সাথে তোমার আমার মত সাধারণ মানুষ হুট করে ফেরেশতা হয়ে যাবে?

মানুষ সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা অনেকটা এরকম - প্রথম তার সাথে মেশার এক দুই দিনের মধ্যেই তাকে আমরা নিজেদের আন্দাজমত ওজন করে ফেলি, এক কথায় তার স্বভাব চরিত্র, কোন কথায় কী মিন করে ইত্যাদি ইত্যাদি সব বুঝে ফেলি। বাকি দিনগুলি চলে সেই পাল্লায় চড়িয়ে বেশ একটা আত্মশ্লাঘা অনুভব করা - হু হু! কি, বলেছিলাম না? মানুষ চিনতে আমার ভুল হয়না.... আর যদি হিসেব টা ঠিক মত না মিলে তখন ভাবি - এই কাজটা ত তার সাথে যায় না! কত বড় হিপোক্রেট দেখেছ? বাইরে কী, আর একটু বেশি মিশলে আসল চেহারা বের হয়।

অথচ ব্যাপারটা কি এমন হতে পারত না, একজন নতুন মানুষকে চিনব, পুরোপুরি খোলা মনে গ্রহণ করব, আমার স্বভাবের সাথে মিলে গেলে খূশিতে আটখানা হব - গল্প করার অনেক কিছু পাওয়া গেল... আর যদি না মিলে, যদি হয় একটু গপ্পিবাজ অথবা রাশভারি - তখন তাল না কাটে এমনভাবে কাছে আসব। এমনকি কাছের মানুষ অচেনা হয়ে গেলেও ভাবব এটা একটা সাময়িক স্খলন - জীবনের এতগুলো ধাপ প্রবৃত্তির সাথে লড়াই করে স্বাধীন ছিল, এক মুহুর্তের জন্য না হয় মনের পশুটাকে দমাতে সমর্থ হয়নি, তাই বলে কি এই একটা অপ্রিয় মুহুর্তই নক্ষত্র হয়ে থাকবে, বাকি আর সব কিছু মিছে হয়ে যাবে? কেন আমরা আমাদের নিজেদের judgment এর উপর এত বেশি ভরসা করে থাকি, কেন ভাবি, ডুবোপাহাড়ের অল্পেকটু চুড়াটা দেখেই তলার সবটুকু আবিষ্কার করতে পারার জ্ঞান বুদ্ধি আমাদের আছে? আশপাশের মানুষগুলিও ত ঠিক আমাদের মত করেই ভাবে। তারা কি আরকটু বেশি শ্রদ্ধা, আরেকটু বেশি সহানুভূতি আশা করতে পারেনা?

এত বড় নোটের বটম লাইন এটাই - please don't be so harsh on judging others' faults. যে দোষ চোখে দেখা যায়, সেটাকে উপেক্ষাও করা যায়, যে আচরণ হৃদয়ে আঁচড় কাটে, ক্ষমা এবং ভালবাসাই পারে সেই ক্ষততে মোলায়েম নরম আঙুল ছোঁয়াতে।

আল্লাহ! ওটি আবার কী বস্তু?


দোস্ত, তোর প্রশ্নের উত্তর ভাবতে ভাবতে গতকাল ঘুমাতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। (আমার এক বান্ধবীর কাছে জানতে চেয়েছিলাম আল্লাহ সম্পর্কে তার ধারণা কী? সেও তিনদিন ধরে ভেবে কূলকিনারা করতে পারেনি।) ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চমৎকার কিছু কথা মাথায় এসেছিল, এখন কতটুকু লিখতে পারব কে জানে!

প্রথমেই বলে রাখি, আল্লাহ পুরোপুরি আমার নিজস্ব সম্পত্তি। আল্লাহ কেবল আমার। আল্লাহ আমার, আমার এবং পুরোপুরি আমি ছাড়া আর কোন কিছু নিয়ে আল্লাহর কোন মাথাব্যথা আছে এটা আমি ভাবতে চাইনা। আমরা সিজদায় যে 'সুবহানা রাব্বিআল আলা' বলি এর মানে কী জানিস? Glory be to MY lord, the most high. আমার আল্লাহ, যিনি সবচাইতে উপরে, সব কিছুর উপরে - আমি তার প্রশংসা করি। এবার চিন্তা করে দ্যাখ, আমরা জামাতে নামায পড়ছি, একসাথে রুকু সিজদা, ঘাড় ঘোরানো - সব এক, অথচ বলছি আমার আল্লাহ, আমাদের আল্লাহ না! কারণ টা কী?

উত্তরটা দেখি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয় কিনা!

আল্লাহ আমার সাথে কথা বলার জন্য যে একটা বই বানিয়েছে - সেখানে সে আমার বোঝার সুবিধার জন্য তার বেশকিছু স্বভাব চরিত্র লিখে রেখেছে, যাতে আমি বুঝতে পারি তার সাথে আমার সম্পর্ক টা কী, ধর, একজন বয়স্ক ভদ্রমহিলা, তিনি আমার নানী হলে যে রকম আহ্লাদ করব, স্কুলের হেড মিস্ট্রেস হলে ত সেরকম করব না। আল্লাহর সাথে আমার সম্পর্ক টা unique, এবং অনেক রকম শাখা প্রশাখা ছড়ানো, আমি বুঝতে ভুল করে ফেলতে পারি, তাই সে পরিষ্কার বলে দিয়েছে তুমি আমার থেকে এটা এটা এটা আশা করতে পার। চল্ কয়েকটা আলোচনা করি।

