মৌমিতার প্রাণের বন্ধু আসমার মুখ ভার, চোখমুখ কাল, প্রায় কাঁদকাঁদ মুখ। মৌমিতা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। আসমা যে অফিসে কাজ করে সেখানে এক উচ্ছ্বল, উদার হৃদয়ের যুবককে মনে ধরে গেছে আসমার। কিন্তু প্রাণে ধরে কখনই সে কল্পনা করতে পারেনা, তাকে কারও পছন্দ হতে পারে। হবেই বা কী করে? গায়ের রং, শারীরিক গঠন - সব কিছু নিয়ে কি কম কথা শুনতে হয়েছে সারা জীবন? তাও যদি দাঁতগুলো একটু সুন্দর হত! আসমার ভুসো মাখানো মুখটাতে রঙের খেলা বোঝা যায়না, তবু মৌমিতা বুঝতে পারে ফেরেশতাসম সুন্দর মনের এই মেয়েটার মনে কত দুঃখ। কী বলবে বুঝতে পারেনা। আসমাই এক সময় মুখ খোলে -
'আমার মনে হয় কখনো বিয়ে হবে না রে!'
কেন?
কে বিয়ে করবে আমাকে?
কেন?
আমি কত কুচ্ছিত।
তুই কুচ্ছিত হলি কোন দিক দিয়ে?
ওমা! তোর কি চোখ নেই? আমার গায়ের রং দেখেছিস? চেহারা দেখেছিস? মানুষ হাসলে কত সুন্দর দেখায়... আমি হাসলে... কে বিয়ে করবে আমাকে?
কী সব যা তা বলিস? তোকে ভালবাসবে না যে ছেলে সে আসলে তোকে পাওয়ার যোগ্যই না!
ধ্যেৎ! শুরু হল তোর কথার খেলা।
আচ্ছা, ঠিক আছে। আগে বল, সৈকত ভাই তোর সাথে কথা বলে?
ম্... বলে ত!
সুন্দর করে?
হ্যা! ভালই ত, ভদ্র ব্যবহার।
আচ্ছা! তাহলে বল, তোর সাথে কথা বলার আগে ত উনাকে তোর চেহারা দেখতে হয়েছে, এমন ত না যে চোখ বন্ধ করে কথা বলেছে।
হ্যা, ত?
ত, উনি ত তোকে ঘৃণা করেন না। করেন?
ন্ না...
ত, চেহারার আকর্ষণের পর্যায়টা ত উনি পার হয়েই এসেছেন, তাই না?
হ্যা। তাতে কী?
মানুষ ত চেহারা দেখে প্রথম পরিচয়ে, তারপর ত চেহারাটা কেবলই মুখ চেনার জন্য। বাকিটা চেনাজানা ত হয় মনের চেহারা দিয়ে।
হু, কী বলতে চাচ্ছিস?
দ্যাখ, তুই খুব গভীর চিন্তা চেতনার একটা মেয়ে। তোর মনটা খুব স্বচ্ছ। যখন কথা বলিস, ফালতু কথা বলিস না, আন্তরিকতা নিয়ে, চিন্তাভাবনা করে কথা বলিস। এতদিন হয়ে গেল, কখনও তোকে হিংসা করতে দেখলাম না, কাউকে নিয়ে খারাপ কথা বলতে দেখলাম না... তোর চালচলন, পোশাক আশাকে সুরুচির পরিচয় পাওয়া যায়। তুই শুধু গাধার মত পড়াশুনাই করিস নি দিন রাত, অনেক দায়িত্ব নিতে শিখেছিস, যে কোন কাজ দিলে গুছিয়ে টিপটপ করে করে ফেলতে পারিস। বল্, আমি কোন মিথ্যা বলেছি?
তাহলে বল, সৈকত ভাই কি এতই অন্ধ যে এসব কিছুই উনার চোখে পড়বে না?
আমি জানি না...
তুই ত লুকিয়ে প্রেম করবি না, ভাল লাগলে বাসায় প্রস্তাব পাঠাতে বলবি। হলে হল, না হলে নাই।
তাও...
অ্যাই! তোর এসব ইয়ে বাদ দে ত! আমার কথাটা লিখে রাখ্, কোন মেয়েই তোর চেয়ে ভাল অপশন হতে পারে না।
পাম্প মারিস?
