Wednesday, August 29, 2012

সেল্ফ এস্টিম পর্ব ৩: ক্রিটিক কে জানা

আগের দুটো পর্বে ক্রিটিক কে এবং আমরা কেন ক্রিটিক কে প্রশ্রয় দেই তা নিয়ে আলোচনা করেছি। ক্রিটিক কে প্রশ্রয় দেয়ার আরেকটা প্রচ্ছন্ন কারণ হচ্ছে, সে সবসময় আমাদের স্ট্যান্ডার্ডটাকে সর্বোচ্চ ধরে তার চেয়ে একটু কম হলেই বকাবকি শুরু করে। আমরা সেই বকুনি খেয়ে সচেতন হয়ে মাঝে মধ্যে যদি সে স্ট্যান্ডার্ড কে ছুঁতে পারি, তখন মনে খুব শান্তি হয়। ক্রিটিক আমাদের অবাস্তব পারফেকশনিস্ট হওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে পুঁজি করে অল্প অল্প করে সেল্ফ এস্টিমের বারোটা বাজায়। 


ক্রিটিক কে মোকাবেলা করার তাই প্রথম ধাপ, ক্রিটিক কে ভাল করে জানা, তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা। অনেক সময় এই চিন্তাগুলি বিদ্যুতের মত এক ঝলকে আসে আর মনে এত গভীর ছাপ রেখে যায়, যে আমরা বুঝেই উঠতে পারিনা এই চিন্তাটা আরোপিত। 


ক্রিটিক কে চিনতে হবে, বুঝতে হবে। কোন উদ্দেশ্যে সে কোন কথা বলে, সেটাও ভাল করে জানতে হবে। এর জন্য একটা ছোট্ট এক্সারসাইজ দিচ্ছি। শুধু পড়ে রেখে দিলে হবে না, খাতা কলমে বসে সত্যি সত্যি করতে হবে। 


এক দিনে সকাল থেকে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত আত্মধিক্কার টাইপ কী কী চিন্তা আসে ভাল করে খেয়াল করুন, তারপর কাগজে সময় দিয়ে লিখে রাখুন। যেমন, আমি যে বইটা থেকে পড়ছি, সেখানে একটা উদাহরণ আছে, ২৪বছর বয়সী এক স্কুল টিচারের একটা লিস্ট: 


১. সকাল ৮:১৫ প্রত্যেকটা দিন দেরি করে আসি, হেডমাস্টার আমাকে নিয়ে পুরাই হতাশ 

২. ৮:৪০ লেসন প্ল্যানের কী ছিরি! আল্লাহ! আমি এত্ত অলস কেন? 

৩. ৯:৩০ বাচ্চারা ত কিছুই শিখছে না... আমি করছিটা কী? 

৪. ৯:৪৫ টিফিন ব্রেকে বাচ্চাদের সাথে আমিনার মা কে না পাঠিয়ে জমিলাকে পাঠালাম কী বুঝে? জমিলা বাচ্চাদের হ্যান্ডেল করতে পারেনা এটা আমি জানিনা? 

৫. ১০:০০ আমি কীরকম টিচার? বাচ্চারা ত কিসুই শিখতেসেনা। 

৬. ১২:১৫ কলিগদের সাথে এরকম উজবুকের মত কমেন্ট করলাম? 

৭. ১২:২০ আমি এত্ত ছাগল কেন? 

৮. ২:২০ ক্লাশ ত না, পাগলা গারদ সামলালাম। আমি কবে ক্লাশ ম্যানেজ করা শিখব? 

৯. ২:৩৫ ছুটির পরে বাচ্চাদের কয়েকটা ড্রয়িং ওয়ালে ঝুলালে ত পারি! এরকম অগোছালো কেন আমি? 

১০. ৩:১০ পুরা ইডিয়টের মত গাড়িটা পার্ক করলাম, বাঁকা করে। 

১১. ৩.৪০ বাসার অবস্থাটা দেখ! নাইস হাউজকিপিং!! 


যত বেশি খেয়াল করবেন, তত ভাল লিখতে পারবেন। দিনে অন্তত দশবার ক্রিটিককে চিনে লিখতে পারলে নিজেকে বাহবা দিন। 


তারপর ঘুমাতে যাওয়ার আগে আরেকটা ছোট্ট কাজ করুন। কোন চিন্তাটা কোন উদ্দেশ্যে এসেছে সেটা লিখে ফেলুন। এই যেমন এই উদাহরণে ২,৩,৪,৫,৮,১০,১১ আপনার পারফর্মেন্স আরো ভাল করার হতে পারত - এই চিন্তা থেকে এসেছে (এই যেমন ৮ নম্বর পয়েন্টের ক্রিটিসিজম এর কারণে আপনি হয়ত একসময় অন্য টিচারদের সাথে ক্লাশ ম্যানেজ করা নিয়ে কথাবার্তা বলবেন।) ১,৬,৭, ৯ হচ্ছে মূলত আপনি যাতে কারো কোন মন্তব্যে আঘাত না পান, তার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা। যেমন ৬ আর ৭ এসেছে অন্যেরা কী বলবে সে ভয় থেকে। 


এভাবে ক্রিটিক কে তার উৎসের একেবারে মূল থেকে চেনা শুরু করলে লড়াই করা সহজ হয়ে যায়। 


Ref: Self Esteem by McKay and Fanning

No comments:

Post a Comment