আল্লাহ নাকি আমার creator. তাই নাকি? ও আচ্ছা, থ্যাংক ইউ। কিন্তু মানে কী কথাটার? আচ্ছা বুঝলাম কোন ভাবে আমাকে বানিয়েছে, ত আমি কী করব? এই বার ভেবে দ্যাখ, তোর একটা ছোট্ট কুকুর ছানা আছে, সে তোর চোখের সামনে বড় হল, তোর বাসার সবাইকে চিনল, তুই ওকে ফ্রিজবি খেলা শিখালি, বাথরুম করা শিখালি, চার পাঁচ বছর তুই তাকে পাললি, তার আগা টু গোড়া সব তোর চেনা হয়ে যাবে না? এমনকি লেজ নাড়ালেও তুই বুঝে যাবি না সে কী বলতে চায়? মায়েরা পাগলের মত দিন নাই রাত নাই ছোট বাচ্চা নিয়ে পড়ে থাকে, টিন এজ আসতে আসতে সেই বাচ্চার প্রতিটা মুভমেন্ট তার মুখস্ত হয়ে যায় না? আল্লাহ আমাকে বার বার বলেছে আমি তোমার সব তৈরি করেছি, আমার চিন্তা, ইন্টেলেক্ট, কথা বলার ধরণ - সব সে নিজে বানিয়েছে, তারপর বানিয়ে রাস্তার মধ্যে ছেড়ে দিয়ে চলে যায় নাই, আমাকে নাকি পালছেও। তাইলে সে আমাকে কীরকম ভাল মত চিনে! আর আমার জন্য তার স্নেহ কী রকম উপচায় পড়ার কথা!

আরেক ভাবে চিন্তা কর, বাইরে কাজ করতে গেলি, তোর সুপারভাইজর/কলিগ/টিচার - কেউ একজন তোকে অপমান করতে করতে মাটির সাথে মিশায় দিল, তখন মনে হয়না, এক ছুটে বাসায় চলে যাই? গোল পাকায় গুটি সুটি মেরে মায়ের (অথবা বয়ফ্রেণ্ড) এর বুকের মধ্যে ঢুকে যাই? আমার মা চাদর দিয়ে পেঁচায়, গালের মধ্যে মুখ ঠেকায় বলবে "কেউ না জানুক, আমি ত জানি তুমি কত precious, তুমি কত ভাল, কত সুন্দর। তোমার মত আর কেউ নাই। YOU ARE SPECIAL TO ME, YOU ARE SPECIAL, YOU ARE UNIQUE." কত ভাল্লাগবে তখন? সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে না? মনে হবে না? আমার আর কিছু দরকার নাই, আমার মা আছে, আমার মা কখনো মিথ্যা বলে না...
আল্লাহ আমাকে আমি জন্মানোর ও আগে বইতে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে, আর কাউকে না পেলেও আমি আছি। আমি নিজে তোমাকে তৈরি করেছি, তোমাকে যে জ্ঞান, চরিত্র, পারিপার্শ্বিকতা দিয়ে বড় করেছি সেখানে তোমার সমকক্ষ আর কেউ নেই। তুমি আমার কাছে unique, আমি অনেক আশা নিয়ে তোমাকে তৈরি করেছি, আমি জানি তোমার potential কোথায়, তুমি হতাশ হয়ো না! তোমার মত আর কেউ নাই, তুমি হারায় গেলে কীভাবে হবে? তোমার জায়গা ত আর কেউ নিতে পারবে না!

আবার ভেবে দ্যাখ, ছোট বেলা বাইরে খেলতে গিয়ে নতুন জুতা টা ছিড়ে আসলি, বড় বেলায় লোভ সামলাতে না পেরে টাকা চুরি করে বসলি, অথবা অসতর্ক হয়ে এক্সিডেন্ট এ একটা মানুষকেই মেরে বসলি। কত অনুতপ্ত লাগতে থাকে, মনের মধ্যে কেউ বলতে থাকেনা, আমি আসলে এরকম না, একবার হয়ে গেছে, আর হবে না। বিশ্বাস কর! কেউ বিশ্বাস করুক না করুক, আল্লাহ কিন্তু ঠিকই বলবে, থাক, কিছু হবে না, আর কখনো কর না, কেমন? তারপর তুই একই ভুল আরো দশ বারো বার করলি, ইচ্ছা করে যে, তা না, কেমনে কেমনে যেন হয়ে যায়, তুই চেষ্টা করছিস, কিন্তু পারছিস না - দুনিয়া কোন চীজ আছে যে তার পরেও তোকে বিশ্বাস করবে? আল্লাহ করবে। আল্লাহ বলেই রেখেছে Allah is the most forgiving and most patient!

তারপর আছে সে প্রতিশোধ গ্রহণকারী এবং সূক্ষ্ম ন্যায় বিচারক। শুনলেই ত বুকে কাঁপাকাঁপি লেগে যায়। কিন্তু ব্যাপারটা যে উল্টা দিক থেকেও সত্যি এটা কি খেয়াল করেছিস? তোর সাথে অন্যায় হলে এর প্রতিশোধ আল্লাহ নিবে, তোর শুধু শুধু জ্বলে পুড়ে খাক হওয়ার কোন দরকার নাই। তার ন্যায় বিচার এমনই সূক্ষ্ম যে তোর কোন সূক্ষ্ম কষ্টের বিচার করতে সে বাদ রাখবে না। তাহলে কেন বাপু মিছেমিছি এসব নিয়ে মাথা ঘামানো? আরো কত ভাল ভাল কাজে বুদ্ধি খরচ করা যায়!