নাআআ... মানলাম তুই ডানাকাটা পরী না। ডানাকাটা পরী হলে কী হত? সৈকত ভাইয়ের চোখ ধাঁধাত, তারপর ভেতরটা বাইরের মত না হলে একসময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলত। আর এখন? তোকে যদি একবার কাছ থেকে চেনে, তারপর থেকে যতই চিনবে, ততই আরও বেশি মুগ্ধ হবে। There is no way anyone will like you less over time.
ইস্! তুই যে এসব কথা কোথায় পাস!!
মিথ্যা বলেছি? বললে আমার কান কেটে নিস, যা! >
'আমার মনে হয় কখনো বিয়ে হবে না রে!'
কেন?
কে বিয়ে করবে আমাকে?
কেন?
আমি কত কুচ্ছিত।
তুই কুচ্ছিত হলি কোন দিক দিয়ে?
ওমা! তোর কি চোখ নেই? আমার গায়ের রং দেখেছিস? চেহারা দেখেছিস? মানুষ হাসলে কত সুন্দর দেখায়... আমি হাসলে... কে বিয়ে করবে আমাকে?
কী সব যা তা বলিস? তোকে ভালবাসবে না যে ছেলে সে আসলে তোকে পাওয়ার যোগ্যই না!
ধ্যেৎ! শুরু হল তোর কথার খেলা।
আচ্ছা, ঠিক আছে। আগে বল, সৈকত ভাই তোর সাথে কথা বলে?
ম্... বলে ত!
সুন্দর করে?
হ্যা! ভালই ত, ভদ্র ব্যবহার।
আচ্ছা! তাহলে বল, তোর সাথে কথা বলার আগে ত উনাকে তোর চেহারা দেখতে হয়েছে, এমন ত না যে চোখ বন্ধ করে কথা বলেছে।
হ্যা, ত?
ত, উনি ত তোকে ঘৃণা করেন না। করেন?
ন্ না...
ত, চেহারার আকর্ষণের পর্যায়টা ত উনি পার হয়েই এসেছেন, তাই না?
হ্যা। তাতে কী?
মানুষ ত চেহারা দেখে প্রথম পরিচয়ে, তারপর ত চেহারাটা কেবলই মুখ চেনার জন্য। বাকিটা চেনাজানা ত হয় মনের চেহারা দিয়ে।
হু, কী বলতে চাচ্ছিস?
দ্যাখ, তুই খুব গভীর চিন্তা চেতনার একটা মেয়ে। তোর মনটা খুব স্বচ্ছ। যখন কথা বলিস, ফালতু কথা বলিস না, আন্তরিকতা নিয়ে, চিন্তাভাবনা করে কথা বলিস। এতদিন হয়ে গেল, কখনও তোকে হিংসা করতে দেখলাম না, কাউকে নিয়ে খারাপ কথা বলতে দেখলাম না... তোর চালচলন, পোশাক আশাকে সুরুচির পরিচয় পাওয়া যায়। তুই শুধু গাধার মত পড়াশুনাই করিস নি দিন রাত, অনেক দায়িত্ব নিতে শিখেছিস, যে কোন কাজ দিলে গুছিয়ে টিপটপ করে করে ফেলতে পারিস। বল্, আমি কোন মিথ্যা বলেছি?
তাহলে বল, সৈকত ভাই কি এতই অন্ধ যে এসব কিছুই উনার চোখে পড়বে না?
আমি জানি না...
তুই ত লুকিয়ে প্রেম করবি না, ভাল লাগলে বাসায় প্রস্তাব পাঠাতে বলবি। হলে হল, না হলে নাই।
তাও...
অ্যাই! তোর এসব ইয়ে বাদ দে ত! আমার কথাটা লিখে রাখ্, কোন মেয়েই তোর চেয়ে ভাল অপশন হতে পারে না।
পাম্প মারিস?
নাআআ... মানলাম তুই ডানাকাটা পরী না। ডানাকাটা পরী হলে কী হত? সৈকত ভাইয়ের চোখ ধাঁধাত, তারপর ভেতরটা বাইরের মত না হলে একসময় আগ্রহ হারিয়ে ফেলত। আর এখন? তোকে যদি একবার কাছ থেকে চেনে, তারপর থেকে যতই চিনবে, ততই আরও বেশি মুগ্ধ হবে। There is no way anyone will like you less over time.
ইস্! তুই যে এসব কথা কোথায় পাস!!
মিথ্যা বলেছি? বললে আমার কান কেটে নিস, যা! >