সে সবজান্তা। এর মানে সে যে খালি আমার ability টাই জানে তা না। সে ভুত ভবিষ্যত, সম্ভব অসম্ভব সব জানে। ধর তুই তোর অনার্স এর সাবজেক্ট ঠিক করতে চাস, অথবা একটা বিজনেস এর চিন্তা ভাবনা করছিস, অথবা নতুন কোন পরিবারে আত্মীয়তা করতে আগ্রহী। তুই জানিস না কী করতে হবে, তোর আশপাশের মানুষরাও তত ভাল জানেনা। আসলে ভবিষ্যতে কী হবে এইটা ত পুরাপুরি জানা সম্ভব ও না। কিন্তু আল্লাহ বলেছে সে নাকি সব জানে। তাহলে তাকেই জিজ্ঞাসা করি! ঝটপট দুই রাকাত ইশতেখারা নামায পড়ে ফেল। ইশতেখারা করা মানে পরামর্শ চাওয়া অনুমতি চাওয়া। ধর, তোর ছোট কেউ তোকে কোন কলেজ এ পড়বে জিজ্ঞাসা করল, তোর কতটা honored লাগবে না? তোর সাধ্যের মধ্যে যা আছে তা্র সবটুকু করতে ইচ্ছা করবে না? অন্যদিকে আল্লাহ ত সব জানেই প্লাস সে সব কাজের অনুমতি ও দেয়। তুই অনুমতি চাইলে উনি খূশি হবে, তোর জন্য ভাল হলে কাজটা অনেক সহজ করে দিবে, খারাপ হইলে হইতে দিবে না, এমনকি স্বপ্নেও জানায় দিতে পারে।

আল্লাহর আরো অনেক গুণ আছে, সবগুলি ত ভালমত বুঝিও না। তবে একটা গুণ মনে দাগ কেটে গেছে। He is the beginning and He is the end. আমার জীবন শুরুর অনেক আগে থেকেই সে আমার জন্য সব ঠিকঠাক করে রেখেছে, আমার জীবন শেষ হয়ে গেলেও তার সাথে আমার সম্পর্ক শেষ হবেনা। সে ত আর মরবে না! অতএব আমার কথা তার মনে থাকবে। একই ভাবে, কোন কাজ, কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় - At the beginning, He will be the one to be remembered - এর মানে খালি বিসমিল্লাহ বলে ঝাপায় পড়লাম তা না, কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আল্লাহর সাথে আমার সম্পর্কে কী প্রভাব পড়বে সেটা চিন্তা করতে হবে। যদি দেখি যে এই মন্তব্য টা করলে বা এই মুভি টা দেখলে আল্লাহ খুশি হওয়ার কোন বিশেষ কারণ নাই, তাহলে সেটা থেকে দূরে থাকতে হবে। একই ভাবে, কোন কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকৃত ফল টা আল্লাহর থেকে আশা করতে হবে। আমি ভাল ভাল নোট লিখলাম, আর মানুষ ধুমায়া গালিগালাজ করল, সেই জন্য গাল ফুলায় আর তাগো লগে কথাই কইলাম না - এরকম করলে ঠিক হবে না। আমি রান্না বান্না বিশেষ পারি না, কিন্তু প্রায়ই সিদ্দিকা কবীর এর বই দেখে এক ঘন্টার রান্না ছয় ঘন্টা ধরে করে ছেলেপেলেদের খেয়ে যেতে বলি। এই আশায় না যে এর পরের দিন ওরা আমার হয়ে বাজার করে দিয়ে যাবে, অথবা আরেক বেলা সে আমারে খাওয়াবে। আল্লাহ যদি একটু আধটু খুশি হয় এই আশায়।

যাই হোক, আল্লাহ অন্যের কাছে কী জানি না, আল্লাহ আমার জন্য এমন। আল্লাহ আমার খুব প্রিয়। সে আমার জন্য কী কী করে আমি মাঝে মধ্যে টের পাই, তখন চোখে পানি চলে আসে। তোদের ও নাকি আল্লাহ আছে? তোদের আল্লাহ মনে হয় আমার আল্লাহর মত এত ভাল না, তাই না?

আলহামদুলিল্লাহ শব্দের অর্থ


আলহামদুলিল্লাহ মানে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। যারা ধার্মিক তারা এই শব্দগুলো ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কোন প্রশংসা করা হলে থ্যাংক ইউ এর বদলে আলহামদুলিল্লাহ বলা হয়। এর পেছনের আইডিয়াটা হচ্ছে, আমি এই প্রশংসার সবটুকু আল্লাহ কে দিয়ে দিচ্ছি। আমাকে যা তুমি বললে, তার দাবিদার আমি না, আল্লাহ, যিনি এই মেধা, এই অবস্থানে আমাকে রেখেছেন এই প্রশংসিত কাজটুকু সম্পাদন করার জন্য। 

প্রশংসা করলে উত্তরে একটা দু'আ পড়তে হয়। 

"হে আল্লাহ! আমার সম্পর্কে ওরা যা বলেছে তার জন্য আমাকে তুমি প্রশ্ন করনা। তুমি আমাকে তাদের ধারণার চেয়েও উত্তম করে দাও আর আমার সম্পর্কে তারা যা জানে না, সে বিষয়ে তুমি আমাকে ক্ষমা কর।"

এই দু'আর প্রথম অংশ টা বেশ লক্ষণীয়। এখানে আল্লাহর কাছে আর্জি জানানো হচ্ছে যে ওদের করা প্রশংসার জন্য আমাকে যেন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে না হয়। তাদের প্রশংসা তারা করেছে, এইখানে আমাকে প্রশ্নের ব্যাপারটা আসছে কোথা থেকে? আসছে এখানেই যখন আমরা একটা প্রশংসা শুনে তা গ্রহণ করব, বা উত্তরে সম্মতিসূচক বা ধন্যবাদ সূচক কিছু বলব, তার অর্থ আমি কিছুটা হলেও ধরে নিয়েছি যে এই প্রশংসা আমার প্রাপ্য। অথচ কুরআনের প্রথম সুরার প্রথম আয়াত ই হচ্ছে 'সমস্ত' প্রশংসা 'কেবল' আল্লাহর প্রাপ্য। প্রশংসা গ্রহণ করার মাধ্যমে আমরা কুরআনের সর্বপ্রথম মেসেজ কেই অস্বীকার করছি। আল্লাহ এবং রাসুল (স) সবসময়ই সতর্ক করে দিয়েছেন যে আল্লাহ আমাদের অন্তরের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন। স্মিত হেসে ধন্যবাদ জানালে তার অন্তর্নিহিত অর্থ আল্লাহ খুব ভালভাবেই ধরতে পারেন।

এর সূত্র ধরে আরেকটা ব্যাপারে আলোকপাত করা যায়। যে আমাকে প্রশংসা করছে, সে আমার জন্য আসলে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাড়ানোর আরেকটা কারণ তৈরি করে দিচ্ছে। অর্থাৎ একভাবে ধরতে গেলে সে আমার সুহৃদ না, বরং আমার বিচারকাজ কে আরো কঠোর করে তুলছে। 

উমর (রা) এর একটা কাহিনী মনে পড়ে গেল। রাসুলুল্লাহ (স) মারা যাওয়ার আগে নাকি মুনাফেক দের একটা তালিকা করে উনার স্ত্রীর কাছে (কার কাছে মনে নাই) রেখে গিয়েছিলেন। উমর (রা) তাঁর কাছে গিয়ে কসম খেয়ে জানতে চেয়েছেন, এই তালিকায় উনার নাম আছে কিনা। সুবহানাল্লাহ! উমর (রা) হলেন রাসুলুল্লাহ (স) এর নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত জান্নাত বাসীদের মধ্যে একজন। উনি সেই কথা ধরে বসে থাকা ত দূরে থাক, মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে ছিলেন যে তিনি মুনাফিক দের একজন! এই হচ্ছে প্রকৃত মুসলিমের বৈশিষ্ট্য। প্রশংসা, সেটা যার থেকেই আসুক না কেন, তাকে মনের কোথাও তাঁরা জায়গা দেয়ার কথা চিন্তায়ও আনেন না। 

রাসুলুল্লাহ (সা) সারারাত নামায পড়তে পড়তে পা ফুলিয়ে ফেলতেন। আয়িশা (রা) উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি আল্লাহর সবচাইতে অনুগ্রহপ্রাপ্ত, আপনি কোন দোষ করেন না, তারপরেও এত ক্ষমা চান কেন? (আমি আবারও হাদীস টা ঠিক মত বলতে পারলাম না) উনি রেগে গিয়ে বলেছিলেন, আমার কি উচিৎ না এই অনুগ্রহের জন্য শুকরিয়া আদায় করা? 

প্রকৃত মুসলিমরা যে যত প্রশংসার যোগ্য, এই প্রশংসার ঝুলি কে তারা তত বড় বোঝা বলে মনে করেছেন। কারণ সম্পদ, সন্তান এর মত এটাও আল্লাহর একটা অনুগ্রহ, একই সাথে তার কৃতজ্ঞতাবোধের একটা পরীক্ষা। আমাদের ইগো এত বেশি, হালকা পাতলা একটা কাজ করে এপ্রিসিয়েশন না পেলে ভাবি কিসের জন্য আর করব? প্রশংসা পেলে সেই মানুষটার উপর বেশ খুশি হয়ে যাই (এই প্রতিক্রিয়াটাই  অনেক কে চাটুকারিতা করতে উৎসাহ দেয়) আরেকটা ভয়াবহ সাইড ইফেক্ট হচ্ছে, আমরা মুখে বলি আলহামদুলিল্লাহ, কিন্তু মনে মনে নিজের পিঠ চাপড়াই। এটা ভয়াবহ এই জন্য যে, কোন ফাকে সমস্ত প্রশংসার ৯৫% আল্লাহ কে দিয়ে বাকি ৫% এ নিজেকে শরীক করে ফেলছি টেরও পাচ্ছিনা। অথচ শিরক এর মূল কথাটা যেন কী? :-)

যাই হোক। উপরে যে দু'আ টা লিখেছি তার দ্বিতীয় অংশটাও বেশ গুরূত্বপূর্ণ। আমার সম্পর্কে তারা যা জানে না সে বিষয়ে আমাকে তুমি ক্ষমা কর। এখানে যা জানে না বলতে আমার দোষ এর কথা বলা হয়েছে। আমরা অনেকেই নিজের বিনয় প্রকাশ করতে গিয়ে নিজের অক্ষমতা বা দোষগুলি মানুষকে বলি। সত্যি কথা, নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করতে পারার মত সাহস ও উদারতা খুব কম মানুষই দেখাতে পারে। কিন্তু ওই যে, ইসলাম মধ্যপন্থার অনুসারী... সেলফ প্রেইজ বা সেলফ হিউমিলিয়েশন - দুটো এক্সট্রিম এর কোনটাই করা যাবেনা। স্পষ্ট হাদীস আছে,  অপরাধ করলে গোপনে আল্লাহর কাছে একান্তভাবে ক্ষমা চাও, কারও কাছে প্রকাশ কর না। কারণ যে দোষ আল্লাহ নিজে গোপন রেখেছেন বান্দা তা প্রকাশ করলে আল্লাহ পছন্দ করেন না। 

অনেক সেলিব্রিটি ছাত্রজীবনের নানা দৌরাত্মের কথা খুব মজা করে বলেন... এতে করে কিন্তু অন্য একজন উৎসাহিত হতে পারে। আমি এখনও মার্ক টোয়েনের সেই উক্তির জাল ছিড়ে বের হতে পারিনি, বই ধার করে জোগাড় করেছি, শেলফ ত আর সেভাবে জোগাড় করা যায়না - এই ছোট্ট একটা উক্তি গত ১৭-১৮ বছরে আমাকে বহু আমানতের খিয়ানত করতে উৎসাহ দিয়েছে। আল্লাহ আমাকে সহ সব অত্যুৎসাহী পাঠকদের ক্ষমা করুন। 

নিজের দোষ প্রকাশ করা কেও এক ধরনের গীবত এর অন্তর্গত ধরা হয়। কারণ আমার আত্মা, আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আল্লাহর নির্দেশে কিছুদিনের জন্য আমি ব্যবহার করছি। আমি এদের সম্পর্কে বাজে কথা বলার যোগ্যতা রাখিনা। একটা কথা ঘুরে ফিরে বার বার আসে, কোনকিছুই গ্র্যান্টেড ধরে নিওনা। আমার বাবা মা, আমার চাকরি, আমার আয়ু, আমার ইন্টারনেটের স্পিড, আমার পিএইচডির থিসিস, আমার মাথার চুল - কিচ্ছু না! যা পাই, সব আলহামদুলিল্লাহ! যা থেকে গা বাঁচায় চলি, তাও আলহামদুলিল্লাহ। 

উপরের একটা লাইন ও আমার মাথা থেকে বের হয় নাই। দুইটা লিংক দিচ্ছি, নিজেকে শোধরানোর জন্য সোর্স খুঁজলে এগুলো সাহায্য করতে পারে।


ওয়াইলুল লি কুল লি হুমাযাতিল লুমাযাহ


সূরা হুমাযাহ এর প্রথম লাইন। এর মধ্যে বেশ একটা ছন্দ আছে, আমার খুব ভাল লাগত, তাই কবিতার লাইনের মত আওড়াতাম - মানে সম্পর্কে কোন ধারণাই না রেখে। সেদিন একজনের মুখে শুনলাম হুমাযাহ আর লুমাযাহ এই শব্দ দুটি দিয়ে নাকি ২৩ ধরণের আচার আচরণকে নির্দেশ করা হয়েছে। তাফসিরটা শুনলাম, ভয় খেলাম, যথারীতি আরো একবার মানুষের কাজকর্মের ব্যাপারে আল্লাহর জ্ঞান দেখে মুগ্ধ হলাম।

প্রেক্ষাপট:

সূরা হুমাযাহ হচ্ছে কুরআনের শেষ পারার প্রায় শেষের দিকের একটা সূরা। ধারাবাহিকতার দিক থেকে এই সূরার বেশ একটা তাৎপর্য আছে। আল্লাহ জানেন কুরআনের শেষ পারার মিনি সূরাগুলিই বেশি মানুষ শিখবে আর পড়বে, তাই অল্প ছোট্ট ছোট্ট লাইনে বিপুল মেসেজ দেয়া আছে। বলা হয় তিন লাইন বিশিষ্ট সূরা আসর নাকি একজন মুসলিমের জীবনধারণের পক্ষে যথেষ্ট। আর শেষ পারার অর্থ পড়লে দেখবেন নিয়ম কানুনের চেয়ে এখানে স্পিরিচুয়ালিটির উপর বেশি জোর দেয়া হয়েছে। মানুষের কিছু অপছন্দনীয় স্বভাবের সমালোচনা করা হয়েছে এবং পরকালে তার শাস্তির বিবরণ দেয়া হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সূরা হচ্ছে হুমাযাহ; এখানে দোজখের সবচেয়ে ভয়াবহ রূপটা তুলে ধরা হয়েছে, পুরো কুরআনের আর কোথাও শাস্তিকে এত কঠিন করে বলা হয়নি। 

জানেন, সূরা হুমাযাহর বিষয়বস্তু কী? যারা বলেন কুরআন কল্পিত কিছু জায়গার বর্ণনা আর পুরানো গল্প রূপকথার সংকলন তারা একটু ধৈর্য ধরে পড়ে দেখেন।

পুরনো বান্ধবীর সাথে ফোনে কথা বলছি, অন্যরা কে কেমন আছে খোঁজ নিচ্ছি। চট করে ওপাশ থেকে বলে ফেলল, 'জানিস সিমির বিয়ে হয়েছে, জামাইটা দেখতে একদম সুন্দর না।' অথবা 'রিদিমা কীইইই মোটা হইসে দেখসিই্ইস......' অথবা 'আমার শাশুড়ির কাজকাম দেখলে মেজাজটা এমন খারাপ হয়..'. ছেলেদের বেলায় 'শাফিন কি এখনো ওই ১২,০০০ টাকার চাকরিই করে?' 'দুইদিন পরপর জিএফ চেঞ্জ করে কেন?' 'পোলাটার ভাবস মারা আর শেষ হইলনা।' 

আমার মনে হয় সবাই বুঝে গেছেন আমি কী বলতে চাচ্ছি। জ্বী। সূরা হুমাযাহ আপনাকে আমাকে নিয়েই কথা বলছে। এখন দু'একটা কমন রেসপন্স এর উত্তর দেই।

'বাহ! সে করতে পারবে আর আমি বলতে পারবনা?' 

- জ্বী না। সে কিছু করলেই পাড়ায় পাড়ায় বলে বেড়ানোর অধিকার আপনাকে কেউ দেয়নি। 

'আহা! পাড়ায় পাড়ায় বলব কেন? আমরা আমরাই ত, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করা যাবেনা?'

- যাবে! যাবে না কেন? আপনি চাইলে কে নিষেধ করেছে? মদ ও ্ খাওয়া যাবে, পরকীয়াও করা যাবে, মানুষ খুন ও করা যাবে। খালি শাস্তির চিন্তাটা মাথায় না থাকলেই হল।

'কী বল! এইগুলি ত অবভিয়াস, সবাই জানে, জানা জিনিস আমি বললেই কী আর না বললেই কী?'

- তাই? না বললে কিছু না? তাহলে কেন ভাই শুধু শুধু মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগসেন? আপনি দাবি করতে পারেন এই ছোট্ট কথাগুলি যে গীবত এইটা আপনার জানা ছিলনা। জানা আর না জানার মধ্যে পার্থক্য ত কেবল একটা স্টেটমেন্ট, তাই না? তা্হলে এখন বলি, জেনে নিন!

'তোমরা কি জান গীবত কী? গীবত হচ্ছে কারো অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা যা সাক্ষাতে বলা হলে সে অখুশি হত।' ইয়া রাসুলুল্লাহ, যদি তা সত্য হয়, তবুও? 'যদি সত্য হয় তাহলে ত তুমি তার গীবত করলে, আর মিথ্যা হলে তুমি তার নামে অপবাদ দিলে।' (বুখারী)

হুমাযাহ আর লুমাযাহ বলতে যদি খালি গীবতই বোঝাত, বেঁচে যেতাম। পড়তে থাকুন।

বাংলাদেশের আড্ডার প্রিয় উপকরণ হচ্ছে চা আর বিটলামী। হো হো হাসি চালায় যাওয়ার জন্য একেকজনকে টার্গেট করা হয়, তার মাথার টাক, কথার অ্যাক্সেন্ট, পেটের মেদ থেকে শুরু করে বারো-চোদ্দ বছর আগেকার অতীব লজ্জাস্কর ঘটনা পর্যন্ত তুলে হাসাহাসি করা হয়। বাই চান্স, কোন ভাবে, কোন কথায়, কারো কোন ফেসিয়াল এক্সপ্রেশনে যদি সে কষ্ট পেয়ে যায়, তাহলে বিদ্রুপকারীর জন্য তিন লেভেলে অভিশাপ আছে।
১. তার অভিশাপ, যে কষ্ট পেল
২. সে যদি অভিশাপ নাও দেয়, তার কষ্ট পাওয়াটা নিজেই একটা অভিশাপ
৩. সেই মানুষের হয়ে আল্লাহ বিদ্রুপকারীকে অভিশাপ দেন।

আল্লাহই যদি অভিশাপ দেয়, কাটাবো কার কাছে গিয়ে? ভয়াবহতা বা সিরিয়াসনেস এর দিক থেকে প্রথমে হচ্ছে নির্যাতিত ব্যক্তির দু'আ (যা আল্লাহ বাবা মায়ের দু'আর মতই গুরূত্ব দিয়ে গ্রহণ করেন), তার উপরে ফেরেশতাদের দু'আ, সবচেয়ে উপরে আল্লাহর দু'আ বা কমিটমেন্ট। হুমায বা লুমায এর শিকার সেই ব্যক্তির অপমানকে আল্লাহ নিজে অভিশপ্ত করার প্রয়োজন মনে করেছেন। 

তাহলে কি ফান করা বন্ধ করে দিতে হবে? না! তবে পচানো বন্ধ করে দিতে হবে, অথবা পচানোর এমন আর্ট আবিষ্কার করতে হবে যে পচানো হবে, কিন্তু কেউ পচবে না। 

মানুষের আরেকটা চমৎকার স্টাইল হচ্ছে খোঁচা দিয়ে চরম অপমানজনক একটা কথা বলা, কিন্তু এমনভাবে, যে রিঅ্যাক্ট করলে উল্টো হাসির পাত্র হতে হবে। বা যদি বুকে সাহস নিয়ে রিঅ্যাক্ট করেই ফেলা হয়, উড়ায় দিয়ে বলবে, 'আমি ত মজা করতেসিলাম, ফান ও বুঝিস না?' এই আচরণটা 'লুমায' শব্দের আন্ডারে পড়ে। যারা এই অসাধারণ শিল্পটাকে আয়ত্ত করেছেন, তাদেরকে আবারো মনে করিয়ে দেই, 'লুমায' এর মধ্যে শুধু দু'জন ব্যক্তি জড়িত না, আল্লাহও জড়িত। আল্লাহ খুব ভালভাবেই জানেন কোনটা নির্দোষ ফান আর কোনটা 'লুমায'।

গালি দেয়া 'লুমায', এমনকি যদি মিন করে নাও বলা হয়। ইউনিভার্সিটিতে রাশি রাশি গালি শিখেছি, এখন আর কাজে লাগাতে পারিনা, আফসোস্‌।

কেউ একজন একটা কথা খুব আগ্রহ নিয়ে বলল, সবাই মিলে সেটা হেসে উড়ায় দিল বা হালকা করে দিল, মানুষটা একটু দমে গেল, এটাও হুমায বা লুমায। কিছু কিছু মানুষের স্বভাবই আছে, সব কিছু নিয়ে হাসিঠাট্টা করবে, সবসময়। আবার কিছু মানুষ বলার সময় খুব মন দিয়ে শুনবে, ভালভাবে রেসপন্ড ও করবে। আড়ালে অন্যদের সাথে হাসির ফোয়ারা তুলবে। আড়ালে মানুষটার প্রতি যে অন্যায় করা হল তার প্রতিশোধ নিতে আল্লাহ নিজে তাদের জন্য আগুনের অভিশাপ দিয়েছেন। 

কথা বলার সময় একটা তাচ্ছিল্যের ভাব দেখানো হুমায বা লুমায। চোখ কুচকায় বিরক্তি সহকারে তাকানো, বা এমন ভাব করা যে কী ফালতু কথা বলছে - এটাও হুমায বা লুমায। 

দেশের বাইরে এসে যেটা প্রতিনিয়ত ফেস করতে হচ্ছে তা হচ্ছে পর্দা করা বা একটু ইসলামী জীবনাচরণ অভ্যাস করার কারণে মানুষের উপহাসের পাত্র হওয়া। দেশেও একই অবস্থা হত কোন সন্দেহ নেই। বেশির ভাগ মানুষেরই যেটা হয়, এইসব উপহাসগুলি তারা সহ্য করে খুব কাছের আত্মীয়স্বজন থেকে। অন্যদের দোষ দিব কী, আমিই ত কিছুদিন আগ পর্যন্ত তাই করতাম। ধর্ম পালন আর পলিটিক্স - এই দুটো বিষয় নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করাটাকে বোধহয় মানুষ তাদের জন্মগত অধিকার ধরে নিয়েছে। কাউকে 'হুজুর', 'মোল্লা', 'দাড়িয়াল ভন্ড' বা 'নিনজা' বলার আগে এই জিনিসটা চিন্তা করতে হবে, যে পোশাক বা আউটলুক নিয়ে তাকে ফাইজলামি করা হচ্ছে সেটা রাসুলুল্লাহ (স) এর পোশাক, ইসা (আ) এর মায়ের পোশাক। আল্লাহর প্রিয় এই মানুষগুলির অনুকরণীয় আচরণকে হাসি ঠাট্টা করে পার পেয়ে যাওয়ার খুব একটা অবকাশ নেই।

আরো অনেকগুলি ছোট ছোট আচরণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমার মনে হয় মানুষের সচেতনতা তৈরি করার জন্য এ ক'টাই যথেষ্ট। 


source:
Meaning of Sura Humazah  http://quran.com/104
Tafseer of Sura Humazah (Nouman Ali Khan)

দেশে ফেরা


দূরে বসে দেশ নিয়ে বুলি কপচানো সাজে না। প্রতি মাসে অন্তত একবার পরিচিত কেউ না কেউ জানতে চায়, তোমরা পড়াশুনা শেষে এইখানেই থাকবা না দেশে ব্যাক করবা? প্রথম প্রথম প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই উত্তর দিতাম, 'অবশ্যই অবশ্যই যাব।' পরে চিন্তা করে দেখলাম, এত শিওর হয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার আমি কে? আজকাল তাই সাথে একটা ইনশাল্লাহ যোগ করি।

আসার পর অসংখ্যবার নিজের মনে ওলটপালট করে দেখেছি, মন থেকে কেউ একজন বলে, দেশে গিয়ে করবা কী? বাবা মা কে বছরে একবার দেখে আসলেই ত হয়! বেশি টান লাগলে কিছু টাকা ডোনেট করে দিও... এখানে কত সুযোগ সুবিধা, দেশে ফিরে গেলে কিছুদিনের মধ্যেই আবার ফিরে আসতে মন চাইবে।

কথাগুলি খুব সত্যি, এমন কি আমি নিজের মন থেকে অগ্রাহ্যও করতে পারিনা। কে জানে, একটা সময় হয়ত আসলেও তাই করব! তারপরেও যখন মনে হয়, একদিকে নিজের ক্যারিয়ার, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অন্যদিকে মনের গভীরে গেড়ে থাকা আপন দেশ, পরিসরে এক হয়ে থাকার ইচ্ছা - দুটোর মধ্যে যে কোন একটা বেছে নিতে হবে - তখন নিজেকে খুব স্বার্থপর লাগে। 

একটা সময় পর্যন্ত আমার কাছে সত্যিকারের সাফল্য ছিল পিএইচডি, পাবলিকেশন, পোস্ট ডক ইত্যাদি। এতটা প্যাশন কাজ করত, তার জন্য আর সব কিছুকে (চরিত্রটা ছাড়া) ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিলাম। প্রথম যখন এডমিশন পেলাম, রনি কে মুখের উপর বলে দিলাম, তুমি যাও না যাও, আমি যাচ্ছি, ইট'স মাই ড্রিম, মাই লাইফ। মি, মাই, মাইন -- এই শব্দগুলি আমার মনে আসত খুব স্বাভাবিকভাবে, প্রতিদিন অসংখ্যবার। কেউ যদি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েও দিত আমি অহংকারী, আমি স্বার্থপর - বিশ্বাস করতাম না। ভাবতাম, এটুকু হওয়ার প্রয়োজন আছে। 

সেই দিনগুলিতে আমার জন্য শ্রেষ্ঠত্বের স্ট্যান্ডার্ড ছিলাম আমি নিজেই। বুঝতাম, প্রত্যেকটা মানুষই নিজের একটা অহমিকা নিয়ে থাকতে চায়। তাই যে কাজিনটা অল্প বয়সে বিয়ে করে লেখাপড়া থেকে দূরে আছে তার সাথে গিয়ে পড়াশুনা, এইম ইন লাইফ নিয়ে কথা বলতাম। যে পড়ার মধ্যে ডুবে অন্য কিছু নিয়ে মাথা না ঘামাত তাকে বলতাম সাহিত্য, গান এসবের কথা। উদ্দেশ্য একটাই, তাকে কোন না কোন ভাবে জানিয়ে দেয়া যে আমি ওর চেয়ে একটু বেশি উন্নত। 

গ্রামের আত্মীয়দের সাথে ভাল করে কথা বললে নিজের ভেতরেই মনে হত, আমি কত মহৎ। কাছের কোন বন্ধু কে তার খারাপ সময়ে স্বান্তনা দিতে পেরে মনে হত, উফ! আমি মানুষকে এ্ত ভালবাসি কেন? আমি আমি আমি আমি আমি.......... 

সত্যি কথা, আমি যে ভুল কিছু করছি সেটা আমার স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারতাম না। কারণ তখন আমার একমাত্র ধ্যান জ্ঞান ছিল ক্যারিয়ার। প্রতিদিনের প্রতিটা মুহূর্ত থাকবে ক্যারিয়ারের জন্য, আর এদিক ওদিক যাওয়া আসার পথে টুকরো টাকরা ভাল কাজ করব, just to make me feel better. 

একটা মানুষের জীবনের লক্ষ্য যখন এত সংকীর্ণ হয় তখন সে অবশ্যই তার লক্ষ্যের দিকে সফল হবে। তার জন্য পরিবারের মানুষগুলির অযত্ন হোক, কিচ্ছু যায় আসে না। একটা ছোট্ট কথায় ছোট্টবেলার বন্ধুর বুক চিরে যাক, ব্যাপার না। ভাড়া নিয়ে গন্ডগোল হলে রিকশাওলাকে ঝাড়ি দিতে গায়ে লাগেনা, কোন কিছু পছন্দ না হলে মুখের উপর বলে দিতে খারাপ লাগেনা, সে যেই হোক। 

সন্দেহ নেই, আমি যদি সেই আমিই থাকতাম, দেশে ফিরে যাওয়ার চিন্তা করতাম না।

আমি অপুর কাছে খুব কৃতজ্ঞ, সে আমাকে বলেছিল, তুই ক্যারিয়ার, পিএইচডি এইসব কিছুকে ছেড়ে দে। আরেকটু বড় পরিসরে চিন্তা কর। তুই সারাজীবন আর সব কিছু বাদ দিয়ে রিসার্চ করে গেলি, ultimately এটা তোর কী কাজে আসতেসে, বা দেশের মানুষ কতটুকু বেনিফিটেড হচ্ছে? ফ্যামিলির কথা বাদই দিলাম। বা আরেকটু পরের কথা চিন্তা কর, তুই নিশ্চয়ই বিশ্বাস করিস তোকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। তুই আল্লাহর সামনে কী নিয়ে দাঁড়াবি? 

That was the first time I started thinking about purpose. আমার অন্ধের মত পিএইচডির পেছনে ছোটার কারণ কী? কারণ এটা আমাকে একটা বাড়তি সম্মান দিবে। আমার বাবা মা খুব গর্ব করে মানুষের কাছে বলতে পারবে। আর কোন না কোন ভাবে entire humanity কে সাহায্য করা হবে। 

এই অল্প কয়েকটা জিনিসের মোহে আমি এত ডুবে ছিলাম যে আর সব কিছু ফেলনা হয়ে গিয়েছিল? আমি যদি পিএইচডির পাশাপাশি একটা সৎ, ভাল মানুষ হই সেটা ত আরো অনেক বেশি সম্মানের, আমার বাবা মা গর্ব করার আরো অনেক কিছু পাবে। আর হিউম্যানিটি কে সাহায্য? হাহ!

মুহুর্তে priority বদলে গেল। বুঝলাম, আল্লাহর দেয়া জ্ঞান বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে গবেষণা করার আগে আল্লাহর প্রতি আমার responsibility পালন করা উচিৎ। PhD শেষে দূরে অ্যাপ্লাই করার আগে ফ্যামিলির সাথে থাকতে পারব কিনা সেটা চিন্তা করা উচিৎ। আজীবন আরাম আয়েশের জন্য USA এর মাটি কামড়ায় পড়ে থাকার চেয়ে আমার দেশের হক পূরণ করা উচিৎ। 

দেশে গিয়ে কী করব? জানিনা। প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির টিচার হব, খুব বেশি হলে আই.সি.ডি.ডি.আর.বি তে ঢুকব। এখানে স্কলারশিপের টাকায় যা পাই তার তিন ভাগের এক ভাগ আয় করব। তাতে কি না খেয়ে মরে যাব? নাহয় আমার একটা এসএলআর ক্যামেরা থাকবে না। এর অর্ধেক টাকায় আমার আব্বুর তৈরি গ্রামের স্কুলে প্র্যাকটিকাল এর জিনিসপত্র কিনে ভরে দেয়া যায়। আর দুর্নীতি, যানজট, লোডশেডিং - আমি ত এগুলোর মধ্যেই বড় হয়েছি। আমার ছেলেমেয়েরা পারবে না? 

এখনও বন্ধুরা মেইল করে, তোকে খুব মিস্ করি। বোন মন খারাপ হলে ফোন করে। আম্মুর থেকে টুকরো টাকরা নানারকম পারিবারিক সমস্যার কথা শুনি। আমি কাছে থাকলে আমার যা আছে স...ব দিয়ে ওদের সাহায্য করার চেষ্টা করতাম (ভাব বাড়ানোর জন্য না, আল্লাহকে ভালবেসে।) গ্রামের আত্মীয় আমার বাসায় উঠে চিকিৎসা করাতে পারত। রিকশা থেকে নেমে রিকশাওলাকে বলতে পারতাম, আজকে আমার এখানে খেয়ে যান। এই কাজগুলি তেমন কঠিন না, মানুষের কাছে দাম খুব একটা বাড়বে না। কিন্তু আল্লাহর কাছে দাম হু হু করে বেড়ে যাবে। 

দেশে ফিরব নাকি? একদিকে আছে ফি-সপ্তাহে পার্টি, সেখানে নতুন নতুন শাড়ি পরে ক্যারিয়ার নিয়ে বড়ফাট্টাই, আরেকদিকে আছে দূ...র গ্রামে আমার দাদী, আশির মত বয়স, দেখলেই ফোকলা দাঁতে বলবে, জেমী নাকি? তা কির'ম আসিস? একটা শাল কিনে গায়ে জড়ায় দিলে মহা খুশি। 

in the end, what makes you really happy? have you ever asked yourself?